সহজ ভাষায় বস্তুর মাত্রাসমূহ

নিচে যে ব্যাপারগুলো বর্ণিত হবে সেগুলো বোঝার জন্য কোনো বিষয়ে কোনো জ্ঞান না থাকলেও চলবে। শুধু দুটো জিনিস থাকতে হবে – কল্পনা এবং গ্রহণ করার ক্ষমতা। আগে কল্পনা বা ইমাজিনেশনের ছবি এঁকে পরে সেটাকে লজিক দিয়ে ফিল্টার করতে হবে। আগেই লজিকের ফ্রেমে আটকে দিলে ব্যাপারটা বোঝা যাবে না। এ বিষয়ে আইনস্টাইনের একটা বিখ্যাত উক্তি দেয়া যায় – “The true sign of intelligence is not knowledge but imagination”।

ডাইমেনশনের ব্যাপারটা আমাদের কাছে সবসময়ই একটু অস্পষ্ট। আমরা ঠিক বুঝে উঠতে পারি না কোন ডাইমেনশনে কী হয়। এখানে সহজ ভাষায় সেটা বোঝানোর চেষ্টা করবো।

1

শুধুমাত্র একটা ডট, যার কোনো দৈর্ঘ্য নেই, প্রস্থ নেই।

2

সেই অসংখ্য ডট পাশাপাশি রেখে একটি লাইন নেয়া হলে সেটিই আমাদের ফার্স্ট ডাইমেনশন। অর্থাৎ একটা একক, আলাদা লাইন হবে ফার্স্ট ডাইমেনশন।

3

এখন যদি একাধিক লাইনকে পাশাপাশি রেখে একটা স্ট্রাকচার নেয়া হয়, তাহলে সেটা হবে তল (plane)। মানুষের চোখ এই ‘তল’ই দেখতে পারে এবং তলের উপর দিয়ে ট্রাভেল করে।

4

যদি একাধিক তলকে একটার ওপর একটা রেখে কোনো স্ট্রাকচার বানানো হয়, আমরা পাবো স্পেস। এটা হলো থার্ড ডাইমেনশন। উল্লেখ্য যে মানুষ অবস্থান করে এই থার্ড ডাইমেনশনে। কিন্তু থার্ড ডাইমেনশনে অবস্থান করলেও আমাদের চোখ দেখতে পারে শুধু মাত্র সেকেন্ড ডাইমেনশনের স্ট্রাকচার। থার্ড ডাইমেনশনের মধ্য দিয়ে দেখা সম্ভব হলে মানুষ দেয়ালের মধ্য দিয়ে দেখতে পেতো এবং দেয়াল ভেদ করে চলে যেতে পারতো।

[ফ্যাক্টসঃ কেউ যদি N-th ডাইমেনশনে থাকে, তার সব কার্যকলাপের পরিধি থাকবে (N-1)th ডাইমেনশনে। কিন্তু তার কার্যকলাপের প্রভাব পড়বে N-th ডাইমেনশনেই। যেমন, আমরা থাকি থার্ড ডাইমেনশনে কিন্তু দেখি সেকেন্ড ডাইমেনশন। আবার তলের উপর দিয়ে গমন করি। কিন্তু আমরা চাইলেও বস্তুর মধ্যে দিয়ে গমন করতে পারবো না]

ফোর্থ ডাইমেনশনের ফ্যাক্টস ভালো করে পড়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।

