ফুড এলার্জির জন্য দায়ী নিয়ান্ডারথাল, দেনিসোভানদের জিন

Photo credit: Mladen Mitrinovic/Shutterstock

Photo credit: Mladen Mitrinovic/Shutterstock

আপনি যদি কোন ফুড এলার্জিতে ভোগেন তাহলে এর জন্য আপনি আপনার নিয়ান্ডার্থাল বা দেনিসোভান পূর্বপুরুষকে দায়ী করতে পারেন। (অতীতে আমাদের মূল পূর্বপুরুষ আধুনিক মানুষের সাথে অন্যান্য প্রাচীন মানব প্রজাতি যেমন নিয়ান্ডারথাল, দেনিসোভানদের মধ্যে যৌনসম্পর্ক হয়। তাই আমাদের দেহে তাদের থেকে পাওয়া বেশ কিছু জিন চলে এসেছে।) ভিন্ন প্রজাতির মধ্যে এই যৌনসম্পর্কের কারণে পাওয়া আমাদের জিনোমের সামান্য অংশ কিছু মানুষকে অত্যন্ত সক্রিয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা (hyper alert immune system) দান করেছে। যার ফলে তাদের শরীরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা কাজ করে, এবং নিরীহ ও ঝুঁকিহীন পরাগরেণু বা খাবার এর জন্য শরীরে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
ইউরোপীয় বংশোদ্ভুত মানুষের শরীরের জিনোমের ১ থেকে ৬ শতাংশ এসেছে নিয়ান্ডারথালদের থেকে। যদিও ঠিক কোন ক্ষেত্রে মানুষ ও নিয়ান্ডারথালদের মধ্যে যৌনসম্পর্ক হয়েছিল তা আমরা এখনও জানি না, সোসাইটি ফর মলিক্যুলার বায়োলজি এন্ড ইভোল্যুশন কনফারেন্সে ম্যাক্স প্লাংক ইনস্টিটিউট ফর ইভোল্যুশনারি এনথ্রোপলজি এর Dr. Michael Dannemann একটি প্রমাণ হাজির করেন যাতে দাবি করা হয়, প্রাচীন মানুষদের (নিয়ান্ডারথাল, দেনিসোভান ইত্যাদি প্রাচীন এবং এখন বিলুপ্ত এমন মানব প্রজাতি) থেকে পাওয়া এই উত্তরাধিকার আমাদের ডিএনএ -তে বেশ সহজলভ্য। এটা একটা প্রোটিন যা সম্ভাব্য বিপদে শরীরের প্রতিক্রিয়ার সূচনা ঘটায়।
Dr. Dannemann তার কাজটি American Journal of Human Genetics জার্নালে প্রকাশ করেন। একই সংস্করণে আরেকটি প্রবন্ধে ভিন্ন পথ হয়ে একই উপসংহার টানা হয়েছিলো।
Dr. Dannemann এবং পাস্তুর ইনস্টিটিউট এর Dr. Lluis Quintana-Murci উভয়েই দ্বিতীয় প্রবন্ধটির লেখক। তারা উপসংহার টানেন যে TLRs এর নিয়ানডারথাল জিন বেশি শক্তিশালীভাবে প্রকাশিত হয় যার ফলে বেশি শক্তিশালী প্রতিরোধ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।
Janet Kelsi (Dannemann এর একজন সহযোগী গবেষক) বলেছেন, “আমরা দেখতে পেয়েছি যে মানুষের সাথে নিয়ান্ডারথাল ও ডেনিসোভানদের মধ্যে যৌন সম্পর্ক আমাদের আজকের জিনোমের জিনগত বৈচিত্র্যে প্রভাব ফেলেছে তিনটি জিন এর মাধ্যমে যা হিউম্যান TLR ফ্যামিলির অন্তর্গত।” এদের মধ্যে TLR1 এবং TLR6 এসেছে নিয়ান্ডারথালদের থেকে। আর TLR10 মিলে যায় দেনিসোভানদের সাথে। দেনিসোভানরাও একটি প্রাচীন মানব প্রজাতি যারা সাইবেরিয়াতে বসবাস করত এবং আধুনিক মানুষ ও নিয়ান্ডারথালদের সাথে যৌনসম্পর্ক করেছিলো।
Quintana-Murci বলেন, “এই ইমিউনিটি জিনগুলো কোডিং জিনোমের অন্য জিনগুলোর চেয়ে অধিক পরিমাণে নিয়ান্ডারথাল বৈশিষ্ট্য দেখায়।”
