নাহিদরেইন্সের ভুলগুলো-পর্ব ১: Unsolved Mystery of the Universe! OMG! The Science Show

বাংলাদেশিজমের সিইও নাহিদরেইন্স এবং তার ‘OMG! | The Science Show‘ নামের এক ইউটিউব প্রোগ্রামকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ঘটনাবলির রেশ বোধহয় এখনো কাটেনি। নাহিদের ভুল বক্তব্যগুলোকে খণ্ডন করে বানানো বিজ্ঞানযাত্রার ভিডিওটা কেউ দেখে থাকলে এতক্ষণে যে কারোরই বুঝে যাবার কথা বিজ্ঞান বিষয়ে তার জ্ঞানগম্যি কতদূর। এজন্যই কি-না জানি না, অনেকেই আবার ধরে নিচ্ছেন তার সব কথাই ভুল – কেউ কেউ দেখছি তার এক পর্বে দেখানো ডায়নোসর থেকে পাখির বিবর্তনকেও ভুল ভেবে বসছেন। আধো সত্য-আধো মিথ্যা কথার এই একটা সমস্যা, ভুলের নিচে সত্যটাও চাপা পড়ে যায়। এ কারণে উচিত ভদ্রলোকের সবগুলো ভিডিওর উপরেই রিবাটাল বানানো এবং ভুলটা শুধরে সঠিক তথ্যটা সবাইকে জানানো।
‘বিগ ব্যাং’ পর্বটার আগেও ওএমজি! দ্যা সায়ান্স শো-এর বেশ কয়েকটা পর্ব দেখতে পাওয়া যায় তাদের চ্যানেলে। ওগুলোরই একটা পর্ব দেখতে বসলাম, টাইটেল “UnSolved Mystery of the Universe!!!” যথারীতি হতাশ হলাম না, এতে ভুলের সংখ্যা ‘বিগ ব্যাং’ পর্বের চাইতেও বেশি, হয়ত পর্বের দৈর্ঘ্য একটু বেশি বলেই। ৬৩০০ এর উপরে ভিউ এবং ২৫০ এর উপরে লাইক। বিজ্ঞানবিষয়ক লেখা ২৫০ বার পড়াই হয় না, লাইক তো আরও পরের ব্যাপার।
 
আমরা হচ্ছি বিগত তিনশ কোটি বছরের বিবর্তনের ফসল। এর বড় একটা সময় আমাদের বিবর্তন হয়েছে দেখে ও শুনে আমাদের চারপাশ থেকে জ্ঞান আহরণের জন্য। লেখালেখি অনেক সাম্প্রতিক উদ্ভাবন। এ কারণে লেখা পড়ে কিছু শেখার চেয়ে দেখা অনেক বেশি ইফেক্টিভ। এতগুলো ভিউ থেকে তাই সহজেই অনুমান করা যায় নাহিদের ভুল বক্তব্যগুলো দর্শকের মনে কতখানি জায়গা নিয়ে নিয়েছে। এটা হতে দেয়া যায় না। খেয়েদেয়ে যেহেতু বেশি কাজ নেই, এ কারণেই ঐ পর্বের ভুলগুলো নিয়ে লিখতে বসা।
 
এসব যখন লিখছি, তখনই নতুন একটা কাণ্ড করে বসেছেন নাইদ্রেইন্স। কপিরাইট লঙ্ঘনের মিথ্যা অভিযোগে বিজ্ঞানযাত্রার ভিডিওটাকে ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে দিয়ে সরিয়ে দিয়েছেন। নাহিদও রক্ত-মাংসের মানুষ, বিজ্ঞান নিয়ে তার ভুলভাল কথাকে তাই ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখা যায়, কিন্তু এরকম মিথ্যা অভিযোগে ভিডিও সরানোর নোংরামিকে কোনভাবেই জাস্টিফাই করা সম্ভব না। লেখাটিকে এ ঘটনার প্রতিবাদ হিসেবেও দেখতে পারেন আপনারা।
 
যাহোক, প্রথম কথা হচ্ছে, আমি বিজ্ঞানের এক্সপার্ট না। এক্সপার্টদের লেখা পড়ে এবং ডকুমেন্টারি দেখেই যেটুকু শিখেছি। একারণে যতটা সম্ভব তাদের দেয়া তথ্যগুলোকেই এ লেখায় এনেছি। নিচে তথ্যসূত্রও উল্লেখ করে দিয়েছি। এরপরও যদি কোন ভুল বা অসঙ্গতিপূর্ণ কিছু লিখে থাকি, কেউ ধরিয়ে দিলে কৃতার্থ হবো।
 
