মহাশূন্যে চলে যে কলম

প্রথম দিকে নাসা যখন মহাকাশযান পাঠানো আরম্ভ করলো, তখন বুঝলো যে বলপয়েন্ট কলম অভিকর্ষ ছাড়া কাজ করবে না। তখন মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হলো, এমন এক কলম বানানোর জন্য যেটা যে কোনো পৃষ্ঠে, যে কোনো কোণে, শূন্যের নিচে থেকে শুরু করে ৩০০ ডিগ্রী সেণ্টিগ্রেড তাপমাত্রা পর্যন্ত কাজ করবে।

***** কিন্তু আসল কাহিনী কি তাই? *****

 

01. Science

মহাকাশযাত্রার প্রথম দিকে, রাশিয়ান এবং আমেরিকান, দুই জাতিই মহাকাশে গিয়ে পেন্সিলই ব্যবহার করতো। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, পেন্সিলের নিব গ্রাফাইট দিয়ে তৈরি, যেটা তাপ ও বিদ্যুতের অত্যন্ত ভালো মানের পরিবাহক। অভিকর্ষহীন মহাকাশে ভেঙ্গে যাওয়া নিব-এর টুকরো বেশ ভালোরকম সমস্যার জন্ম দিতে পারে। যেমন – বাতাসের ভেন্টিলেশন সিস্টেমে বা ইলেকট্রিক্যাল যন্ত্রপাতির মধ্যে ঢুকে যেতে পারে। তখন শর্ট সার্কিট হতে পারে, ক্যাপসুলের বিশুদ্ধ অক্সিজেনযুক্ত পরিবেশে আগুন ধরে যেতে পারে।

অ্যাপোলো-১ এর সকল মহাকাশচারী আগুনে পুড়ে মারা যাওয়ার পর, নাসা এমন একটা লেখার উপকরণ খুঁজছিলো, যেটাতে আগুনের কোনো ঝুঁকি নেই। তখন Paul C Fisher এর কলম বানানোর প্রতিষ্ঠান Fisher Space Pen Company বাজেট করলো মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার। এরপর নাসা প্রতিটি কলম কিনে নিলো মাত্র ২ ডলার ৯৫ সেন্ট দিয়ে। অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই রাশিয়ানরাও পেন্সিল বাদ দিয়ে এই বিশেষ কলম ব্যবহার করা শুরু করলো।

৪০ বছর পরেও কেউ কেউ এটা নিয়ে ঘোঁট পাকায়। আসুন, তাদেরকে আসল কথাটা জানিয়ে দিই, once and for all.

Comments

বিজ্ঞানযাত্রা

বিজ্ঞানযাত্রা

বিজ্ঞানযাত্রা কর্তৃপক্ষ।

আপনার আরো পছন্দ হতে পারে...

মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানান

সবার আগে মন্তব্য করুন!

জানান আমাকে যখন আসবে -
avatar
wpDiscuz