অভিকর্ষে চলবে বাতি

বিগত বেশ কয়েক বছর ধরেই পরিবেশবান্ধব বিকল্প জ্বালানির সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। অনেক জনপ্রিয় উপায় আছে যেখানে আমরা পরিবেশের ক্ষতি না করেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারি। অবশ্যই সোলার পাওয়ার বা সৌরশক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন এদের মধ্যে জনপ্রিয় একটি উপায়। এছাড়া অনেক দেশেই এয়ারমিল (বায়ু প্রকল্প) এর মাধ্যমে নিজেদের চাহিদার অনেকাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। এই পদ্ধতিগুলোর প্রধান সমস্যা হচ্ছে এগুলো তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোর জন্য একেবারেই সাশ্রয়ী না। তো এখন উপায়টা কী?

Martin Riddiford এবং Jim Reeves একটি চ্যারিটি কম্পিটিশনে এমন কিছু তৈরি করার চেষ্টা করেন যা পিছিয়ে পড়া দেশগুলোর ক্ষতিকর কেরোসিন বাতির বিকল্প হতে পারে। এ থেকেই Gravity Light এর উৎপত্তি। পৃথিবীর অভিকর্ষজ শক্তিকে কাজে লাগিয়ে যে বাতি জ্বালানো যাবে – এই ধারণা হয়তো এর আগে কারো কাছেই ছিলো না। অনেকটা তাক লাগিয়ে দিয়ে তারা এই প্রজেক্টের কাজ শুরু করেছেন যেটা এখনো চলছে।

Optimized-GL_1-1

তো এটা কিভাবে কাজ করে?

সহজ ভাষায় বলতে গেলে তাদের উদ্ভাবিত যন্ত্রটি দেখতে অনেকটা কপিকলের মত। এক প্রান্তে ৬ ফিট বা ১.৮ মিটার উপর থেকে ১২ কেজি ওজনের কোনো ভারী বস্তু ওঠানামা করার ব্যবস্থা থাকে। ভারী বস্তুটি প্রথমেই ওঠাতে হয় এবং সেটি প্রতি সেকেন্ডে ১ মিলিমিটার করে নিচে নামতে থাকে। মূলত গতিশক্তি ব্যবহার করেই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়। এই গতিটাই চালনা করে স্প্রকেট (Sprocket) নামের বস্তুটিকে যাকে উচ্চ টর্কের মাধ্যমে ধীরে ধীরে ঘোরানো হয়।

এই খটমটে বানানের স্প্রকেট জিনিসটা হচ্ছে অনেকগুলো দাঁতওয়ালা চাকতি যা আমরা সাইকেল ব্যবহার করি এবং যেটির সাথে সাইকেলের চেইন লাগানো থাকে। আর টর্ক হচ্ছে কোনো কিছু ঘোরার প্রবণতা। একটি পলিমারের গিয়ার ট্রেইন থাকে যা এর মধ্য দিয়ে চলতে থাকে এবং সেটা এই ইনপুট’টাকে উচ্চ গতিসম্পন্ন করে এবং শেষে একটা নিম্নমানের টর্ক পাওয়া যায় যা একটি ডিসি জেনারেটরকে প্রতি মিনিটে প্রায় ১০০০ বার ঘোরাতে থাকে।

GL01

এর ফলে এক ওয়াট (Watt)-এর এক দশমাংশ থেকে সামান্য কম শক্তি পাওয়া যায় যা লেড বাতি এবং সমমানের যন্ত্রগুলো জ্বালাতে পারে। এ ধরনের একটি লেড বাতি কেরোসিন বাতির চেয়ে ৫ গুণ বেশি উজ্জ্বলতা প্রদর্শন করে। আর তিন সেকেন্ডের লিফটিং ৩০ মিনিট পর্যন্ত আলো দিতে সক্ষম। উদ্ভাবকেরা এর দাম ৫ ডলার এর নিচে রাখার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

এই উদ্ভাবনটি সারাবিশ্বে হইচই ফেলে দেয়। প্রযুক্তিটি যেমন সাশ্রয়ী তেমনি পরিবেশ বান্ধব এবং ঝুঁকিমুক্ত। উক্ত প্রজেক্টটি যদি শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখে তাহলে কয়েক বছরের মধ্যে ঘরে ঘরে গ্র্যাভিটি লাইট দেখা অসম্ভব কিছু হবে না।

তথ্যসূত্রসমমূহঃ

The Guardian   CNN   Gravitylight   Forbes

Comments

আপনার আরো পছন্দ হতে পারে...

মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানান

সবার আগে মন্তব্য করুন!

জানান আমাকে যখন আসবে -
avatar
wpDiscuz