চোখের সামনেই ঘটছে বিবর্তন! (শেষ পর্ব)

পর্ব ১ঃ এখান থেকে পড়তে পারেন।

পর্ব ২ঃ পড়তে পারেন এখান থেকে।

পর্ব ৩ঃ পড়তে পারেন এখানে।

গবেষণায় দেখা গেছে, যখন ব্যাকটেরিয়াকে আলাদা আলাদা পরিবেশে আটকে রাখা হয়, তখন তারা মাঝে মধ্যে কিছু অপকারী জেনেটিক মিউটেশনকে গ্রহণ করে। সেগুলো বংশ পরম্পরায় প্রবাহিত হতে থাকে এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ব্যাকটেরিয়া প্রজাতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে থাকে।

এ থেকেই বুঝা যায়, বিবর্তন প্রক্রিয়াটি আসলে কেমন! এটা শুধুমাত্র নতুন বৈশিষ্ট্য গ্রহণ আর উন্নতি সাধন নয়, এখানে নিজেকে ক্ষতিগ্রস্ত করারও বিরাট সুযোগ থাকে, বলেছেন ন্যান্সি মোরান

বিবর্তনের ফলে প্রাণীদের ক্ষমতা হ্রাস পেতেও দেখা যায়। যেমন, অন্ধকার গুহায় বসবাসরত প্রাণীদের দেখা গেছে দৃষ্টিশক্তি হারাতে। কি, অবাক লাগছে? লাগারই কথা। কারণ আমাদের চিন্তা এমন যে, বিবর্তন মানেই উন্নত বৈশিষ্ট্য।

এই চিন্তাটা প্রথম প্রকাশ করেছিলেন বিজ্ঞানী জন ব্যাপ্টিস্ট লামার্ক। তিনি ডারউইনেরও আগে বিবর্তনের ধারণা নিয়ে এসেছিলেন। বিবর্তন তত্ত্বের ইতিহাসে তার অবদান অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তার মতামত ছিল ডারউইনের চেয়ে ভিন্ন। তিনি ভেবেছিলেন, পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে চলার জন্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রাণীর বিবর্তন ঘটে। কারণ কোনো পরিবেশে বেঁচে থাকতে হলে ঐ পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানকে কাজে লাগানোর প্রয়োজন পড়ে। আর এজন্য প্রাণীরা স্বাভাবিকভাবেই নিজেদেরকে পরিবেশ অনুযায়ী উন্নত করতে চায়। অর্থাৎ কিনা, বিবর্তনের মাধ্যমে প্রাণী উন্নত বৈশিষ্ট্য লাভ করে। আর এই বৈশিষ্ট্য তাদের বংশধারায় প্রবাহিত হতে থাকে।

লামার্কের তত্ত্ব অনুযায়ী, জিরাফের গলা লম্বা হয়েছে কারণ তাদের পূর্বপুরুষেরা উঁচু গাছ থেকে খাদ্য সংগ্রহের জন্য গলাকে টান টান বা প্রসারিত করতে করতে একসময় লম্বা গলার অধিকারী হয়েছে। আর এই উপকারী বৈশিষ্ট্যটি পূর্বপুরুষের কাছ থেকে উত্তর পুরুষের কাছে প্রবাহিত হতে হতে এখন সব জিরাফের গলাই লম্বা।

জিরাফ কী করে তার লম্বা গলা পেলো?

জিরাফ কী করে তার লম্বা গলা পেলো?

স্টিভ জোন্সের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি, ডারউইন লামার্ককে একটি ব্যক্তিগত চিঠি লেখেন এবং বলেন যে, লামার্কের তত্ত্ব পুরাই ভুয়া। এটাকে পরীক্ষা করার কোনো উপায়ই নেই। আসলেই তো! প্রাণীরা নিজেদেরকে উন্নত করতে চায় মানে কী? আপনি কীভাবে এই ধারণাটি প্রমাণ করে দেখাবেন? কিন্তু লামার্কের তত্ত্বের বিকল্প হিসেবে ডারউইন যে তত্ত্ব দিলেন, সেটাকে বলা হলো “প্রাকৃতিক নির্বাচন বা ন্যাচারাল সিলেকশন”। এর মাধ্যমে জিরাফের লম্বা গলার সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা ব্যাখ্যা পাওয়া গেলো।