দ্বিতীয়ত, মহাবিশ্বের সবকিছুই আমরা জেনে ফেলিনি। একেকটা নতুন আবিস্কার আসলে আরও অনেক রহস্যের জাল বোনে। এরকম অনেক অজানা আছে যেগুলোর চূড়ান্ত সমাধান এখনো আমরা পাই নি। কিন্তু যেগুলোর উত্তর অনেকটাই আমাদের জানা, সেগুলোর ব্যাপারে “কিছুই জানি না” বলা তো একরকম ধৃষ্টতাই। এক্ষেত্রে যা আমরা জানি, সে প্রাসঙ্গিক তথ্যটুকু উল্লেখ না করে “আমরা কিছুই জানি না” বললে দর্শকের কাছে একটা ভুল মেসেজ পৌঁছায়। নাহিদ মূলত এ কাজটিই করেছেন এ পর্বে। তার কাছে এ বিষয়গুলো অজানা থাকতে পারে, বিজ্ঞানীদের কাছে নয়। তাই নিজে যেটা জানেন না, সেটা অন্য কেউ জানে না বলে দর্শকদের কাছে বিজ্ঞানকে যেভাবে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছেন তিনি, তার জবাব দেয়া দরকার। অন্য কাউকে এ কাজে এগিয়ে আসতে দেখি নি এ পর্যন্ত। তাই সীমিত জ্ঞান নিয়ে নিজেই নেমে পড়লাম কাজে। বৃষ্টিবালকের বক্তব্যগুলোকে পয়েন্ট আকারে লিখে সেগুলোকে ব্যাখ্যার চেষ্টা করেছি লেখায়।

১. ইউনিভার্স কত বড় বা কয়টা ইউনিভার্স – নোবডি নৌজঃ ইউনিভার্স কত বড় সে প্রশ্নের উত্তর পাবার আগে জেনে নেয়া জরুরি ইউনিভার্সের কতটুকু আমাদের পক্ষে জানা সম্ভব। প্রথমত, আমরা যেটা পরিমাপ করতে পারি, সেটা হচ্ছে অবজার্ভ্যাবল ইউনিভার্সের সাইজ। অবজার্ভ্যাবল ইউনিভার্স হচ্ছে আমরা পৃথিবী থেকে ঠিক যতদূর পর্যন্ত দেখতে পারি, সেটা। পৃথিবীতে বসে আমরা মহাবিশ্বের যেদিকেই তাকাই, ১৩.৮ বিলিয়ন বছরের আগেকার কিছু দেখতে পাব না, কেননা মহাবিশ্বের শুরুই হয়েছে সে সময়। সুতরাং বিগ ব্যাং এর কিছু সময় পরপরই উৎপন্ন কোন আলো যদি আজ আমাদের চোখে এসে পড়ে, এটাকে ঠিক এই ১৩.৮ বিলিয়ন বছর ধরেই এই পুরোটা পথ পারি দিতে হবে। তাহলে আমাদের দৃষ্টিসীমার সর্বোচ্চ দূরত্ব হওয়া উচিৎ ১৩.৮ বিলিয়ন আলোকবর্ষ, ঠিক? কিন্তু না। যেহেতু বিগ ব্যাং এর পর মহাবিশ্ব সম্প্রসারিত হচ্ছে, তাই ঐ আলো আমাদের চোখে এসে পৌঁছাতে পৌঁছাতেই তার উৎস আমাদের থেকে আরও দূরে সরে যাবে। আর সেই দূরত্বটা হচ্ছে প্রায় ৪৬ বিলিয়ন আলোকবর্ষ। আমাদের চারপাশে যদি আমরা একটা গোলক কল্পনা করি, যার কেন্দ্রে হচ্ছি আমরা, তাহলে আমাদের সর্বোচ্চ দৃষ্টিসীমা হচ্ছে কেন্দ্র থেকে এ গোলকের পৃষ্ঠের দূরত্ব, অর্থাৎ, ৪৬ বিলিয়ন আলোকবর্ষ। সুতরাং এই গোলক, তথা আমাদের অবজার্ভ্যাবল ইউনিভার্সের ব্যাস হচ্ছে এর দ্বিগুন অর্থাৎ ৯২ বিলিয়ন আলোকবর্ষ।[১]
 
এখন প্রশ্ন আসে – মহাবিশ্ব তাহলে কত বড়? এর উত্তর জানতে দেখতে হবে মহাবিশ্বের ক্রিটিক্যাল ডেনসিটি কত। এ ব্যাপারটিতে এসে বহুদিন পর্যন্ত বিজ্ঞানীরা ধন্দ্বে ছিলেন। সম্প্রতি এর উত্তরও আমরা পেয়েছি। খুব বেশি টেকনিক্যালিটিতে না গিয়ে সবচেয়ে সংক্ষেপে যেটা বলা যায় – নাসার WMAP মিশনে প্রাপ্ত একেবারে সাম্প্রতিক (২০১৩) অবজার্ভেশনাল ডাটা থেকে যে মডেল আমরা পেয়েছি, তাতে যাহাবিশ্ব আসলে অসীম, এর কোন শেষ নেই। মার্জিন অভ এররও খুবই নগন্য – মাত্র .৪%। [২]
 
