সমকামী বিদ্বেষীদের কিছু প্রশ্ন নিয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক আলোচনা – পর্ব ১

যৌনতা মানুষেরই একটি স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। বয়ঃসন্ধিকালের পর মানুষ তার প্রবৃত্তি অনুযায়ী আকৃষ্ট হবেন অপর মানুষের প্রতি। তারই সম্মতি নিয়ে প্রেম অথবা যৌনতায় সে লিপ্ত হবে কী হবে না, তা নির্ধারণ করার দায়িত্ব তাদের দুজনেরই হবার কথা ছিল। কিন্তু এখানেই দেখা গিয়েছে যত সমস্যা। দেখা যায় বিষমকামী প্রেমকে সমাজ মেনে নিলেও সমকামী প্রেমে তার রয়েছে প্রবল আপত্তি। প্রকৃতিবিরুদ্ধ, সংস্কৃতিবিরুদ্ধ, মানসিক ভাবে বিকৃত, যৌন বিকৃত ছাড়াও লাগিয়ে দেওয়া হয় হাজার রকম তকমা। আসুন, তাদের এসব প্রশ্নগুলোকে কিছুটা বিজ্ঞান আর কিছুটা যুক্তির আলোকে পর্যবেক্ষণ করা যাক।

১) কখনো দেখেছেন মানুষ ছাড়া আর কোনো প্রাণীকে সমকামিতায় লিপ্ত হতে? সমকামিতা তো একটা প্রকৃতিবিরুদ্ধ ব্যাপার

এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক বিষয়, আমাদের অনেকেরই ধারণা সমকামিতা অন্য কোনো প্রাণীতে দেখা যায় না। অথচ গবেষকদের মতে সমকামিতা এখন পর্যন্ত ১৫০০ প্রজাতিতে দেখা গিয়েছে এবং এ তালিকা আরো বাড়ছে[১]। এই সমকামিতা দেখা যায়, আমাদেরই পরিচিত কুকুর, বিড়াল, খরগোশ, শিম্পাঞ্জীসহ অসংখ্য স্তন্যপায়ী প্রাণীতে [২]। সৌদি আরবের মত ধর্মান্ধ দেশ সমকামিতার জন্য ঘোড়ারও ফাঁসির ব্যবস্থা করেছে[৩]। এর মধ্যে বাচ্চা পালন করার আকুতি নিয়ে দুইটি পুরুষ পেঙ্গুইনের কাহিনী তো জগৎজোড়া প্রসিদ্ধ [৪] রয়, সিলো আর ট্যাঙ্গো নামে। বাচ্চাসহ পুরুষ পেইঙ্গুইন দম্পতির সংসার নিয়ে প্রচুর বই লেখাও হয়েছে।

২) পশুপাখির থেকে এখন নৈতিকতা শিখতে হবে? ধর্ষণ, অজাচার এসবকিছুই তো প্রকৃতিতে দেখা যায়, তাহলে কী ধর্ষণও প্রাকৃতিক?

সমকামিতার সপক্ষে থাকা ব্যক্তিরা কোনোভাবেই বলছে না, প্রকৃতিতে থাকলেই কোনো কিছু বৈধ বা না থাকলেই তা অবৈধ হয়ে যাবে। পশুতে সমকামিতা থাকার যুক্তি তখনি সামনে উত্থিত হয়, যখন ধর্মান্ধ বা অশিক্ষিত ব্যক্তিরা গোঁ ধরে বলতে থাকেন, সমকামিতা অন্য প্রাণীতে দেখা যায় না বলেই তাকে অবৈধ করতে হবে। মৌলবাদী ঘরানার ব্যক্তিদের প্রাথমিক যুক্তিই ছিল এটা, সমকামিতা নিষিদ্ধ থাকা উচিত কারণ এটা প্রাণীজগতের মধ্যে শুধুমাত্র মানুষই অনুসরণ করে, যা সর্বৈব মিথ্যা। প্রাণীতে সমকামিতা বেশ ভালোভাবেই দেখা যায়, এর অর্থ প্রকৃতিকে যদি কেউ চালিয়ে থাকেন অর্থাৎ, কোনো সর্বশক্তিমান সত্তা যদি প্রকৃতির নিয়ন্ত্রক হয়ে থাকে, তিনি খুব ভালোভাবেই সমকামিতাকে প্রকৃতিতে ধারণ করছেন, এটাই বুঝা যায়।

