বেচারা ডায়নোসর – পদার্থের তিন অবস্থা

tumblr_myg55bZyJ91ra7rzwo1_1280

ধারণা করা হয় ডাইনোসররা প্রায় ১৬ কোটি বছর ধরে পৃথিবীতে রাজত্ব করেছিল। প্রথম ডাইনোসরের বিবর্তন হয়েছিল আনুমানিক ২৩ কোটি বছর পূর্বে। ফসিলের নমুনা থেকে পেলিওন্টোলজিস্টগন(paleontologist বা ফসিল বিজ্ঞানী) প্রায় ৫০০ এর বেশী গণ এবং ১০০০ এর বেশি প্রজাতি শনাক্ত করেছেন। ডাইনোসরদের অনেকে ভেজিটারিয়ান আবার অনেকে মাংসাশী ছিলো। সবকটি মহাদেশে এদের ফসিল পাওয়া গেছে।

ক্রিটেশিয়াস যুগের শেষের দিকে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি বছর পূর্বে একটি ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় ডাইনোসরদের পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত করে দেয়। যদিও পাখিদের সাথে ডাইনোসরদের বিবর্তনিক যোগসূত্র খুঁজে পাওয়ার পর আমরা বলতে পারি ডাইনোসররা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যায়নি। তবে উড়তে অক্ষম সমস্ত ডাইনোসর এই বিপর্যয়ের হাত থেকে রেহাই পায়নি।

১৯৮০ সালে ওয়াল্টার আলভারেজ এবং তাঁর সহকর্মীগণের প্রবর্তিত ‘মহাজাগতিক সংঘর্ষ তত্ত্ব’ অনুযায়ী প্রায় ৬ কোটি ৬০ লক্ষ বছর পূর্বে মেক্সিকোর দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত উকাটান উপদ্বীপে ৩ থেকে ৯ মাইল বড় একটি উল্কা পতনের ফলে এবং সে থেকে সৃষ্ট ১৮০ কিমি চিক্সুলাব উল্কাখাত গঠিত হওয়ায় ডাইনোসরদের এই মহাবিলুপ্তি ঘটে।

কেউ কেউ বলেন সংঘর্ষের পর পৃথিবীব্যাপী বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে হ্রাস পেয়েছিল আর এই অবস্থা দীর্ঘ সময় ধরে বজায় ছিল।আবার কেউ কেউ বলেন বরং সংঘর্ষের সাথে সাথে পৃথিবীব্যাপী অস্বাভাবিক তাপপ্রবাহের সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

যে সমস্ত বিজ্ঞানী সংঘর্ষ তত্ত্বের সমর্থক তাঁরা এখন মোটামুটি একটা ঐকমত্যে এসেছেন এই বলে যে উল্কাটি প্রত্যক্ষ (সংঘর্ষের ফলে উৎপন্ন তাপের মাধ্যমে) ও পরোক্ষ (সংঘর্ষের ফলে ভূ-ত্বক থেকে ছিটকে ওঠা পদার্থকণা সূর্যরশ্মির অধিকাংশ মহাকাশে প্রতিফলিত করে দিয়ে পৃথিবীকে ঠাণ্ডা করে দেওয়ার ফলে) – দুই ভাবেই মহাবিলুপ্তির পথ সুগম করেছিল। যদিও শুধু জীবাশ্ম প্রমাণের উপর নির্ভর করে কত তাড়াতাড়ি এই বিলুপ্তি হয়েছিল তা বলা যায় না, তবুও সামগ্রিক বিবেচনাপ্রসূত একাধিক মডেল অনুযায়ী গোটা ঘটনাটা ঘটতে কয়েক বছর নয়, বরং কয়েক ঘণ্টা মাত্র লেগেছিল বলে অনুমান করা হয়।

অক্সিজেনের অনুপস্থিতিতে ফাইটোপ্লাঙ্গটন (phytoplankton) এবং জুপ্লাঙ্গটন (zooplankton) এর পচনের ফলে তা সমুদ্রে অথবা লেকে মাটির সাথে মিশে যায়। মিলিয়ন বছর পূর্বে অতিরিক্ত চাপে এবং তাপে তা পরে পেট্রোলিয়াম, অথবা প্রাকৃতিক গ্যাসে রূপান্তরিত হয়।

তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া

ছবি কৃতজ্ঞতা: scincejokesdaily

Comments

রবিউল হাসান

রবিউল হাসান

বরং দ্বিমত হও, আস্থা রাখ দ্বিতীয় বিদ্যায়। বরং বিক্ষত হও প্রশ্নের পাথরে। বরং বুদ্ধির নখে শান দাও, প্রতিবাদ করো। অন্তত আর যাই করো, সমস্ত কথায় অনায়াসে সম্মতি দিও না। কেননা, সমস্ত কথা যারা অনায়াসে মেনে নেয়, তারা আর কিছুই করে না, তারা আত্মবিনাশের পথ পরিস্কার করে।” -নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী

আপনার আরো পছন্দ হতে পারে...

মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানান

সবার আগে মন্তব্য করুন!

জানান আমাকে যখন আসবে -
avatar
wpDiscuz