ব্যাখ্যাটা বুঝার জন্য আধুনিক জিরাফের পূর্বপুরুষ হিসেবে একটা প্রাণীকে কল্পনা করুন। দেখতে হয়তো কিছুটা হরিণ বা এন্টেলোপের মতো হবে। এখন, এই প্রজাতির প্রাণীর মধ্যে অবশ্যই সবার আকৃতি একরকম হবে না! কেউ হবে বড়সড়, কেউ ছোটখাট। কারও গলা হবে একটু লম্বা আকৃতির, আবার কারও ক্ষুদ্র। তো এরা যেখানে বাস করতো, সেখানে যদি ছোট এবং নিচু গাছের তুলনায় বড় এবং উঁচু গাছের পরিমাণ বেশি হয়, তাহলে যেসব প্রাণীর গলা অপেক্ষাকৃত লম্বা, তারাই বেশি বেশি খাদ্য সংগ্রহ করতে পারবে। ফলে তাদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ছোট গলার প্রাণীদের তুলনায় অনেক বেড়ে যাবে। আর বেঁচে থাকলে অবশ্যই তারা প্রজনন প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে, সন্তানাদি জন্ম দেবে। কয়েক প্রজন্ম পর দেখা যাবে, ঐ প্রজাতির প্রায় সব সদস্যের গলা তাদের পূর্বপুরুষের গলার চেয়ে কিছুটা হলেও লম্বা। এখন, যাদের গলা লম্বা, তারা আবারও ছোট গলার সদস্যদের চেয়ে বেঁচে থাকবে বেশি। ফলে বহু প্রজন্ম পর আমরা দেখতে পাবো, জিরাফের গলা ক্রমান্বয়ে লম্বাই হচ্ছে। কারণ ছোট গলাবিশিষ্ট পূর্বপুরুষদের বেঁচে থাকতে কষ্ট হতো, বেশি সংখ্যায় সন্তান উৎপন্ন করতে পারতো না, এবং এজন্য বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এই বিষয় নিয়ে প্রথম পর্বেও আলোচনা করা হয়েছিলো।

এখন আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে, কেন জিরাফের পূর্বপুরুষের মধ্যে কারও লম্বা আর কারও খাটো গলা ছিলো? কীভাবে এই আকৃতি এসেছিলো? তাহলে এর জবাবে বলতে হবে মিউটেশনের কথা। এক ধরণের মিউটেশনের ফলে লম্বা গলাবিশিষ্ট প্রাণীর জন্ম হয়েছিলো, অন্য ধরণের মিউটেশনের ফলে খাটো গলাবিশিষ্ট প্রাণীর জন্ম হয়েছিলো। তো, বুঝাই যাচ্ছে এসব মিউটেশন কোনো উন্নতি সাধন করার লক্ষ্য নিয়ে ঘটেনি। ঘটেছিলো একদম এলোমেলোভাবে। এর মধ্যে যে মিউটেশনের ফলে প্রাণী বাড়তি সুবিধা পেয়েছিলো, সে মিউটেশন টিকে গেছে। কিন্তু যে মিউটেশনের ফলে প্রাণী বাড়তি সুবিধা পায়নি, সে মিউটেশন নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।

13

ফিরে আসি জিরাফে। জিরাফের আকৃতি আসলেই চমকে দেওয়ার মতো। কেন? কারণ এরা এমন অঞ্চলে বাস করে, যেখানকার গাছগুলো লম্বা লম্বা এবং মাটি থেকে অনেক উঁচুতে পাতা ধরে। ফলে পাতার নাগাল পাওয়ার জন্য অবশ্যই জিরাফের গলা লম্বা হতে হবে। আর সত্যিই এদের গলা অনেক লম্বা। এতে মানুষজন দ্বিধায় পড়ে যায়। মনে করে, জিরাফ একটি নিখুঁতভাবে “ডিজাইনড” প্রাণী। কিন্তু আপনি যদি আরও ভেতরে অনুসন্ধান করেন, দেখবেন, একটার পর একটা ছোট ছোট পরিবর্তন ঘটার মাধ্যমে এই লম্বা গলার বৈশিষ্ট্য এসেছে।

মোরানের মতে, তখন আপনি বলবেন, ওহ! এটা তো নিখুঁতভাবে ডিজাইন করা নয়। বরং এটা একটা আকস্মিক পরিবর্তন, যেটা প্রজাতির ভেতর ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম হয়েছিলো, এবং পরবর্তীতে আরেকটা আকস্মিক পরিবর্তন ঘটতে সাহায্য করেছিলো।