মাল্টিভার্স মডেলেরও বেশ কয়েকটা ভার্শন আছে। কোনটাতে ইউনিভার্সের সংখ্যা অসীম, কোনটায় সসীম, কোনটাতে কোন এক হাইপারস্পেইস থেকে ইউনিভার্স তৈরি হয়, কোনটাতে ইউনিভার্সের মধ্যেই বাবল ইউনিভার্স তৈরি হয়, আবার কোনটাতে ব্ল্যাকহোলের ভেতরেই নতুন শিশু ইউনিভার্স জন্মায়। স্ট্রিং থিওরি মতে আমাদেরটার বাইরেও এরকম মহাবিশ্বের সংখ্যা হতে পারে ১০৫০০, অর্থাৎ, একের পরে আরও ৫০০টা শূণ্য লিখলে যতটি হয়, তার চাইতেও বেশি। এদের একেকটির বৈশিষ্ট্য (পড়ুন ফিজিক্যাল কনস্ট্যান্টগুলোর ভ্যাল্যু) হবে একেক রকম, আমাদেরটার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। থিওরি অনুযায়ী এ ইউনিভার্সগুলোর মধ্যে আবার কখনো কখনো সংঘর্ষও হতে পারে, যেটার ফলে আমাদের মহাবিশ্বের যে CMB রেডিয়েশন আছে, সেটার প্যাটার্নে পার্থক্য পরিলক্ষিত হবে। তবে এখনো পর্যন্ত এমন অবজার্ভেশন আমরা করতে পারি নি।
 
২. স্ট্রিং থিওরিতে ডিমেনশন ১১টাঃ ভুল। স্ট্রিং থিওরির ৫টা টাইপ আছে, সেগুলোর ডাইমেনশন দশটা করে। ১১টা ডিমেনশন আছে এম-থিওরিতে – এটা স্ট্রিং থিওরিগুলোকে এক করে প্রতিষ্ঠিত একটা থিওরি।[৩]
 
৩. আমাদের ইউনিভার্সে ডিমেনশন দেখি ৩টাঃ দৈনন্দিন জীবনে আমরা ৩টা ডিমেনশনই দেখি, কিন্তু বিশেষ পরিস্থিতে সময় সহ চারটাকেই অনুভব করা যায় – যেমন অতি উচ্চ গতি কিংবা প্রচণ্ড বেশি (বা কম) গ্র্যাভিটেশনাল পুলের উপস্থিতিতে। আইএসএস-এ মাসের পর মাস থাকা অ্যাস্ট্রোনটরা এভাবে প্রতিনিয়ত টাইম ট্র্যাভেল করে যাচ্ছেন।
 
৪. ১৩.৭ বিলিয়ন বছর আগে হয়ত একটা এক্সপ্লোশন হয়েছিল, স্টিফেন হকিং এর মতেঃ প্রথম ভুলটা বেশিরভাগ মানুষই করে – এমনকি বিগ ব্যাং এর তর্জমায় অনেকেই বৃহৎ বা মহাবিস্ফোরণ লেখেন। ব্যাং মানে আসলেই বিস্ফোরণ, তবে এ শব্দটার উদ্ভাবক আসলে এই তত্ত্বেরই অপনেন্ট, স্টেডি স্টেট মডেলের প্রবক্তা ফ্রেড হয়েল। এক রেডিও সাক্ষাৎকারে লেমাইত্রের মডেলকে ব্যাঙ্গ করে তিনি একে ‘বিগ ব্যাং’ নামে সম্বোধন করেছিলেন। এর থেকেই কীভাবে কীভাবে জানি এ নামটা একসময় জনপ্রিয় হয়ে যায়। এক্সপ্লোশন বা বিস্ফোরণের ক্ষেত্রে আসলে যেটা হয়, একটা নির্দিষ্ট স্পেইসের মধ্যে ম্যাটার বা পদার্থ ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু বিগ ব্যাং এর ক্ষেত্রে ব্যাপারটা এমন না। এক্ষেত্রে স্বয়ং স্পেইসেরই এক্সপ্যানশন বা সম্প্রসারণ ঘটে যার ফলে এর মধ্যকার পদার্থগুলোর মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়, অনেকটা ফুলতে থাকা বেলুনের উপরে আঁকা গ্যালাক্সিদের মতো। তাই এটা আসলে এক্সপ্লোশন নয়, স্পেইসের এক্সপ্যানশন।[৪] এর চাইতেও বড় ভুল যেটা নাহিদ করেছেন, সেটা হচ্ছে, মহাবিশ্বের সম্প্রসারণের এই তত্ত্ব স্টিফেন হকিং-এর নয়। অবশ্য ইতোমধ্যে বোধহয় বৃষ্টিবালক সেটা জেনেও গেছেন।
 