Quintana-Murci এর এই তিনটি TLR এর কাজ ছিলো এই সম্পূর্ণ প্রোজেক্ট এর একটা অংশ মাত্র। পেপারটি আরও রিপোর্ট করে যে, ইমিউন সিস্টেমের টারগেটিং কোডিং ভেরিয়েশন এর বেশির ভাগ এডাপটেশন বা অভিযোজনই হয়েছে গত ৬,০০০ থেকে ১৩,০০০ বছরের মধ্যে যে সময়টাতে মানুষেরা শিকারী-সংগ্রহকারী সমাজ থেকে কৃষিভিত্তিক সমাজে পদার্পণ করেছিলো। Dannemann এবং Kelso বিলুপ্ত হিউম্যান স্পিসিজ বা মানব প্রজাতিগুলোর জেনেটিক ইনহেরিটেন্স নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করেন। তারা দেখেন TLR জিনগুলো অদ্ভুতভাবে হাই ফ্রিকুয়েন্সি বিশিষ্ট একটা সংস্করণ দেখায় যা নিয়ান্ডারথাল ও দেনিসোভান মানবের সাথে মিলে যায়।
সংক্রামক রোগগুলো মানুষের মৃত্যুর জন্য খুবই সাধারণ একটা কারণ ছিলো, বিশেষ করে এন্টিবায়োটিক ও প্রতিষেধক আবিষ্কারের পূর্বে। আর তাই প্রতিরোধ ব্যবস্থা যথেষ্ট বিবর্তনগত চাপের মধ্যে ছিলো। দুর্বল প্রতিরোধ ব্যবস্থাযুক্ত মানুষেরা তাদের জিন পরবর্তী প্রজন্মে প্রবাহিত করতে পারতো না বললেই চলে। সুতরাং এই ভিন্ন মানব প্রজাতির মধ্যে হওয়া এই যৌনতায় উপকারী জিনগুলোই প্রবাহিত হয়েছিলো।
Kelso বলেন, নিয়ান্ডারথালরা ইউরোপ ও পশ্চিম এশিয়ায় আধুনিক মানুষ আসার পূর্বে প্রায় ২০০,০০০ বছর ধরে বসবাস করেছে। তারা সেই অঞ্চলের জলবায়ু, খাদ্য, আর জীবাণুগুলোর সাথে খুব ভালভাবেই খাপ খাইয়ে নিয়েছিলো। এই প্রাচীন মানুষের সাথে যৌনমিলনের ফলে আমরা আধুনিক মানুষেরা এই সব উপকারী অভিযোজনগুলো লাভ করেছি। উপকারের প্রমাণ হিসেবে Dannemann এবং Kelso খুঁজে পেয়েছেন যে, অন্যান্য প্রজাতির জিন নেয়া মানুষের দেহে কম পরিমাণে Helicobacter pylori ব্যাকটেরিয়া থাকে। এই ব্যাক্টেরিয়াগুলোর কারণে পাকস্থলিতে আলসার হতে পারে।
যদি TLR1 এবং TLR6 এর নিয়ান্ডারথাল সংস্করণগুলো সম্পূর্ণভাবে উপকারী হতো, তাহলে এটা মানুষের বংশগতিতে প্রধান জিনের আসন গ্রহণ করতো। কিন্তু সেই জিনগুলোর উত্তরাধিকারীদেরকে তাদের প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য মূল্য দিতে হয়েছিল এলার্জির প্রতি বেশি সংবেদনশীলতার মাধ্যমে, যার ফলেই সম্ভবত আজকের দিনে এই জিনের একাধিক সংস্করণ টিকে আছে।
 The frequency of Neanderthal-like DNA (orange or green) for TLRs by region of origin. Dot size is proportional to the number of individuals sampled. Credit: Dannemann et al./American Journal of Human Genetics 2016

The frequency of Neanderthal-like DNA (orange or green) for TLRs by region of origin. Dot size is proportional to the number of individuals sampled. Credit: Dannemann et al./American Journal of Human Genetics 2016

সূত্রঃ 

Comments

আপনার আরো পছন্দ হতে পারে...

মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানান

সবার আগে মন্তব্য করুন!

জানান আমাকে যখন আসবে -
avatar
wpDiscuz