৩) আমি মনে করি, সমকামিতা একটা মানসিক বিকৃতি, তাদের চিকিৎসা করানো দরকার

কে কী মনে করছে, এটা সম্পূর্ণ তার ব্যক্তি স্বাধীনতা। কিন্তু কোনো কিছুকে মানসিক বিকৃতি ভাবার পূর্বে, এই বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা কী ভাবছেন, তা জানা থাকা জরুরি। স্বাস্থ্যবিজ্ঞানের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সংস্থা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) সমকামিতাকে মানসিক রোগ মনে করে না [৫]। মার্কিন মনোবিদ্যা বিভাগও মনে করে না যে সমকামিতা কোনোরুপ মানসিক রোগ [৬], ডিএসএম নামক নির্দেশক (মানসিক রোগ সংক্রান্ত) প্রকাশ করা মার্কিন মনোসমিতি বিভাগও মনে করে না, সমকামিতা কোনো মানসিক বৈকল্য [৭], যদি পাশ্চাত্যের প্রতি কারো ঘৃণা থাকে, তাহলে তাদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে; ভারতীয় মনোবিদ্যা সমিতিও মনে করে, সমকামিতা কোনো মানসিক রোগ নয় [৮], এমনকি চীনের মনোরোগের সংগঠনও মনে করে না, সমকামিতা কোনো মানসিক রোগ [৯]। এরপরেও কারো যদি মনে হয়, সমকামিতা কোনো মানসিক রোগ, হয় তিনি মনোবিদ্যায় একেবারেই “ক-অক্ষর গোমাংস” অথবা তিনি এই বিষয়ে এত বেশি জ্ঞানী যে উক্ত সংস্থাগুলো তাকে ধারণ করতে সক্ষম নয়।

৪) আচ্ছা, হয়তো সমকামিতা মানসিক বিকৃতি না। কিন্তু এটা জন্মগত সহজাত প্রবৃত্তিও না, বরং এটা একটা সিদ্ধান্ত; মানুষ নিজে চায় বলেই সমকামী হয়।

সমকামিতার সাথে জিনগত সংযোগ আছে। ৯৩ তে ডিন হ্যামার সর্বপ্রথম এক্সকিউ২৮ নামে একটি জেনেটিক মার্কার আবিষ্কার করেন যার সাথে সমকামিতার সংযোগ আছে বলে তিনি দাবী করেন।[১০] এই এক্সকিউ২৮ নামক মার্কারের সাথে যে সমকামিতার সত্য সত্যই সংযোগ আছে; তা ২০১৪ সালে প্রকাশিত যমজ গবেষণা দ্বারা প্রমাণিত হয় [১১]। এই গবেষণায় ৮ নং ক্রোমোজমে অবস্থিত সেন্ট্রোমিয়ারের নিকটবর্তী এলাকা 8q12 এর সাথেও সমকামিতার সংযোগ আছে বলে দেখা যায়। সায়েন্টিফিক আমেরিকান ব্লগে ক্রস কালচারাল স্টাডিজ প্রুভস হোমোসেক্সুয়ালিটি ইজ জেনেটিক শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে লেখক বিভিন্ন গবেষণা উপাত্তকে পাশাপাশি তুলে ধরে দেখান, কিভাবে এক্সকিউ২৮ এর সাথে বাস্তবিকই সমকামিতার সংযোগ আছে [১২, ১২-ক]। এছাড়াও ২০১৭ সালে নেচার জার্নালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, গবেষকরা ১৩ ও ১৪ নং ক্রমোজমে সমকামিতার সাথে সংযুক্ত প্রথমবারের মত সুনির্দিষ্ট ২টি জিন যথাক্রমে SLITRK6THSR আবিষ্কার করেন [১৩, ১৩-ক]। এই SLITRK6 জিন মধ্যমস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসে সক্রিয়। ৯১ সালে লিভ্যের গবেষণায় দেখা গিয়েছে সমকামী ও বিষমকামীর মধ্যে হাইপোথ্যালামসের আকারে পার্থক্য আছে [১৪]। এছাড়াও এই জিন পুরুষ ইদুঁর ফিটাসের হাইপোথ্যালামাসে জন্মের কিছুদিন পুর্বে সক্রিয় হয়। যে সময়টায় যৌনতার পৃথকীকরণ হয়। ১৪ নং ক্রোমোজমের THSR জিন প্রধানত থাইরয়েডে সক্রিয়। এটি থাইরয়েড গ্রন্থিকে অতি সক্রিয় করে তুলে। এরফলে বিপাকীয় ক্রিয়ার হার বেড়ে যায় এবং ওজন হ্রাস পায়। গ্রেইভ ডিজিজ বিষমকামী পুরুষদের তুলনায় সমকামী পুরুষে বেশি দেখা যায়(১৫), (১৬) এবং কিছু গবেষণা দেখিয়েছে যে, সমকামী পুরুষরা বিষমকামী পুরুষদের তুলনায় অধিক কৃশকায় (শুকনো) হন।(১৭) (১৮) – এটা হতে পারে; থাইরয়েডের অতিসক্রিয়তার কারণে। গর্ভবতী মায়ের থাইরয়েডে ত্রুটি দেখা গেলে, সন্তানের পরবর্তী সময়ে সমকামী হবার সম্ভাবনা থাকতে পারে– এরকমটাও একটা গবেষণায় দেখা গিয়েছে (১৯)। এমনকি মানব জিনোম প্রজেক্টের প্রধান বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস কলিন্স ২০০৭ সালে সমকামিতার সাথে জিনগত সংযোগ আছে বলে মত দেন, এবং অদূর ভবিষ্যতে সেই জিন আবিষ্কৃত হবে বলে নিশ্চিত ছিলেন(২০, ২০-ক)।

৫) আচ্ছা মেনে নিলাম, সমকামিতা জেনেটিক্যাল। কিন্তু ব্যক্তির সমকামী হবার পিছনে শুধুই কী জিনগত কারণ বিদ্যমান?