5

ফোর্থ ডাইমেনশনের ক্ষেত্রে নতুন করে স্ট্রাকচার যোগ করলে ব্যাপারটার কোনো মানে থাকে না। সেক্ষেত্রে স্ট্রাকচারের বদলে যোগ করা হবে সময় (মহাবিশ্বের অতি ক্ষুদ্র কোন মুহুর্ত)। অর্থাৎ যে ফোর্থ ডাইমেনশনের মধ্যে অবস্থান করবে, সে যেকোনো বস্তুর ভেতর দিয়ে চলাচল করতে পারবে এবং যেকোনো বস্তুর মধ্য দিয়ে দেখতে পারবে। ফোর্থ ডাইমেনশন হলো মহাবিশ্বের এই মুহূর্তের বর্তমান অবস্থা। সোজা কথায় “বর্তমান” বা “present state” হল ফোর্থ ডাইমেনশন। কারণ, আমাদের অনুভূত মহাবিশ্ব স্পেস এন্ড টাইমের এক সম্মিলিত অবস্থা। তাই আমাদের ইউনিভার্স ফোর্থ ডাইমেনশনাল। এখানে ফোর্থ ডাইমেনশন দেখার প্রশ্নটা আমাদের জন্য অপ্রাসঙ্গিক। কেউ যদি কখনো সবুজ রঙ দেখে না থাকে তাহলে সে কিভাবে আইডিয়া করবে যে সবুজ রঙ কেমন? তারপরো যদি কেউ প্রশ্ন করে, “ফোর্থ ডাইমেনশনে কী দেখা যায়?”, সেক্ষেত্রে বেসিক আইডিয়া হলো, অসংখ্য তল পাশাপাশি ও ওপর-নীচে যোগ করার পরও ফোর্থ ডাইমেনশনে সবগুলো object এর ভিতরের গঠনও আমরা দেখতে পাবো।

[ফ্যাক্টসঃ যে যেই ডাইমেনশনে অবস্থান করে সে তার চেয়ে এক ডাইমেনশন নীচে চলাচল করতে পারবে এবং দেখতে পারবে। সেক্ষেত্রে যে ফোর্থ ডাইমেনশনে থাকবে সে সরাসরি বস্তুর মধ্য দিয়ে চলতে পারবে অর্থাৎ সে হবে স্থান জয়ী। যেকোন স্থানে যেকোন মুহুর্তে সে যেতে পারবে। সুতরাং ইন্টারস্টেলার তো বটেই, ইন্টারগ্যালাক্টিক ট্রাভেল এর জন্যও আপাতভাবে ফোর্থ ডাইমেনশনের বিকল্প নেই। কারণ স্পেসের উপর জয় না করে আলোর গতিতেও এই ট্রাভেলগুলোতে এক মানব জীবন অতিবাহিত হয়ে যাবে]

6

এখন আসি ফিফথ ডাইমেনশনে। এই ব্যাপারটা আসলে মানুষের সীমা বা সেন্সের বাইরে। এই ডাইমেনশন হলো ফোর্থ ডাইমেনশন এবং এই মহাবিশ্বের যত সময় – তার সমন্বিত অবস্থা। এটা সবচেয়ে ট্রিকি। কারণ, এটাই একমাত্র অবস্থা, যেখান থেকে কেউ যেকোনো টাইমলাইনে ভ্রমণ করতে পারবে। অর্থাৎ বর্তমান থেকে অতীত কিংবা ভবিষ্যতে ভ্রমণ বা টাইম ট্রাভেল একমাত্র ফিফথ ডাইমেনশনেই সম্ভব। এখানে সময়ের মধ্য দিয়েই দেখা সম্ভব। কারণ ফোর্থ ডাইমেনশন হল সময় আর ফিফথ ডাইমেনশন হল মহাবিশ্বের সকল সময়, সব ইতিহাস, এখনো পর্যন্ত যত সময় হয়েছে বা হবে তার সমষ্টি। অর্থাৎ অসংখ্য ফোর্থ ডাইমেনশন।

যেহেতু ফিফথ ডাইমেনশনে থাকলেও সব কার্যকলাপের পরিধি থাকবে ফোর্থ ডাইমেনশনে, আবার যেহেতু ফোর্থ ডাইমেনশন হল সময়, তাই ফিফথ ডাইমেনশনে থাকাকালীন ফোর্থ ডাইমেনশন বা সময়ের উপর অবাধ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। এখান থেকে যেকোনো outcome সম্ভব। প্যারালাল ইউনিভার্স অর্থাৎ এক একটা সম্ভাবনার জন্য এক একটা এক্সিস্টেন্স এই ডাইমেনশনে থেকেই প্রত্যক্ষ করা সম্ভব। অর্থাৎ কী হতো যদি ছোটোবেলায় এই স্কুলে না গিয়ে ঐ স্কুলে যেতেন, অমুক তারিখে এই জিনিসটা না খেয়ে ঐ জিনিসটা খেতেন, যদি আপনার ভাইটা মারা না যেতো – ইত্যাদি দেখা সম্ভব। তার মানে অসীম সম্ভাবনার জগত (Parallel universe of infinite possibilities)। আমরাও এই প্যারালাল ইউনিভার্সের একটা পার্ট।