৫. এম্পটি স্পেইস কী জানি নাঃ আসলে অনেকটাই জানি। কোয়ান্টাম মেকানিক্সের সূত্র ধরে এটা বেশ আগে থেকেই আমরা জেনে আসছি যে, যেটাকে আপাত দৃষ্টিতে শূণ্য বলে ধরে নিই আমরা, সেখানেও একেবার শূণ্য থেকেই ভ্যাক্যুয়াম ফ্ল্যাকচুয়েশনের মধ্য দিয়ে প্রতিনিয়ত ভার্চুয়াল পার্টিকেল-অ্যান্টিপার্টিকেল পেয়ার তৈরি হয় এবং প্রায় সাথে সাথেই সেগুলো একসঙ্গে হয়ে আবার শূণ্যে মিলিয়ে যায়। মোদ্দা কথা, শূণ্য স্থান আসলে শূণ্য নয়।[৫]
 
৬. তিনভাগের দুইভাগ দেখি না, যেগুলোকে ডার্ক ম্যাটার বলা হয়ঃ আসলে মহাবিশ্বের ১০০ ভাগের ৯৫ ভাগই আমাদের অজানা। মাত্র ৪.৯ ভাগ হচ্ছে আমাদের দৃশ্যমান পদার্থ ও শক্তি। প্রায় ৬৮.৩% হচ্ছে ডার্ক এনার্জি আর ডার্ক ম্যাটার আছে প্রায় ২৬.৮% এর মতো।[১৪]
 
৭. প্রচুর পরিমানে এনার্জি পুলআউট করা হয়ঃ এনার্জি পুলআউট বলতে উনি কি গ্র্যাভিটেশনাল পুল বা মধ্যাকর্ষণের কথা বুঝাচ্ছেন? ধর্ম বা বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে ডার্ক ম্যাটারের আচরণ অনেকটা আমাদের দৃশ্যমান পদার্থের মতোই – এরাও পদার্থকে আকর্ষণ করে। ডার্ক ম্যাটারই মূলত গ্যালাক্সি এবং এর নক্ষত্রগুলোকে ধরে রেখেছে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এর অস্তিত্ব অনুভূত না হলেও গ্যালাক্টিক স্কেলে এর প্রভাব দেখতে পাওয়া যায়, তবে সরাসরি এই ডার্ক ম্যাটারকে দেখতে পাওয়া যায় না। এ কারণেই মূলত এ ম্যাটারকে ডার্ক ম্যাটার বলা হয়। কোন ডিটেক্টর দিয়েও একে সরাসরি ডিটেক্ট করা যায় নি এখন পর্যন্ত। ডার্ক এনার্জির ক্ষেত্রেও একই কথা – মহাবিশ্ব সম্প্রসারণের চক্রবৃদ্ধি হারের জন্য দায়ী এ শক্তির অস্তিত্বের ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই, তবে এখন পর্যন্ত একে সরাসরি ডিটেক্ট করা সম্ভব হয়নি।
 
৮. আমরা জানি না স্পেইস কী দিয়ে তৈরি, হয়ত অন্য একটা ডিমেনশন থেকে সেটা দেখা যেতে পারেঃ ব্যাপারটা ঠিক পরিষ্কার হলো না। ব্যাখ্যা যখন করতে পারেননি, এর স্বপক্ষে কোন রেফারেন্স দিলে ভালো করতেন।
 
৯. পুরো তারার ভর হয়ে যায় খুব ছোট একটা বস্তুঃ অবিভক্ত ভারতে জন্ম নেয়া সুব্রাহ্মনিয়ান চন্দ্রশেখর প্রথম বলেছিলেন আমাদের সূর্যের চেয়ে প্রায় ১.৪ গুণ বড় কোন নক্ষত্রের জ্বালানি শেষ হয়ে আসার মুহূর্তে এরা প্রচণ্ড এক বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে এদের বাইরের আবহাওয়ামন্ডলকে শূণ্যে ছুড়ে দেয়।[৬] এ বিস্ফোরণকে বলা হয় সুপারনোভা। সুপারনোভা বিস্ফোরন কীভাবে ঘটে একটু ব্যাখ্যা করলে বোধহয় খারাপ হয় না।
 