নাহ, একজন মানুষ সমকামী হওয়ার পিছনে শুধু জিনগত কারণকেই দায়ী করা হয় না। বেশ কিছু গবেষণা এটাও ইঙ্গিত করে যে, একজন মানুষ সমকামী হবে কি হবে না, তার মার্তৃগর্ভে থাকা অবস্থায় জন্মপূর্ব হরমোন নির্ধারণ করে। [২১] একেবারে ভিন্ন খাতে একটা মজার গবেষণা হয়েছে এ নিয়ে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা দেখেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রায় সঠিক ভাবে শুধুমাত্র মুখমণ্ডল দেখে বলে দিতে পারে, কে সমকামী আর কে নয়। এবিষয়টি নিশ্চিত করে, মানুষের যৌন অভিমুখিতা নির্ধারণে যে বায়লজিক্যাল ফ্যাক্টর জড়িত, তা শুধু যৌনতাই নয় বরং মানুষের মুখের আদল তৈরীতেও ভূমিকা রাখে [২২]। এছাড়াও অর্ধশতাধিক গবেষণা দেখিয়েছে, একজন পুরুষের সমকামী হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যদি তার একাধিক বড় ভাই থাকে। কিন্তু কেন থাকে, তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা বহুদিন ধরে অজ্ঞাত থাকলেও ২০১৭ সালের শেষদিকে এসে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার কর‍তে সমর্থ হন, ঠিক কেন একাধিক বড় ভাই থাকলে মানুষের সমকামী হবার সম্ভাবনা বাড়ে [২৩, ২৩-ক]। এছাড়া ডিএনএতে রাসায়নিক পরিবর্তনের (এপিজেনেটিক প্রভাব)[২৪] কারণে অর্থাৎ এপিজেনেটিক্যাল কারণেও কেউ কেউ সমকামী হতে পারে।

৬) এইতো লাইনে আসছেন, সমকামিতা কখনোই শুধুমাত্র জিনগত কারণে উদ্ভব হয় না, বরং এর সাথে জড়িত পরিবেশগত কারণ। মানুষ জন্মাবার পরে সেক্সুয়াল ফ্যান্টাসির কারণে, পরবর্তীতে সমকামী হয়ে উঠে।

বিজ্ঞানীদের মতে যৌন অভিমুখিতা নির্ধারণে জিনগত কারণ, জন্মপূর্ব হরমোন এবং পরিবেশগত কারণ যুগ্মভাবে ক্রিয়া করে। সেই অর্থে বলা যায়, কোনো মানুষ (নারী অথবা পুরুষ) সমকামী হবার পিছনে পরিবেশগত কারণ কিছুটা হলেও দায়ী। তবে বিজ্ঞানীরা এটাও মনে করেন যে, পুরুষের সমকামী হবার পিছনে পরিবেশগত কারণ থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ [২৫]।

৭) যদি বায়োলজিক্যাল ফ্যাক্টরের কারণেই মানুষের সমকামী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে, নিশ্চয়ই সেসব ফ্যাক্টর শুধুমাত্র সমকামী ও বিষমকামীর যৌন প্রবৃত্তিতে পার্থক্য সৃষ্টি করবে না। দুই ধরনের অভিমুখী মানুষের শরীরের অন্যান্য প্রত্যঙ্গেও পার্থক্য থাকবে। এরকম কোনো পার্থক্য আছে কী?

নিশ্চয়ই পার্থক্য আছে। এই পার্থক্যের পরিধি এত বিস্তৃত যে, তথ্যসুত্র দিতে থাকলে শুধু পার্থক্য সংক্রান্ত অথেন্টিক রেফারেন্স গিয়ে দাঁড়াবে অর্ধশতাধিকে। তাই পার্থক্যগুলো কী, তা সংক্ষিপ্তভাবে বলব এবং রেফারেন্সগুলো যে জায়গায় একত্রে আছে, তা উল্লেখ করব।