সিক্সথ ডাইমেনশন ব্যাপারটি আরো জটিল এবং বিস্তৃত। এখান থেকে যেকোনো সম্ভাব্য ইউনিভার্সে গমন সম্ভব। আমদের দৃশ্যমান ইউনিভার্স মাত্র ১৩.৮ বিলিয়ন বছরের পুরনো। তার মানে এই নয় যে, ১৩.৮ বিলিয়ন বছরের ওপারে কিছু ছিলো না। আমাদের এই ইউনিভার্স বাদেও আর যত সম্ভাব্য জগত আছে, এই ডাইমেনশনে থেকে সেগুলোতেও গমন সম্ভব। অন্য ইউনিভার্সের কথা অনেকের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটা বেশ যৌক্তিক। এটার নাম মাল্টিভার্স (ইন্টারনেট/বই ঘেঁটে আরেকটু স্পষ্ট হতে পারেন)। অর্থাৎ ইউনিভার্সের ভেতরে ও বাইরে আরো অনেক ইউনিভার্স। সিক্সথ ডাইমেনশনে থেকে এই মাল্টিভার্স ট্রাভেল সম্ভব। শুধু মাল্টিভার্স না, পাওয়া যাবে প্রত্যেক মহাবিশ্বের সকল ফিজিকাল বস্তু ও বস্তুর ধারণা, সব লজিক এবং ফিজিক্সের সূত্রের কনসেপ্ট ও তার অল্টারেশন এবং চূড়ান্তভাবে পুরো সৃষ্টির অস্তিত্বের ধারণা। এখান থেকে দেখলে সমগ্র সৃষ্টির কনসেপ্ট পাওয়া যাবে। এখান থেকে সৃষ্টি থাকা আর না থাকার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।

এই লেখাটা নিতে হয়তো অনেকরই কষ্ট হয়েছে। হয়তো অনেকে এই লাইন পর্যন্ত আসেন নি। কিন্তু এখানে কেবল একটা কথাই খাটে, It’s not how it works or looks like. It’s how you feel and understand it. It’ll come quite logically if you can feel it and try to, actually try to understand it.

***References:

Images – Wiki, 9gag

The Fourth Dimension – by David Yonggi Cho

Hyperspace – Book by Michio Kaku

Time Warps, and the Tenth Dimension, Part I, chapter 3

http://9gag.com/gag/aKgjqWg?ref=fb.s

https://en.wikipedia.org/wiki/Four-dimensional_space

Comments

আপনার আরো পছন্দ হতে পারে...

মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানান

4 মন্তব্য on "সহজ ভাষায় বস্তুর মাত্রাসমূহ"

জানান আমাকে যখন আসবে -
avatar
সাজান:   সবচেয়ে নতুন | সবচেয়ে পুরাতন | সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত
Md. Maniruzzaman
অতিথি

বিজ্ঞান যাতরা হোক সিক্সথ ডাইমেনশন

ঘুমকুমার
সদস্য

ছবিগুলো দেখা যাচ্ছে না। সম্ভবত ফেসবুকের পার্মিশন ইস্যু। imgur.com এ আপলোড করে দিলে ভাল হয়।

ফরহাদ হোসেন মাসুম
এডমিন

It is fixed, Sir. Please check it out.

Monir Hossen Misbah
সদস্য

খুব বেশি ভালো লাগলো হঠাৎ লেখাটি পেয়ে। অনেকদিনের জমানো প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেলাম। ধন্যাবাদ লেখাটির লেখককে।

wpDiscuz