নক্ষত্রের মধ্যে প্রধাণ যে পদার্থটা থাকে সেটা হলো হাইড্রোজেন। মহাবিশ্বে এ পদার্থটির পরিমাণই সবচেয়ে বেশি। বিপুল পরিমাণ হাইড্রোজেন মধ্যাকর্ষণের টানে একত্রিত হয়ে তৈরি করে একটা বিশাল হাইড্রোজেনের গোলা। মধ্যাকর্ষণের ফলে এই গোলার কেন্দ্রের দিকে তাপ ও চাপ প্রচণ্ড বেড়ে গেলে তাতে শুরু হয় নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া। এ বিক্রিয়ায় দুইটা হাইড্রোজেন পরমাণুর নিউক্লিয়াস একত্রিত হয়ে তৈরি করে হিলিয়াম এবং বিপুল পরিমাণ শক্তি। এভাবেই তৈরি হয় একটি বিশাল নক্ষত্র। এ বিক্রিয়ার ফলে নক্ষত্রের কেন্দ্র বাইরের দিকে একটা চাপ প্রয়োগ করে। যতক্ষণ পর্যন্ত মহাকর্ষের ফলে উদ্ভূত ভিতরের দিকে চাপ এবং বিক্রিয়ার ফলে তৈরি বাইরের দিকে চাপ সমান থাকে, ততক্ষণ নক্ষত্রটা একটা ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় থাকে। কিন্তু যে মুহূর্তে নিউক্লিয়ার বিক্রিয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সমস্ত জ্বালানি শেষ হয়ে যায় তখন বাইরের দিকে চাপ দেয়ার মতো কিছু থাকে না। ফলে পদার্থগুলো সব ভেতরের দিকে কল্যাপ্স করে। এ সময় প্রচণ্ড তাপ ও চাপে নক্ষত্রের কোরে যত প্রোটন ও ইলেক্ট্রন থাকে, সেগুলো পরষ্পর যুক্ত হয়ে তৈরি করে নিউট্রন। এ অবস্থায় কেন্দ্রে নতুন এক ধরণের চাপের উদ্ভব হয় যাকে বলে ডিজেনারেসি প্রেশার। এটা তৈরি হয় ছোটবেলায় পড়ে আসা পাউলির বর্জন নীতি থেকে। এ চাপের দিক হচ্ছে ভেতর থেকে বাইরে। এর ফলে মধ্যাকর্ষনের প্রভাবে নক্ষত্রটি আর সংকুচিত তো হতে পারেই না, বরং নক্ষত্রের বাইরের দিকে যত পদার্থ থাকে, সবটাকে প্রচণ্ড শক্তিতে শূণ্যে নিক্ষেপ করে দেয়। এটাই হচ্ছে সুপারনোভা বিস্ফোরণ। এর ফলে কেন্দ্রে যেটা থেকে যায়, সেটার প্রায় সবটাই কেবল নিউট্রন দিয়ে গঠিত, যাকে বলা হয় নিউট্রন স্টার।[৭] এই ফাঁকে একটা মজার তথ্য দেই – আমরা আমাদের চারপাশে যত নিরেট বস্তুই দেখি না কেন, তাদের অনু বা পরমানুর বেশিরভাগ অংশই কিন্তু ফাঁকা। একটা হাইড্রোজেন পরমাণুর কথাই ধরুন, এর প্রায়  ৯৯.৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯৯৬% অংশই হচ্ছে ফাঁকা, তাই এর ঘনত্বও খুবই কম।[৮] কিন্তু যখন পরমাণু থেকে এর প্রোটন এবং ইলেক্ট্রনকে বের করে দেয়া যায়, তখন কেবল নিউট্রন দিয়ে গঠিত নিউক্লিয়াসের ঘনত্ব বেড়ে যায় বহু গুণ! তুলনা করলে হয়ত ব্যাপারটা আন্দাজ করতে পারবেন। একটি নিউট্রন স্টারের এক চা চামচ নিউট্রনের ভর হয় মিশরের গিজার সবচেয়ের বড় পিরামিডের ভরের ৯০০ গুণ!
 
১০. এবং একটি ব্ল্যাকহোল ক্রিয়েট হয়ঃ সূর্যের প্রায় ১.৪ গুণ থেকে বড় নক্ষত্রগুলো সুপারনোভা বিস্ফোরণে ধ্বংস হয়ে তৈরি করে নিউট্রন স্টার। তার ভর যদি আবার হয় সূর্যের ভরের প্রায় ৩ গুণের বেশি, তাহলে সেই নক্ষত্রের নিউট্রনগুলোর মধ্যাকর্ষণজনিত চাপ ডিজেনারেসি প্রেশারের চেয়েও বেশি হয়ে যায়। ফলে নক্ষত্রটি আরো সংকুচিত হয়ে নিজের মধ্যেই ধসে পড়ে, এবং তৈরি করে ব্ল্যাকহোল।[৯]
১১. ব্ল্যাকহোল এক্সিস্ট্‌স, ব্ল্যাকহোল আমরা টেলিস্কোপ দিয়ে দেখতে পাইঃ বিগ ব্যাং পর্বের সবচেয়ে বড় ভুল যদি হয়ে থাকে ম্যাটার-অ্যান্টিম্যাটার থেকে ইলেকট্রন এবং নিউট্রন সৃষ্টি, তাহলে এই পর্বে সবচেয়ে বড় ভুল সম্ভবত এটাই। ব্ল্যাকহোল আছে কোন সন্দেহ নেই, তবে একে আমরা কিছু দিয়েই দেখতে পাই না, এমনকি ভদ্রলোকের ফেভারিট হাবল টেলিস্কোপ দিয়েও নয়। ব্ল্যাকহোলের মধ্যাকর্ষণ এতই বেশি যে এটা যা পায় তাই নিজের মধ্যে টেনে নেয়, এবং যা একবার ব্ল্যাকহোলের সীমানার মধ্যে ঢোকে, তা আর ফিরে আসে না। এ সীমানাকে বলা হয় ইভেন্ট হরাইজন। এখান থেকে কোন রেডিয়েশন, এমনকি আলো পর্যন্ত বের হতে পারে না। আর আলোই যদি না বেরোয়, তাহলে দেখবো কীভাবে? এ কারণেই ব্ল্যাকহোলকে আমরা দেখতে পাই না, আর তাই এর নামটাও এরকম। তারপরও ব্ল্যাকহোলের অস্তিত্ব নিয়ে কোন সন্দেহ নেই – সত্যি বলতে, টেলিস্কোপ দিয়ে আশপাশের নক্ষত্রের উপরে এর প্রভাব দেখতে পাওয়া যায়। এ থেকে বুঝা যায় ব্ল্যাকহোল আছে। তাছাড়া ব্ল্যাকহোলের ইভেন্ট হরাইজনের সামান্য বাইরে ভ্যাকুয়াম ফ্ল্যাকচুয়েশনে যে পার্টিকেল-অ্যান্টিপার্টিকেল তৈরি হয়, তার থেকে কিছু অ্যান্টিপার্টিকেলকে ব্ল্যাকহোল খেয়ে নেয় এবং পার্টিকেল মুক্ত হয়ে রেডিয়েশন আকারে ছুটে যায়। একে বলা হয় হকিং রেডিয়েশন – এটাকে ডিটেক্ট করা যায়। এর থেকেও ব্ল্যাকহোলের অস্তিত্বের প্রমাণ মেলে।[৭]
 
