”বৃহত্তম উড়ন্ত পাখির জীবাশ্ম চিহ্নিত”

বিজ্ঞানীরা বৃহত্তম উড়ন্ত পাখির জীবাশ্মের দেহাবশেষ সনাক্ত করেছেন।

1

এই জীব স্টেরয়েড দেখতে গাংচিলের মতো লাগছিলো – তার পঙ্খপলব ৬.১ থেকে ৭.৪ মিটার (২০ – ২৪ ফুট) এর মধ্যে ছিলো। এই সন্ধানটি সায়েন্সেস ন্যাশনাল একাডেমি প্রসিডিংস এর মধ্যে প্রকাশিত হয়। ২৫ বছর বয়েসী এই জীবাশ্ম দক্ষিণ ক্যারোলিনার মধ্যে ৩০ বছর আগে খোঁজ করা হয়েছিলো, কিন্তু এখন পর্যন্ত এটিকে নতুন প্রজাতি হিসেবে গ্রহণ করতে অসুবিধা হচ্ছিলো এর চিহ্নিতকরণ প্রক্রিয়ার কারণে।

ড্যানিয়েল কেস্যপকা (কানেটিকাট ব্রুস মিউজিয়ামে বিজ্ঞানের অধ্যক্ষ) বলেন,“এই জীবাশ্মের আকার অসাধারণ যা এই জীবাশ্ম আবিষ্কার এর পূর্বে কল্পনাতীত ছিল এবং সংরক্ষণের জন্য উল্লেখ্যযোগ্য একটি আবিষ্কার, বিশেষ করে এর সূক্ষ্ম মস্তিষ্ক। আবিষ্কৃত নমুনা এবং হাড়ের দুর্বল প্রকৃতিকে দেখার পর বুঝা যায় যে এটি ধ্বংস হচ্ছে না বরং পানির নিচে কবর হয়ে ওঠেছে এবং এটি সমুদ্রের নীচে জীবাশ্মের আবর্জনা হওয়ার এবং ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ার আগে আবিষ্কৃত হয়েছে।”

Argentavis magnificens surpasses-এর বিশ্বাস যে এটি পূর্ববর্তী রেকর্ডকৃত দক্ষিণ আমেরিকার একটি কন্ডর (দক্ষিণ আমেরিকার এক শ্রেণীর বড় শকুন)এর মত বিশাল পাখি। প্রায় ছয় মিলিয়ন বছর আগে বসবাস করতো যার আনুমানিক পঙ্খপলব ৫.৭-৬.১মি (১৯-২০ফুট)।

বলা হচ্ছে এটা বৃহত্তম জীবন্ত চারণ পাখি Albatross এর দ্বিগুণ আকার সম্পন্ন। বিজ্ঞানীরা একে Pelagornis sandersi নামে নামকরণ করেন। Albatross-এর মত এটি সামুদ্রিক পাখি। এটি অধিকাংশ সময় সমুদ্রের উপর উড়ে বেড়াত মাছ ধরার জন্য। ব্রুস মিউজিয়ামের কিউরেটর ড্যানিয়েল কেস্যপকা জীবাশ্মটিকে “দর্শনীয়” বলে অভিহিত করেন। তাত্ত্বিক মডেল বলে সমুদ্রের উপর বায়ুর মধ্যে দিয়ে ওড়ার সময় এই মাপের একটি পাখির জন্য অনেকটা চতুর হতে হবে তার ডানা ঝাপটানোর জন্য ।গবেষকরা বিশ্বাস করেন এটি সমুদ্রের উপরে উড্ডীন বায়ু স্রোত ব্যবহার করত। তার দীর্ঘ, সরু পঙ্খপলব এবং হালকা, ফাঁপা হাড় এটিকে একটি শক্তিশালী পাখি তৈরি করতে সাহায্য করেছে।

“এটা আরও দ্রুত এবং খুব দক্ষ হতে পারত,” ড. কেস্যপকা বলেন, “এটা সম্ভবত প্রতি সেকেন্ডে ১০মি থেকে অধিক উপরে উঠার জন্য গতি অর্জন করতে পারে প্রায় ১০০মি ড্যাশ এর জন্য মানুষের বিশ্ব রেকর্ডকে দ্রুত ছাড়িয়ে যেতে পারে।”

2

জমির উপর যদিও সামুদ্রিক পাখিরা সম্ভবত অনেক কম লক্ষণীয় ছিল। এই পাখি সম্ভবত কেলিফোনিয়া কোডর এবং বিশারকার Albatross চেয়ে বড় হবে…… California condor (বামে) এবং Albatross (ডানে)।

“সম্ভবত এটি কাছাকাছি জায়গাগুলোতে উড়তে যতটা সম্ভব অল্প সময় ব্যয় করতো নইলে দীর্ঘ পাখা নিয়ে উড়ার সময় কষ্টকর হতো তাদের এবং নামার সময়ও একটা বেয়াড়া ব্যাপার হতো।” ড. কেস্যপকা ব্যাখ্যা করেন। কম্পিউটার মডেল প্রকাশ করে যে এই পাখি নামার সময় সহজভাবে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারতো না এবং তার পাঙ্খপলব ঝাপটানো বন্ধ করতে পারতো না।

এই বিশাল পাখির মত অগণিত পাখির আকাশে উড়ে বেড়ানো এক সময় সাধারণ ব্যাপার ছিল, কিন্তু তারা প্রায় তিন মিলিয়ন বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। আকাশের এই দৈত্যস্বরূপ পাখিগুলো কেমন করে মারা গেল তার কারণ বিজ্ঞানীরা এখনো বুঝতে পারছেন না।

প্রথমে প্রকাশিত Bangladesh Science Society

Comments

নিহারিকা

lover of sciency things.....

আপনার আরো পছন্দ হতে পারে...

মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানান

সবার আগে মন্তব্য করুন!

জানান আমাকে যখন আসবে -
avatar
wpDiscuz