সমকামী পুরুষদের মস্তিষ্ক সিলেক্টিভ সেরোটোনিন ফ্লুক্সেটিনের প্রভাবে, বিষমকামীদের তুলনায় ভিন্ন ভাবে সাড়া দেয়। সমকামী নন এরুপ নারীর তুলনায় উভকামী ও সমকামী নারীদের মধ্যকর্ণ ও কেন্দ্রীয় অডিটরী সিস্টেমের কার্যাবলী পুরুষের ন্যায়। (গবেষকদের মতে এই অন্বেষণ যৌন অভিমুখিতার জন্য জন্মপূর্ব হরমোন দায়ী এই প্রকল্পের সাথে সংগতিপূর্ণ)। সমকামী নারী এবং উভকামী নারীতে স্টার্টল রেসপন্স (eye-blink following a loud sound) পুরুষের ন্যায় আচরণ করে। সমকামী এবং সমকামী নন এরুপ পুরুষদের মস্তিষ্ক দুইটি পুটেটিভ (putative) সেক্স ফেরোমেনে ভিন্নভাবে সাড়াদান করে। সমকামী নন এরকম পুরুষ এবং সমকামী নারীর মধ্যে তর্জনী এবং অনামিকার আঙ্গুলের দৈর্ঘ্যের অনুপাতে পার্থক্য হয়। ৫০ জন সমকামী পুরুষের মধ্যে করা গবেষণায় দেখা গিয়েছে; তাদের ২৩ শতাংশের ঘড়ির বিপরীতক্রমে হেয়ার হোর্ল আছে, যা মোট জনসংখ্যার ৮ শতাংশ। এর সাথে বাঁহাতিদের একটা আন্তঃসংযোগ আছে। সমকামী পুরুষদের বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি এবং কণিষ্ঠাঙ্গুলির ফিঙ্গারপ্রিন্ট ঘনতর হয়। সমকামী পুরুষদের বাহু এবং হাতের দৈর্ঘ্য সাধারণ জনসংখ্যা (বিষমকামী) তুলনায় ছোট হয়। তবে এটা শুধুমাত্র শেতাঙ্গদের মধ্যে দেখা গিয়েছে।[২৬] এছাড়াও সমকামিতার সাথে হ্যাণ্ডেডনেসের একটা সংযোগ আছে। অধিকাংশ মেটা এনালাইসিসে দেখা গিয়েছে যারা সমকামী হন, তাদের মধ্যে বাঁহাতি হওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায় (এখানেও অসংখ্য গবেষণা প্রতিবেদনের রেফারেন্স থাকায় সবগুলো না দিয়ে একটাই সোর্স দিচ্ছি, যেখানে সব তথ্যসুত্র উল্লেখ আছে) [২৭]। এছাড়াও আরেকটি সুনির্দিষ্ট গবেষণায় দেখা গিয়েছে সমকামীদের জন্মের সময়কার ওজন; বিষমকামীদের জন্মের সময়কার ওজনের চেয়ে কম হয়।[২৮]। যা অনেক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে।[২৯]

৮) ইয়া আল্লাহ! আমাদের সমস্ত জৈবিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে মস্তিষ্ক! সমকামী ও বিষমকামীদের মস্তিষ্কে কী কোনো পার্থক্য আছে?
আছে এবং মস্তিষ্কের বেশ কিছু প্রত্যঙ্গেই আছে। সমকামী এবং বিষমকামীদের মস্তিষ্কের INAH3 তে[৩০] পার্থক্য আছে এবং এই গবেষণা পরবর্তী অন্যান্য গবেষণায় পুনঃপ্রমাণিতও হয়েছে। [৩১] পার্থক্য পাওয়া গিয়েছে সুপ্রাকায়াজম্যাটিক নিউক্লিয়াসে [৩২], ব্যাড নিউক্লিয়াস অব দ্য স্ট্রিয়া টার্মিনালিস নামক এলাকায়[৩৩], এমিগডালা সংযোগে[৩৪], এন্টেরিওর কমিশারে[৩৫] পার্থক্য দেখা গিয়েছে গ্রে ম্যাটার [৩৬] সহ ইত্যাদি অংশে। এছাড়াও সমকামী ও বিষমকামীর মস্তিষ্কের রাসায়নিক ক্রিয়ায় যেসব পার্থক্য দেখা যায়, সেদিকে আর নাইবা গেলাম।

০৯) কিন্তু এমন কোনো প্রাণী আছে কি, যাদের ক্ষেত্রেও মস্তিষ্কের এরুপ ভিন্নতা দেখা গিয়েছে?
হ্যাঁ, অবশ্যই। গৃহপালিত ভেড়ার পুরুষে সেক্সুয়াল ডিমরফিক নিউক্লি (SDN) গড়পড়তায় নারীর চেয়ে বড় থাকে। মজার বিষয় হলো, পুরুষকামী পুরুষ ভেড়ার SDN নারীকামী পুরুষ ভেড়ার SDN এর চেয়ে ছোট। কিন্তু কতটা ছোট? পুরুষকামী পুরুষ ভেড়ার SDN আকারে নারী ভেড়ার সমান। গবেষকরা এও বলেছেন ভেড়ার যৌন অভিমুখিতা অর্থাৎ, তার সমকামী হওয়া আসলে নিউরোলজিক্যালি (স্নায়বিক ক্রিয়ায়) জন্মপূর্ব নির্ধারিত।[৩৭]

১০) কিন্তু সমকামীরা বিকৃত যৌনাচারণে যেমন পর্ন দেখায় আসক্ত হওয়ার পরেও তো তাদের মস্তিষ্ক পাল্টে যেতে পারে। একজন বিজ্ঞানী আর একজন চাষীর মস্তিষ্ক নিশ্চয়ই একদম একরকম হবে না।