হ্যাঁ, এটা সত্যি যে ব্ল্যাকহোলের ভিতরে কী আছে আমরা জানি না। প্রথম কারণ এর ভিতরে কেউ ঢুকে দেখে আসতে পারবে না কী হচ্ছে সেখানে। না দেখেও কেবল পদার্থবিজ্ঞানের সূত্রগুলোর সাহায্যেই আমরা অনেক কিছু বলতে পারি। কিন্তু বিগ ব্যাং এর মতো ব্ল্যাকহোল সিঙ্গুলারিটিতেও এ সূত্রগুলো আর কাজ করে না। এখন পর্যন্ত এমন থিওরি আসে নি যা দিয়ে এরকম সিঙ্গুলারিটিকে ব্যাখ্যা করা যায়।[৭][৫]
১২. আমরা এখনো জানি না কেন তারাগুলো এক্সপ্লোড করে, কেন ব্ল্যাকহোল ক্রিয়েট হয়ঃ কিছুই বলার নাই। তার বিন্দুমাত্র কোনো ধারণা নাই যে, এটা মহাকর্ষের কারণে ঘটে। কোন নক্ষত্র বিস্ফোরিত হবে, কোন নক্ষত্র কৃষ্ণগহ্বরে পরিণত হবে, সেটা নক্ষত্রের জন্মের সময়ই নির্ধারিত হয়ে যায় (নক্ষত্রের প্রাথমিক ভরের হিসেব থেকেই)।
 
১৩. একটা গ্রহ তো অন্তত থাকবে যেখানে অন্য ধরনের কোন প্রাণ আছেঃ কেবল গ্রহ না, উপগ্রহতেও প্রাণ থাকতে পারে। ড্রেক ইকুয়েশন দিয়ে কেবল আমাদের গ্যালাক্সিতেই কতগুলো সভ্যতা থাকতে পারে যার বুদ্ধিমান অধিবাসীরা রেডিও কমিউনিকেশনের ক্ষমতা রাখে, তার সংখ্যা বের করা যায়। সম্ভাব্যতাগুলোকে কিপ্টেমি করে ধরে হিসেব করলে সে সংখ্যাটা হয় ২০ এবং উদারভাবে ধরে হিসেব করলে হয় ৫ কোটি (ড্রেকের নিজের হিসাবে সংখ্যাটা ছিল ১০০০ থেকে ১০ কোটির মধ্যে)। এটা কেবল আমাদের গ্যালাক্সিতেই, তাও কেবল রেডিও কমিউনিকেশন করতে সক্ষম এমন বুদ্ধিমান প্রাণীর সভ্যতার ক্ষেত্রেই। আমাদের মিল্কিওয়ের বাইরে অবজার্ভ্যাবল ইউনিভার্সে এমন গ্যালাক্সি আছে ১০০,০০০,০০০,০০০ এর উপর।[১০] তাহলে এবার চিন্তা করুন, বুদ্ধিমান প্রাণী না থাকলেও কেবল প্রাণ থাকতে পারে এদের কয়টিতে। কী, মাথা ঘুরছে? সৃষ্টির সেরা জীব হয়ে এটুকুতেই মাথা ঘুরালে ক্যাম্নে কী?
 