আমাদের হাতে এখন সব ধরণের প্রমাণই আছে যে, জীবন বিবর্তিত হতে হতে আজ এই পর্যায়ে এসেছে। তবে কিনা, মানুষের বিবর্তনের কাহিনি সবসময়ই কিছু মানুষের পেটে হজম হয়নি। Descent with modification নামক যে প্রক্রিয়াটি জীনের মধ্যে এলোমেলো মিউটেশনের কারণে ঘটে থাকে, এবং যার ফলে প্রজাতির মধ্যে ধীরে ধীরে বিভিন্ন পরিবর্তন আসতে থাকে, সেটি চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে নতুন প্রজাতি উৎপন্ন করে। এই প্রক্রিয়াটিকে ঘটতে সাহায্য করে প্রাকৃতিক নির্বাচন নামক আরেকটি প্রক্রিয়া। কীভাবে? পরিবেশে টিকে থাকার ক্ষেত্রে কম সামর্থ্যযুক্ত প্রজাতিকে বিলুপ্ত করে দেওয়ার মাধ্যমে।

তো, আসুন উপরের সবগুলো ব্যাখ্যা বা বিশদ আলোচনাকে আমাদের অর্থাৎ মনুষ্য প্রজাতির উপর প্রয়োগ করি!

"দা ট্রি অফ লাইফ" বা জীবনবৃক্ষ। আমরা এই গাছের "কর্ডাটা" ডালের একটা পাতা আর কি!

“দা ট্রি অফ লাইফ” বা জীবনবৃক্ষ।
আমরা এই গাছের “কর্ডাটা” ডালের একটা পাতা আর কি!

ক্রিস স্ট্রিংগারের মতে, যদিও মানুষের বিবর্তন মেনে নেওয়া অনেকের জন্য কঠিন, তবুও এর থেকে দূরে সরে থাকা বা একে অস্বীকার করাটাও ভীষণ রকমের অসম্ভব!

সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ার আগে আফ্রিকা মহাদেশে মানুষ প্রজাতিটির উদ্ভব হয়েছিলো। ফসিল রেকর্ডের মাধ্যমে জানা যায়, এইপ প্রজাতির কিছু প্রাণী (যারা চার পায়ে চলাফেরা করত) থেকে ক্রমান্বয়ে দোপেয়ে প্রজাতির উদ্ভব ঘটেছে, যারা আবার কালের বিবর্তনে দেহের তুলনায় বড় মস্তিষ্কের অধিকারী হয়েছে। মানবজাতির প্রথম দিককার সদস্যরা, যারা আফ্রিকা মহাদেশ থেকে বেরিয়ে এসেছিলো, তারা অন্যান্য হমিনিন (hominin) প্রজাতির সদস্যের (যেমনঃ নিয়েন্ডারথাল) সাথে প্রজননে অংশ নেয়। ফলে ইউরোপিয়ান এবং এশিয়ানদের ডিএনএতে নিয়েন্ডারথাল জীন দেখা যায়। কিন্তু বিশুদ্ধ আফ্রিকানদের মধ্যে এটা পাওয়া যায় না।

নিয়েন্ডারথাল (বামে) এবং আধুনিক মানুষের (ডানে) খুলি।

নিয়েন্ডারথাল (বামে) এবং আধুনিক মানুষের (ডানে) খুলি।

যদিও এই ঘটনা হাজার হাজার বছর আগে ঘটেছিলো, তবুও কাহিনির এখানেই শেষ নয়। আমরা এখনও বিবর্তিত হচ্ছি! কি, বিশ্বাস হল না?

উদাহরণটা দেখুন।

১৯৫০ সালে ব্রিটিশ ডাক্তার অ্যান্থনি অ্যালিসন “সিকেল সেল এনেমিয়া (sickle-cell anemia)” নামক একটি জেনেটিক রোগ নিয়ে গবেষণা করছিলেন। নামটি এসেছে সিকেল বা কাস্তে থেকে। কারণ এই রোগে লোহিত রক্তকণিকার আকার কাস্তের মতো হয়ে যায়। এটি আফ্রিকার কিছু জনগোষ্ঠির মধ্যে ঘটা একটা সাধারণ রোগ।