এখানে পূর্ণাঙ্গ আলোচনার একটা দাবি থাকে, যদিও সংক্ষিপ্ত পরিসরে আলোচনা করব। উপরোক্ত ভেড়ার উদাহরণ থেকে নিশ্চয় এটা বলা সম্ভব না, গৃহপালিত ভেড়া সেক্স ওয়ার্কার বা পর্ন দেখে দেখে মস্তিষ্ক এরুপ পরিবর্তন করে ফেলে। তবুও মানুষের ব্যাপারে আলোচনা করতে গেলে প্রথমে আমাদের জানা থাকা প্রয়োজন নারী এবং পুরুষে কিছুটা পার্থক্যের ব্যাপারে। প্রাথমিক ভাবে ধরা হতো, নারী ও পুরুষে বিভিন্ন দক্ষতার পার্থক্য হয়তো বয়োঃসন্ধিকালের পরে হয়, কিন্তু আধুনিক উত্তরোত্তর গবেষণাগুলো বলছে, নারী এবং পুরুষে পার্থক্য প্রকট হয় একেবারেই শৈশবে। দেখা গেছে ১৮-১৯ মাস বয়স থেকেই ছেলে শিশুরা খেলনা বাছাইয়ের সময় বাছাই করে স্পাইডারম্যান, ব্যাটম্যান টাইপ যুদ্ধংদেহী খেলনা আর মেয়ে শিশুরা বাছাই করে বার্বি ডল টাইপ খেলনা। মেয়ে শিশুরা ছোট থেকেই তার চেয়ে ছোট বাচ্চা দেখলে আদর করতে আগ্রহী হয়, পক্ষান্তরে ছেলে শিশুরা এরকম কিছুতে আগ্রহী নয়। এরকম বিষয় গুলো সম্বন্ধে বিস্তারিত রেফারেন্সসহ বাংলায় জানতে এই ব্লগপোস্ট পড়া যায় [৩৮]।

এবার প্রশ্ন জাগে মনে, ঠিক কী কারণে মাত্র দেড় বছরের শিশুদের চাহিদায় লিঙ্গ ভিত্তিক পার্থক্য তৈরি হয়? নিশ্চয় এখানে কোনো ম্যাজিক নেই। তাহলে? বিষয়টা আসলে পরিস্কার। যে বৈশিষ্ট্যগুলো নারী বা পুরুষ শিশুর জন্মের পর পর প্রদর্শিত হবে; তা আসলে নির্ধারিত হয় জন্মপূর্বেই। এখন প্রশ্ন হচ্ছে ঠিক কী কারণে নারী-পুরুষের কগনিটিভ বা তাদের জ্ঞানীয় দক্ষতায় এরুপ পার্থক্য দেখা গেলো? আমাদেত সমস্ত চিন্তাভাবনার কেন্দ্রবিন্দু যে মস্তিষ্ক, নারী আর পুরুষে সে মস্তিষ্কের আকারে দেখা গিয়েছে ভিন্নতা। Grey matter, Amygdala, Hemisphere এ দেখা গিয়েছে পার্থক্য। এখনো কি মনে হয়, শৈশবেই নারী পুরুষের চিন্তাভাবনার যে পরিবর্তন দেখা যায়, তার জন্য মস্তিষ্ক দায়ী নয়? তারপরে আবার এই মস্তিষ্কের গঠনেও পার্থক্যও কী এই দাবীকেই সত্য প্রমাণ করে না? তাহলে শৈশবের চিন্তার পার্থক্যের জন্য এই মস্তিষ্ক কবে গঠিত হয়েছে? অবশ্যই মার্তৃগর্ভে। অর্থাৎ, আমাদের মস্তিষ্ক কেমন হবে, তা প্রকৃতিই ঠিক করে। পাঠক কী, খেয়াল করছেন, সমকামী এবং বিষমকামীর মস্তিষ্কের যেসব প্রত্যঙ্গে পার্থক্য দেখা গিয়েছিল, নারী-পুরুষেও সেই একই অংশে পার্থক্য দেখা গিয়েছে। আবার সেই পার্থক্য কেমন জানা থাকা অতীব জরুরি। যেমনঃ সমকামী পুরুষ মস্তিষ্কের INAH3 এর আকার বিষমকামী নারীর INAH3 এর আকারের সমান[৩০,৩১]। এই দুইজনই কিন্তু যৌনতায় পুরুষকে কামনা করে। আর সমকামী নারীর INAH3 এর আকার বিষমকামী পুরুষের INAH3 এর আকারের সমান [ঐ] যেখানেই দুই গ্রুপই নারীকে কামনা করে। আবার যে এমিগডালার সংযোগের কথা উপরে বললাম, সমকামী পুরুষ ও বিষমকামী নারীর বাম এমিগডালা তুলনামুলক বেশি বিস্তৃত এবং বিসমকামী পুরুষ ও সমকামী নারীর ডাম এমিগডালা তুলনামুলক বেশি বিস্তৃত[৩৪]। এরপরেও কী মনে হয়, সমকামী পুরুষরা পর্ন দেখে তাদের মস্তিষ্কের প্রত্যঙ্গকে নারীর মত বানিয়ে ফেলে?

১১) তাহলে কী, একজন সমকামী পুরুষের নারী মস্তিষ্ক থাকে?