১৪. যদি থেকেও থাকে, আমরা এখনো জানি না কেন। আমাদের তো জানা উচিত ছিল অর উই শুড বি কন্ট্যাক্টেড বাই দেমঃ এত সহজ না ভাইয়া। আমাদের নিজেদের গ্যালাক্সির মধ্যকার কোন বুদ্ধিমান প্রাণী একেবারে আলোর গতির ৯৯% গতিতে রওনা দিলেও আমাদের কাছে এসে তাদের পৌঁছাতে হাজার থেকে লাখ খানেক বছর সময় লেগে যেতে পারে। হয়ত ইতোমধ্যেই তাদের অনেকে রেডিও মেসেজ পাঠিয়েছে যেটা এখনো আমাদের কাছে এসে পৌঁছায় নি কিংবা হয়ত পৌঁছেছিলো কিন্তু সেটা গ্রহণ করার মতো রেডিও টেকনোলজি আমাদের তখনো ছিল না। বিজ্ঞানী এনরিকো ফার্মি তাঁর বিখ্যাত ফার্মি প্যারাডক্সে এরকম বলেছিলেন যে, আন্তঃনাক্ষত্রিক পরিভ্রমণে সক্ষম কোন বুদ্ধিমান প্রাণীর পক্ষে মাত্র ৩৭.৫ লক্ষ বছরের মধ্যেই সম্পূর্ণ মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সিকে উপনিবেশ বানিয়ে ফেলা সম্ভব।[১১] তারপরও এদের দেখছি না কেন? ওয়েল, অসংখ্য যুক্তি দিয়ে এটাকে ব্যাখ্যা করা সম্ভব। এমনও হতে পারে তাদের অনেকে আত্মবিধ্বংসী প্রযুক্তির ব্যবহার করে নিজেদের ধ্বংস করে ফেলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগের আগেই। প্রাকৃতিক দুর্যোগেও এরা ধ্বংস বা বিলুপ্ত হয়ে যেয়ে থাকতে পারে। কিংবা স্রেফ তাদের কোন ইচ্ছেই নেই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগের। সে যাইহোক, একথা অবশ্য নাহিদ ভুল বলেন নি যে আমরা এখনো জানতে পারি নি ভিনগ্রহে কোন প্রাণী আছে কি নেই। তবে থাকলেও যে তাদের সঙ্গে কন্ট্যাক্টেড হবার অত সম্ভাবনা নেই, সেটা বোধহয় উনি ভেবে দেখেন নি।
১৫. আমরা এখনো জানি না সময় নামে কোনকিছু আছে কিনাঃ কস কী মমিন! সময় আছে কিনা এইটা নিয়ে তো পাগল আর কিছু ভাববাদী দার্শনিক ছাড়া বোধহয় আর কারও সন্দেহ থাকার কথা না।
 
১৬. মহাবিশ্বের আগে কী ছিলঃ এই প্রশ্নটারও জবাব বোধহয় উনি কয়দিন আগেই পেয়ে গেছেন। ওখান থেকে যদি না বুঝে থাকেন তাহলে আমি আরেকবার বলি। বিগ ব্যাং এর সময়ই স্পেইস এবং টাইমের উৎপত্তি। তার আগে কোন সময় ছিল না। যেহেতু সময়ই ছিল না, তাই আগে কী ছিল এমন প্রশ্নের কোন অর্থ নেই। আরেকটু ব্যাখ্যা করলে বোধহয় পরিষ্কার হবে। আমাদের সামনে-পেছনে-উপরে-নিচে কিছু জিনিসকে নির্দেশ করতে ত্রিমাত্রিক স্পেইসকে রেফারেন্স হিসেবে ধরি। একইভাবে অতীত-ভবিষ্যৎ নির্দেশ করতে ব্যবহার করি সময়কে। যেহেতু বিগ-ব্যাং এর আগে কোন সময়ই ছিল না, তাই আগে কী ছিল সে প্রশ্ন অর্থহীন। একটা অ্যানালজি দিলে বোধহয় আরো ভালোভাবে বুঝবেন। ধরুন আপনাকে জিজ্ঞেস করা হলো উত্তর মেরুর উত্তরে কী আছে, পারবেন এর জবাব দিতে?
১৭. সায়েন্টিস্টরা এখনো কোন প্রমাণ, কোন রিজন খুঁজে পায় নাই কেন আমরা স্বপ্ন দেখিঃ আবারও ভুল। অনেক প্রমাণ আর রিজন আছে স্বপ্নের পেছনে। স্বপ্নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে ফাংশন জানা গেছে, সেটা হলো স্মৃতি সংরক্ষণ। অনেক পরীক্ষা থেকেই এ ধারণাটা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে স্বপ্ন দেখার মাধ্যমে আমাদের মস্তিষ্ক শর্ট-টাইম স্মৃতিগুলোর মধ্যে গুরত্বপূর্ণ যেগুলো, সেগুলোকে লংটার্ম মেমরি হিসেবে সংরক্ষণ করে। কেউ প্রশ্ন করতে পারে – এটা তো অন্যভাবেও সম্ভব ছিল, কিন্তু স্বপ্নের সময় সবকিছু দৃশ্যাবলির মতো ফুটে উঠতে হবে কেন? আসলে আমরা যা দেখি, শুনি, অনুভব করি, সবকিছুর জন্যই দায়ী আমাদের ব্রেইন অ্যাক্টিভিটি। ঘুমের মধ্যেও আমাদের মস্তিষ্ক সচল থাকে। ঠিক যে মুহূর্তে আমরা স্বপ্ন দেখা শুরু করি, স্মৃতি সংরক্ষণের ঐ মুহূর্তে ব্রেইন অ্যাক্টিভিটি অনেক বেড়ে যায়। আর এ কারণেই খুব সম্ভবত আমরা অদ্ভূত সব দৃশ্যাবলি দেখতে পাই যেগুলো আসলে সম্পূর্ণ অবাস্তব, আমাদের উত্তেজিত মস্তিষ্কের র‍্যান্ডম নিউরন ফায়ারিং এর ফলে অবচেতন মনের আজগুবি সব উদ্ভাবন।[১২]
১৮. আমরা এখনো জানি না কীভাবে ক্যান্সার কিউর করতে হয়ঃ আমরা জানি। ক্যান্সার কোষ কেটে ফেলে দিলেই ক্যান্সার নিরাময় করা যায়। এরপরও তাহলে মানুষ ক্যান্সারে মরে কেন? কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ক্যান্সারের সিম্পটম দেখা দেবার আগেই ক্যান্সার কোষগুলো এক বা একাধিক অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ে। ভাইটাল অঙ্গ হয়ে থাকলে সেটা কেটে ফেলার কোন উপায় থাকে না। এ কারণে কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, কেমোরেডিওথেরাপি, ফোটোকেমোথেরাপি ইত্যাদি নানারকম চিকিৎসার মাধ্যমে ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধিকে থামিয়ে রাখা কিংবা ধ্বংস করা হয়।
 
