GPA Vs CGPA

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় স্কুল-কলেজ পর্যন্ত রেজাল্টগুলো GPA দিয়ে প্রকাশ করা হয়। এই পর্যায়ের ক্লাসের বিষয়গুলোকে সমান গুরুত্ব দেয়া হয়। তাই প্রতিটা সাবজেক্টের গ্রেড পয়েন্টের সাধারণ গড় বের করলেই হয়, যেটাকে আমরা GPA বলি। কিন্তু উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে (কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু বিষয় বাদে) দেখা যায়, সেখানকার প্রতিটা কোর্সের (বিষয়) একটা weight থাকে, যেটাকে ক্রেডিট (credit) বলা হয়। কোনো কোর্স 2 ক্রেডিটের, কোনোটা 3 ক্রেডিটের, কোনটা হয়তোবা 4 ক্রেডিটের। ক্রেডিটের মান দিয়ে বুঝায়, বিষয়টি পড়তে সপ্তাহে কত ঘণ্টার ক্লাস করতে হয়। বেশি ঘণ্টা ক্লাস করা মানে বিষয়টির ব্যাপ্তি বেশি, পড়তে/পড়াতে বেশি সময়ের প্রয়োজন। যেহেতু উচ্চশিক্ষার জগতে সব বিষয়কে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয় না, তাই সাধারণ গড় করে রেজাল্ট তৈরি করা যায় না। এক্ষেত্রে যে পদ্ধতিতে রেজাল্ট তৈরি করতে হয়, সেটাকে পরিসংখ্যানের ভাষায় Weighted Average বলে।

আমরা জানি, সাধারণ গড় = গ্রেড পয়েন্টগুলোর যোগফল/সাবজেক্টের সংখ্যা। এখন চলুন জেনে নিই, Weighted Average কী!

Weighted Average বা গড়

প্রতিটা কোর্সের গ্রেড পয়েন্টকে তার ক্রেডিট দিয়ে গুণ দিতে হবে। তারপর সবগুলো গুণফলকে যোগ করতে হবে। এখন এই যোগফলকে সর্বমোট ক্রেডিট দিয়ে ভাগ করলে যে ভাগফল পাওয়া যাবে, সেটাই Weighted Average বা গড়।

নিচে অনার্স ১ম বর্ষ ১ম সেমিস্টারের এক ছাত্রীর পাওয়া ৬ টা কোর্সের গ্রেড পয়েন্ট দেয়া হলো, যার WGPA (weighted grade point average) বের করতে হবে।

English language (2 credit) — 4.0 (A+)

English language Lab (1 credit) — 3.75 (A)

Mechanics (3 credit) — 4.0 (A+)

Electromagnetism (3 credit) — 3.5 (A-)

Vector analysis (3 credit) — 4.0 (A+)

Basic Algebra (3 credit) — 3.5 (A-)

Physics Lab (4.5 credit)- 3.25 (B+)

সুতরাং WGPA = ( 2*4 + 1*3.75 + 3*4 + 3*3.5 + 3*4 + 3*3.5 + 4.5*3.25) / ( 2+1+3+3+3+3+4.5)

= 71.375 / 19.5

= 3.66 (A-)

তাহলে, ঐ ছাত্রীর ১ম বর্ষ ১ম সেমিস্টারে সর্বমোট ক্রেডিট  19.5, আর রেজাল্ট 3.66।

এখন ধরি, তার ১ম বর্ষ ২য় সেমিস্টারে সর্বমোট ক্রেডিট ছিলো 19, রেজাল্ট ছিলো 3.75। স্বভাবতই সবাই এক বছরের রেজাল্ট একসাথে জানতে চাইবে। “একসাথে” কথাটাকে ইংরেজীতে “Cumulative” দিয়ে বুঝানো যায়। এই এক বছরের রেজাল্টটিকে WGPA না বলে Cumulative GPA বা CGPA বলা হয়। এভাবে একটি করে নতুন সেমিস্টার আসে, আর ঐ সেমিস্টার পর্যন্ত CGPA হিসাব করা হয়।

CGPA বের করার পদ্ধতি

উপরের উদাহরণটিই আরেকবার দেখি।

ঐ ছাত্রীর ১ম বর্ষ ১ম সেমিস্টারে সর্বমোট ক্রেডিট ছিলো 19.5, রেজাল্ট ছিলো 3.66।

১ম বর্ষ ২য় সেমিস্টারে সর্বমোট ক্রেডিট ছিলো 19, রেজাল্ট ছিলো 3.75।

তাহালে, CGPA = (3.66 * 19.5 + 3.75 * 19) / (19.5 + 19) = 3.70 ( A-)

এবার ধরি, ছাত্রীটির ২য় বর্ষ ১ম সেমিস্টারের ক্রেডিট 20, এবং রেজাল্ট 3.5।

তাহলে নতুন এই সেমিস্টার পর্যন্ত তার রেজাল্ট হবে, CGPA = ( (3.70*38.5) + (3.5*20) ) / (38.5 + 20)

অর্থাৎ,

CGPA =[(আগের সেমিস্টার পর্যন্ত CGPA * আগের সেমিস্টার পর্যন্ত ক্রেডিট) + (নতুন সেমিস্টারের CGPA * নতুন সেমিস্টারের ক্রেডিট)] / (নতুন সেমিস্টার পর্যন্ত সর্বমোট ক্রেডিট)

এভাবে একে একে অনার্স চার বছরের ৮ সেমিস্টারের রেজাল্ট একসাথে CGPA দিয়ে প্রকাশ করা হয়।

Comments

Nipun Sen

Student, SUST, Sylhet.

আপনার আরো পছন্দ হতে পারে...

মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানান

সবার আগে মন্তব্য করুন!

জানান আমাকে যখন আসবে -
avatar
wpDiscuz