ব্যাড নিউক্লিয়াস অব দ্য স্ট্রিয়া টার্মিনালিস নামক এলাকা নারী এবং পুরুষ উভয়ের তুলনায় সমকামী পুরুষে বড় থাকে।[৩৯] আবার সুপ্রাকায়াজম্যাটিক নিউক্লিয়াস সমকামী পুরুষে বিষমকামীর তুলনায় ২.১ গুণ বড় থাকে আর নারীর চেয়ে তো আরো বড় থাকে।[৪০]

১২) কিন্তু তবুও এমন কোনো তথ্য আছে, যা থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, সমকামীদের মস্তিষ্কের এই পরিবর্তন জন্মপূর্ব নির্ধারিত?

ভেড়ার উদাহরণ এবং উপোরক্ত ১০ নং প্রশ্নে ক্রস স্টাডিজ এটা প্রমাণ করার জন্য সুনিশ্চিত সমকামীদের মস্তিষ্ক জন্মপূর্ব নির্ধারিত। তবুও সুনিশ্চিত করার জন্য বলছি, গবেষকরা এটা জানিয়েছেন সমকামীদের মস্তিষ্কের এই ভিন্নতা তাদের জন্মপূর্ব থেকে নির্ধারিত হয়।[৪১] এছাড়াও পূর্বোক্ত ৬ নং প্রশ্ন ও [২৫] নং রেফারেন্সে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পুরুষের সমকামিতা জন্মের পরে পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত হবে, সেই সম্ভাবনা সীমিত।

১৩) এখন যে সমকামিতার এত বৈধতা দিচ্ছেন, তাহলে শিশুকামিতা, পশুকামিতা, ক্রাইমের মত বিষয়গুলোরও যদি জিন আবিষ্কার হয়, সেগুলোকেও বৈধতা দিবেন বুঝি?

সমকামিতা আর শিশুকামিতা/পশুকামিতা এক পাল্লার বিষয় নয়।  আর প্রশ্নটা বিজ্ঞানেরও না, মানবাধিকারের।

একজন শিশু যে “Age of Consent” (সম্মতির বয়স) অতিক্রম করেনি, তার সাথে যৌনাচারণ করলে তাতে ঐ শিশুর ভবিষ্যৎ জীবনে মানসিক পীড়ার একটা পাকাপাকি ছাপ পড়ে যেতে পারে, এই আশঙ্কা থেকেই শিশুকামিতার বিরোধিতা করা হয়। পশুকামী পশুর সাথে যৌনাচরণ করে পশুর অমতে। তাই মানবাধিকারের প্রশ্নে এসব বিষয় কখনোই ছাড় পাবে না।

সমকামিতার সাথে জিনগত সংযোগের প্রথম গবেষণাটা হয়েছিল ৯৩ তে। কিন্তু সমকামিতাকে স্বীকৃতি দেওয়ার যে আন্দোলন গড়ে উঠেছে তার সূচনা হয়েছে সেই ১৯৬৯ বা তারো আগে থেকে। এটা থেকে পরিস্কার ধারণা পাওয়া যায়, সমকামিতার সপক্ষের আন্দোলনগুলো সমাজের মানুষ তাদের মানবাধিকারের জায়গা থেকে তুলেছে। বংশগত বা বায়োলজিক্যাল ফ্যাক্টরের সংযোগ দাবীর সপক্ষে কিছু যুক্তি যুক্ত করেছে মাত্র। এখন প্রশ্ন হচ্ছে শিশুকামিতা, অজাচার বা ক্রাইমের মত বিষয়গুলো মানবাধিকারের গণ্ডি পার করতে পারে কিনা? দেখুন, সমকামিতা দাবীর সপক্ষে আওয়াজ উঠার মূল যুক্তি ছিলই এটা, দুজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ (তারা যে লিঙ্গেরই হোক না কেন), একান্তে কী করছে না করছে, তা নিয়ে সমাজ বা রাষ্ট্রের মাথা ঘামানোর কী আছে?