স্বাভাবিক অবস্থায় লোহিত রক্তকণিকা অক্সিজেন বহন করে দেহের বিভিন্ন অংশে পৌঁছে দেয়। কিন্তু এই রোগে আক্রান্ত মানুষের বেলায় লোহিত রক্তকণিকা এই কাজটি করে না। অ্যালিসন আবিষ্কার করলেন, পূর্ব আফ্রিকায় দুই ধরণের জনগোষ্ঠি দেখা যায়। এক, যারা নিচুভূমিতে বাস করে এবং সিকেল সেল এনিমিয়া হওয়ার ঝুঁকি যাদের বেশি; দুই, যারা উঁচুভূমিতে বাস করে এবং এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি যাদের নেই। এরপর দেখা গেলো, যাদের দেহে সিকেল সেল এনিমিয়া হওয়ার জীন বিদ্যমান, তারা একটা অপ্রত্যাশিত সুবিধা পাচ্ছে। সুবিধাটা হল, এই জীন তাদের ম্যালেরিয়ার হাত থেকে রক্ষা করছে। আর একে সুবিধা বলার কারণ? কারণ নিচুভূমিতে সবচেয়ে প্রাণনাশী রোগ হল ম্যালেরিয়া! নিচুভূমিতে বাস করা জনপদের জন্য তাই সিকেল সেল মিউটেশনের বাহক হওয়াটা “শাপে বর”। যদিও এই মিউটেশনের কারণে তারা এবং তাদের সন্তানেরা রক্তাল্পতায় ভুগতে পারে, তবুও এটা তাদের জন্য উপকারী।

কাস্তের মতো আকৃতির যে লোহিত রক্তকণিকা দেখছেন, সেটিই সিকেল সেল। এর কারণেই ঘটে সিকেল সেল এনেমিয়া।

কাস্তের মতো আকৃতির যে লোহিত রক্তকণিকা দেখছেন, সেটিই সিকেল সেল। এর কারণেই ঘটে সিকেল সেল এনেমিয়া।

অপরদিকে যারা উঁচুভূমিতে বাস করে, তারা ম্যালেরিয়ার ঝুঁকিতে নেই। ফলে সিকেল সেল মিউটেশন বহন করলে তাদের কোনো উপকার তো হবেই না, বরং রক্তাল্পতা ঘটে অপকারই হতে পারে। তাই এই বৈশিষ্ট্য বা ট্রেইট-টি এই জনপদ থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

অবশ্যই আপনাদের মনে বিবর্তন সংক্রান্ত আরও অনেক প্রশ্ন আছে, যেগুলোর উত্তর আমরা এখানে দিইনি। যেমন, স্ট্রিংগার প্রশ্ন করেছেন, “কোন জেনেটিক পরিবর্তনের জন্য মানুষ সোজা হয়ে হাঁটতে শিখেছিল? আর কেনই বা এই মিউটেশন এতো সফল হয়েছিলো?” বেশ! এই উত্তর এখনও আমাদের অজানা। তবে আরও ফসিল এবং উন্নততর জেনেটিক বিদ্যার মাধ্যমে আমরা অবশ্যই এই উত্তর খুঁজে পাবো।

তবে আমরা যা নিশ্চিতভাবে জানি তা হল, বিবর্তন একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া বা ঘটনা। এটিই পৃথিবীতে হরেক রকম প্রাণের ভিত্তি। তাই পরবর্তীতে যখন বাসার বাইরে বের হবেন, চারদিকে তাকিয়ে একটু দেখবেন গাছপালা আর পশুপাখিকে। চিন্তা করবেন, কীভাবে এরা আজকের এই অবস্থানে এলো। কারণ ছোট পিঁপড়া থেকে শুরু করে বিশাল হাতি, সব্বাই-ই প্রাচীন এক পরিবারের সাম্প্রতিকতম সদস্য। এদের পূর্বপুরুষের ধারা চলে গেছে আজ থেকে তিন বিলিয়ন বছরেরও আগে… যখন দুনিয়ায় প্রথম প্রাণের উৎপত্তি ঘটেছিলো। একই কাহিনি ঘটেছে আপনার ক্ষেত্রেও!

মূল প্রবন্ধঃ How do we know that evolution is really happening? 

Comments

আপনার আরো পছন্দ হতে পারে...

মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানান

4 মন্তব্য on "চোখের সামনেই ঘটছে বিবর্তন! (শেষ পর্ব)"

জানান আমাকে যখন আসবে -
avatar
সাজান:   সবচেয়ে নতুন | সবচেয়ে পুরাতন | সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত
আব্দুস সালাম
অতিথি

যেখানে জিরাফ থাকত সেখানে কি অন্য কোন প্রানী থাকত না? শুধু জিরাফই কেন উচু হল?

S. A. Khan
সদস্য

আপনার তাহলে মূল বিষয়টা ধরতে ভুল হয়েছে।

জিরাফই উচু হল নয়। “জিরাফ প্রজাতির মধ্যে উচু জিরাফরাই প্রাকৃতিক নির্বাচনের ফিল্টারে প্রকৃতিতে টিকে রইল”।

Raihan@
সদস্য

হ্যালিশন এর বিষয়টা নিয়ে আরুকটু বিস্তারিত আলোচনা করলে ভাল হতো

wpDiscuz