এস্কালান্তে (Escalante) ন্যাশনাল মনুমেন্ট এর সুবিশাল সিঁড়ি

ইউটাহ’র এই মরুভূমি পৃথিবীর সবচেয়ে বিখ্যাত, বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকা একটি ভূতাত্ত্বিক নিদর্শনের একটি অংশ। আর সেই নিদর্শন হলো – দ্যা গ্র্যান্ড স্টেয়ারকেইস বা সুবিশাল সিঁড়ি। প্রায় দুই বিলিয়ন বছর ধরে জমতে থাকা প্রটোজয়িক যুগের এই পাললিক স্তর ছড়িয়ে আছে দ্যা গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন, জায়ন ন্যাশানাল পার্ক, আর ব্রাইস গিরিখাদের সুবিস্তৃত এলাকা জুড়ে। বিবর্তনের ধারাকে ভালভাবে বোঝার জন্য স্তরে স্তরে সজ্জিত প্রাকৃতিক এই স্থাপনাগুলো পৃথিবীর সবচেয়ে উৎকৃষ্ট উদাহরণ, যা সমস্ত ফ্যানেরোজোইক (Phanerozoic) যুগের প্রতিনিধিত্ব করছে।

1478953_604431389617909_1714157271_n

পৃথিবীর সর্বাধিক তথ্য সমৃদ্ধ এই বিস্তৃত পাললিক সিঁড়ির ধাপগুলোকে, ১৮৭০ সালে বিশিষ্ট ভূতাত্ত্বিক ক্লারেনস ডাটন (Clarence Dutton) পাঁচটি স্তরে নামকরণ করেন। এই পাঁচটি স্তর উত্তর আমেরিকার পশ্চিমাঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসকে পুনর্নির্মাণ করেছে। কলোরাডো প্লেট গঠনের সময়কালে (অর্থাৎ, Laramide orogeny এর সময়, যখন উত্তর আমেরিকার পর্বতগুলো গঠিত হচ্ছিলো, তখন) এই বিস্তৃত পাললিক ধাপগুলো ১.৫ থেকে ৩ কিমি উপরে উঠে এসেছিলো। ক্রিটাশিয়াস পরবর্তী যুগের শিলাগুলো ক্ষয়ে যাওয়ার পর, সাম্প্রতিক সময়কার আগ্নেয়শিলাগুলো সমস্ত জায়গাটা জুড়ে তার রঙিন দাগের চিহ্ন এঁকে রেখে গেলো।

Grand Staircase Monument, ব্রাইস ক্যানিয়ন ন্যাশানাল পার্কের পাশেই অবস্থিত। উত্তর থেকে দক্ষিণে কাইপারোউইটস (Kaiparowits) মালভূমির প্রভাব এর ওপর স্পষ্ট। পুবদিকে খাড়া চড়াইওয়ালা ঢাল, চোখ ধাঁধানো গিরিখাদ; আর পশ্চিমে মৃদু ঢালবিশিষ্ট পাহাড়। পুরো এলাকাটা জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে কোথাও উঁচু খাড়া পাহাড়, কোথাও মালভূমি, আর কোথাওবা ভিন্ন ভিন্ন আকৃতির বৈচিত্র্যময় পাথুরে স্তম্ভ।

রং-বেরং এর প্রলেপওয়ালা পাথুরে পাহাড়গুলো হল নাভাহো স্যান্ডস্টোন। শিলাগুলো তৈরি হতে আরম্ভ করেছিলো ট্রায়াসিক যুগের শেষ এবং জুরাসিক যুগের প্রথম দিক থেকে, কোন এক প্রাগৈতিহাসিক খাল বা হ্রদের ধার ঘেঁষে আর হুট করেই শেষ হয় সেনোযোইক (Cenozoic) যুগে। নাভাহো স্যান্ডস্টোন (প্রকৃতি নামক শিল্পীর রাসায়নিক রংতুলির ক্যানভাস শিরোনাম) নিয়ে আমাদের আরো একটা পোস্ট আছে।

ক্রিটাশিয়াস যুগের প্রচুর ফসিল আবিষ্কৃত হয়েছে এই এলাকায়, কিছু কিছু ৭৫ থেকে ৮০ মিলিয়ন বছর পুরনো। এদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে আবিষ্কৃত টাইরানোসরিড ডাইনোসোরও আছে, যার ডাকনাম The King of Gore. বলা হচ্ছে, এটাই নাকি এখানকার সবচেয়ে পুরনো ফসিল। আমেরিকার উত্তর বা দক্ষিণ ভাগের তুলনায় এই এলাকাটি ফসিল আবিষ্কারের জন্য বিভিন্নভাবে উপযুক্ত। দক্ষিণের চাইতে এই এলাকার বৃষ্টিপাত অনেক বেশি যা ফসিল খননের কাজ দ্রুতগামী করতে সাহায্য করে আর অল্প সংখ্যক গাছপালা এবং খোলা পাথুরে এলাকা হওয়ায় উত্তরের তুলনায় ফসিলগুলোর পচে যাওয়া বা ব্যাক্টেরিয়াল সংক্রমণ তুলনামূলক কম। এছাড়াও পাথরের ক্ষয়ে যাওয়া নকশাদার বুটিগুলোও ফসিল খুঁজে পেতে অনেক সাহায্য করে। ইউটাহ’র বৃষ্টিপাতের পরিমাণটা এমন যে, পাথর ক্ষয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট, কিন্তু জঙ্গল গড়ে ওঠার জন্য নয়। মেযোজয়িক যুগের পর পুরো পরিবেশ কিভাবে পরিবর্তিত হয়েছিল, তার অনেকখানিই পাথুরে ধাপের এই স্তম্ভগুলো আমাদের বলে দেয়।

এছাড়াও স্থানীয় অ্যামেরিকান- ফ্রিমন্ট এবং পাবলোয়ানদের বংশধরদের আঁকা চিত্রপটগুলোও জায়গাটিকে বেশ পরিচিত করেছে। দ্যা গ্র্যান্ড স্টেয়ারকেস এস্কালান্তে ন্যাশানাল মনুমেন্ট পরিচালনার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ভূমি ব্যবস্থাপনা ব্যুরোকে– অধিকাংশ ন্যাশনাল পার্ক অবশ্য ইউ.এস. ফরেস্ট সার্ভিসের ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস দ্বারা পরিচালিত হয়।

References:
Original post – by The Earth Story
Image credit: Bob Wick, Bureau of Land Management, California.
Geological cross section references: 1234

Comments

আপনার আরো পছন্দ হতে পারে...

মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানান

সবার আগে মন্তব্য করুন!

জানান আমাকে যখন আসবে -
avatar
wpDiscuz