১৪) শৈশবে সমলিঙ্গের মানুষ দ্বারা যৌন নির্যাতনের কারণে হয়তো অনেকে সমকামী হয়।

গবেষকরা এমন কোনো সংযোগ পাননি, যা থেকে মনে হয়, সমকামিতা কোনো যৌন নির্যাতনের দরুণ সৃষ্টি হয় [৪২]। মার্কিন মনোসমীতি বিভাগও মনে করে না, শুধুমাত্র নির্যাতনের কারণে কেউ সমকামী হবে [৪৩]। জার্নাল অব দ্য আমেরিকান এসোসিয়েশনে প্রকাশিত গবেষণা থেকে বলা হয়েছে, সমকামীদের মধ্যে যারা নির্যাতিত হয়েছে, তারা নির্যাতনের পূর্বেই নিজেদের সমকামী হিসেবে ভাবতেন। তাই এটা বলার কোনো যুক্তি নেই, যারা সমকামী হিসেবে নিজেদের আত্মপ্রকাশ করে, তারা যৌন নির্যাতনের দরুণ এই যৌন অভিমুখিতা বেছে নেয় [৪৪]। এছাড়াও অজস্র গবেষণা সমকামিতার সাথে যৌন নির্যাতন বা শৈশবে যৌন অভিজ্ঞতার কোনো সংযোগ আছে, এমন দাবিকে প্রত্যাখান করেছে [৪৫]। এ বিষয়ে একটা মজার তথ্য দেওয়া যাক, যুক্তরাষ্ট্রে সমস্ত উপাত্ত থেকে এটাই দেখা যায় যে, নারীরা পুরুষদের চেয়ে বেশি যৌন নির্যাতনের স্বীকার হয়। আবার উপাত্ত গুলো অনুসারে দেখা যায়, নারী সমকামীর সংখ্যা পুরুষ সমকামীর চেয়ে কম। লেসবিয়ানদের প্রশ্ন করা হলে, তারা জানান, তারা পুরুষদের সাথে যৌন সঙ্গম করতে ভয় পান। এখানেই হচ্ছে মজা। সমকামী বিদ্বেষীদের প্রশ্নকে ধর্তব্যের মধ্যে নিলে বলতে হবে, শৈশবে যে পুরুষের যৌন নির্যাতনের কারণে নারীরা পুরুষ থেকে দূরে সরে গিয়ে তার সাথে সঙ্গমে অনিচ্ছুক হয়ে উঠেছে; ঠিক উল্টাভাবে শৈশবে পুরুষের যৌন নির্যাতনের কারণে ভিক্টিম পুরুষ পুরুষকামী হয়ে উঠেছে। কী বিষ্ময়কর ডাবল স্ট্যাণ্ডার্ড, না? মনোথেরাপিষ্ট কালিমুরনো এবিষয়ের উদ্ধৃতি উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেছেন

সত্য এটাই যৌনতা এবং যৌন নির্যাতনের মধ্যে রয়েছে আকাশ পাতাল দূরত্ব। তাদের মধ্যে সাদৃশ্যের কোনো চিহ্নই নেই। কুৎসিত ও উৎপীড়নমুলক যৌন নির্যাতন কখনোই সুন্দর ও অতীব সুন্দর যৌনতাকে নির্ধারণ করতে পারে না [৪৬]।

১৫) কিন্তু এটা কী সত্যি না, যে এলজিবিটি মানুষদের মধ্যে আত্মহত্যার হার, বিষণ্নতার হার অনেক বেশি? যদি সমকামিতা মানসিক অসুস্থতা নাই হবে, তবে তাদের মধ্যে এত মানসিক বৈকল্য দেখা যায় কেন?

এটা ভাবা সম্পূর্ণ বোকামি যে সমকামী বিদ্বেষী একটা সমাজে সমকামীরা আনন্দে থাকবে। গবেষকরাও এই বিষয়ে সুনিশ্চিত যে, সমকামীরা মানসিকভাবে এরকম পীড়িত থাকার অন্যতম কারণ হলো তাদের প্রতি সমকামী বিদ্বেষী সমাজের নিরন্তর বিদ্বেষ [৪৭]।

১৬) অসংখ্য রাষ্ট্রে তো সমকামিতা বৈধ হয়েছে, তো সেখানকার এলজিবিটিদের মধ্যে কী কমেছে সুইসাইড রেট?

অবশ্যই, অসংখ্য উপাত্ত থেকে দেখা গিয়েছে, সমকামীদের মধ্যকার বিবাহকে আইনসম্মত করার সাথে সাথে কিশোরদের মধ্যে আত্মহত্যার যে প্রবণতা, তা উল্লেখযোগ্য ভাবে হ্রাস পেয়েছে [৪৮-১,২,৩]। সমাজের মানুষের জন্য আইনই সব নয়। ধরুন, আপনি একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী, বাস করছেন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে। আপনি জানেন, আপনার সংবিধান আপনাকে সর্বোচ্চ ধর্মীয় স্বাধীনতা দিয়েছে। তথাপি নামাজের সময় আপনি ঠিকই বাদ্য বাজানোর সময় সতর্কতা বজায় রাখবেন। অর্থাৎ, আইনগত স্বাধীনতাই সব নয়। যুক্তরাষ্ট্রের মত একটি রাষ্ট্র, যেখানে শ্বেতাঙ্গরা এখনো সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের মত ব্যক্তি ক্ষমতাসীন হয় এবং যেখানে সমকামীদের জন্য বেকারীতে কেক দেওয়া হয় না [৪৯]। সেখানকার সমকামীরা কতটা ভীতির মধ্যে থাকবে, তা বলাই বাহুল্য। এরপরেও শুধুমাত্র আদালতের রায়ে সমকামী বিবাহ স্বীকৃতি পাওয়ায়, সেখানকার তরুণরা আত্মহত্যার প্রবণতা থেকে দূরে সরে আসছেন। গবেষকরা একে উল্লেখ করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের তরুণরা তাদের হতাশার ভবিষ্যত জীবনে খুঁজে পেয়েছেন আশার আলোকবর্তিকা [৫০-১,২]।