১৯. উই ডোন্ট হ্যাভ এনি ক্যান্সার ভ্যাক্সিনেশনঃ ক্যান্সার অনেক কারণে হতে পারে – ভাইরাস, ব্যাক্টেরিয়াল ইনফেকশন, রেডিয়েশন কিংবা রাসায়নিকের কারণে। ভ্যাক্সিন কাজ করে মূলত আমাদের ইম্যুন সিস্টেমকে নির্দিষ্ট ফরেন বডি, যেমন ভাইরাসে বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী করার মধ্য দিয়ে। ক্যান্সার সৃষ্টিকারী কিছু ভাইরাসের বিরুদ্ধে ভ্যাক্সিন ইতোমধ্যেই খুব কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। সব ক্যান্সারকে একটা ভ্যাক্সিন দিয়ে হয়ত ঠেকিয়ে দেয়া যাবে না কখনো। তবু চেষ্টা চলছে স্বয়ং ক্যান্সার কোষের বিরুদ্ধেই ভ্যাক্সিন তৈরি করা যায় কিনা তা নিয়ে।[১৩]
 

 
শেষকথাঃ নাহিদ সাহেব তো অবশ্যই, উনার যারা শুভাকাঙ্ক্ষী আছেন, তারাও হয়ত ভাবছেন ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে তার পেছনে লেগেছি। নিউক্লিয়ার বোমা নিয়ে তাদের শো-এর সর্বশেষ পর্বে একরকম ইঙ্গিত দিয়েই নাহিদ বুঝালেন যেন আমরা উনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছি। হ্যা, যুদ্ধে নেমেছি এটা ঠিক, তবে এ যুদ্ধ অপবিজ্ঞানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, অপবিশ্বাসে বুঁদ হয়ে থাকা কুসংস্কারাচ্ছন্ন এক সমাজে বিজ্ঞানকে প্রতিষ্ঠা করার যুদ্ধ। এ যুদ্ধে আমরা সৈনিক মাত্র, নাহিদরেইন্স কে, সেটা আমাদের কাছে বিবেচ্য না। ফেসবুকের ভেরিফাইড ইউজার নাহিদরেইন্সের মতো মহান লোকের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আমাদের মতো ছা-পোষা চুনোপুঁটি লেখকদেরকে দাঁড় করানোও কোন কাজের কথা না। আর তাছাড়া বিজ্ঞানযাত্রার ভিডিওটিকে মিথ্যা অভিযোগে ফেসবুক থেকে সরিয়ে দিয়ে এ যুদ্ধকে ব্যক্তিগত পর্যায়ে নামিয়ে আনার দায়টাও আসলে তারই। সে যাইহোক, বিজ্ঞানের সরণিতে সবার যাত্রা শুভ হোক, এ কামনাই রইলো!

 
তথ্যসূত্রঃ
৩. ব্রায়ান গ্রিন, দ্যা এলিগ্যান্ট ইউনিভার্স
৫. স্টিফেন হকিং, দ্যা গ্র্যান্ড ডিজাইন
৬. মুহম্মদ জাফর ইকবাল, একটুখানি বিজ্ঞান
৭. স্টিফেন হকিং, দ্যা থিওরি অভ এভরিথিং
৯. অভিজিৎ রায়, আলো হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী
১০. physics.org
১২. কার্ল সেগান, দ্যা ড্রাগন্স অভ ইডেন

Comments

আপনার আরো পছন্দ হতে পারে...

মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানান

সবার আগে মন্তব্য করুন!

জানান আমাকে যখন আসবে -
avatar
wpDiscuz