তথ্যসূত্র

১)https://www.news-medical.net/news/2006/10/23/1500-animal-species-practice-homosexuality.aspx
২)https://en.m.wikipedia.org/wiki/List_of_mammals_displaying_homosexual_behavior
৩)https://worldnewsdailyreport.com/saudi-arabia-famous-racehorse-to-be-executed-for-being-homosexual/
৪)https://en.m.wikipedia.org/wiki/Roy_and_Silo
৫)https://web.archive.org/web/20091030051630/http://www.ilga.org/news_results.asp?LanguageID=1&FileCategory=50&FileID=546
৬) http://www.apa.org/topics/lgbt/orientation.aspx
৭) https://www.hrc.org/blog/flashbackfriday-today-in-1973-the-apa-removed-homosexuality-from-list-of-me
৮) http://www.hartford-hwp.com/archives/55/325.html
৯) https://www.thehindu.com/news/national/homosexuality-not-an-illness-indian-psychiatric-society/article24401307.ece

১০) https://www.newscientist.com/article/dn26572-largest-study-of-gay-brothers-homes-in-on-gay-genes/
১১) https://www.cambridge.org/core/journals/psychological-medicine/article/genomewide-scan-demonstrates-significant-linkage-for-male-sexual-orientation/864518601436C95563EA670C5F380343
১২) https://www.scientificamerican.com/article/cross-cultural-evidence-for-the-genetics-of-homosexuality/
১২-ক) বাংলায় মুক্তমনা ব্লগ থেকে পড়ুন [https://blog.mukto-mona.com/2018/05/25/52835/ ]
১৩) https://www.nature.com/articles/s41598-017-15736-4
১৩-ক) [বাংলায় বিজ্ঞানযাত্রা থেকে পড়ুন https://bigganjatra.org/genes-for-homosexuality/ ]
১৪) https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/1887219
১৫) https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/24306355
১৬) https://link.springer.com/article/10.1007%2Fs10654-013-9869-9
১৭) https://www.sciencedirect.com/science/article/pii/S0091743510001854
১৮) https://link.springer.com/article/10.1007%2FBF02437839
১৯) https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pmc/articles/PMC4620281/
২০) https://exgaywatch.com/2007/05/major-geneticist-francis-collins-responds-to-narth-article/
২০-ক) বাংলা অনুবাদ রুপবান থেকে পড়ুন https://roopbaan.org/2018/07/05/সমকামিতা-জিনগত-বলছেন-হিউ/

২১) https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/19955753
২২) https://osf.io/zn79k/
২৩) http://www.pnas.org/content/115/2/302
২৩-ক) https://bigganjatra.org/fraternal-birth-order-effect/
২৪) http://www.sciencemag.org/news/2015/10/homosexuality-may-be-caused-chemical-modifications-dna

২৫) http://journals.sagepub.com/doi/10.1177/1529100616637616
২৬) https://bn.wikipedia.org/s/abmo#শারীরতত্ত্ব_বিদ্যায়
২৭) https://bn.wikipedia.org/s/a6uf
২৮) https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/11534970
২৯) https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/1288722

৩০) https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/1887219
৩১) https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/10677635
৩২) https://doi.org/10.1016/0006-8993%2890%2990350-K
৩৩) https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/7477289
৩৪) https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/18559854
৩৫) https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/7571001
৩৬) https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/17712410

৩৭) https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/19207819
৩৮) https://proloysrot.wordpress.com/2018/09/14/নারী-বনাম-পুরুষ-পুরুষ-বনা/
৩৯) Animal Homosexuality: A Biosocial Perspective
৪০) https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/2085769

৪১) https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/19955753
৪২)https://www.rcpsych.ac.uk/members/specialinterestgroups/gaylesbian/submissiontothecofe/psychiatryandlgbpeople.aspx
৪৩) https://web.archive.org/web/20110722080052/http://www.healthyminds.org/More-Info-For/GayLesbianBisexuals.aspx
৪৪) Holmes, William C. (2 December 1998). “Sexual Abuse of Boys”. The Journal of the American Medical Association. 280 (21)
৪৫) Ridley, 2003; Balsam et al 2005; Bell et al, 1981; Hammersmith, 1982; Peters & Cantrall, 1991; Slap, 1998
৪৬) http://kalimunro.com/wp/articles-info/lesbian-gay/am-i-gay-because-of-the-abuse
৪৭) http://psycnet.apa.org/doiLanding?doi=10.1037%2F0022-006X.62.2.261
৪৮-১) https://jamanetwork.com/journals/jamapediatrics/fullarticle/2604258
৪৮-২) https://www.jhsph.edu/news/news-releases/2017/same-sex-marriage-legalization-linked-to-reduction-in-suicide-attempts-among-high-school-students.html
৪৮-৩) https://www.usatoday.com/story/news/nation/2017/02/20/teen-suicide-down-as-same-sex-marriage-legalized-study/98179684/
৪৯) https://www.theguardian.com/law/2018/jun/04/gay-cake-ruling-supreme-court-same-sex-wedding-colorado-baker-decision-latest
৫০-১) https://www.pbs.org/newshour/health/same-sex-marriage-fewer-youth-suicide
৫০-২)https://www.reuters.com/article/us-health-pediatrics-suicide-lgbt/same-sex-marriage-laws-tied-to-fewer-teen-suicide-attempts-idUSKBN1612SP

Comments

proloysrot321

এককথায় সব কিছুকেই বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করি।

আপনার আরো পছন্দ হতে পারে...

মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানান

সবার আগে মন্তব্য করুন!

জানান আমাকে যখন আসবে -
avatar
wpDiscuz