জ্বালানিবিহীন বিদ্যুৎ উৎপাদন সংক্রান্ত অপবিজ্ঞান

ফেসবুকে মূল লেখার লিংক এখানে। নিচের সংস্করণটি বিজ্ঞানযাত্রা কর্তৃক সম্পাদিত।

শরিফুল ইসলাম নামে টাঙ্গাইলের এক তরুণ জ্বালানি বিহীন ইঞ্জিন আবিষ্কার করেছেন বলে দাবি করেছেন। এই আবিষ্কারের কথা তিনি একটি ফেসবুক ভিডিওর মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন এবং সরকারের কাছে গবেষণার জন্য অর্থসাহায্য চেয়েছেন। অনেকেই বাংলাদেশী বিজ্ঞানীর এমন আবিষ্কারে উৎফুল্ল হচ্ছেন, আবার অনেকেই শরিফুলকে চিটার-ধান্দাবাজ বলে গালাগালি করছেন। অনেকে আবার দ্বিধায় আছেন যে শরিফুল সাহেব ঠিক বলছেন নাকি ভুল বলছেন। তার কথার সত্যতা যাচাই করার জন্য আমাদের জানতে হবে ইঞ্জিনের কাজের পদ্ধতি, জ্বালানির ভূমিকা, তাপগতিবিদ্যা সহ আরো অনেক বিষয়। তো, শুরু করা যাক শক্তির সংজ্ঞা নিয়ে ।

শক্তি কী?

কোনো কাজ করার ক্ষমতাকে শক্তি বলে। ৫ বছর বয়সী একটা বাচ্চার শক্তি কম, তাই সে ১/২ কেজি ওজনের স্কুল ব্যাগ উচু করতে পারবে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের গায়ে এতই শক্তি যে সে ২০ কেজি ওজনের এলপি গ্যাস সিলিন্ডার ক্যারি করতে পারে। এই শক্তি আসে কোথা থেকে? শক্তির অনেক উৎস আছে। বাংলাদেশের স্কুলের টেক্সট বইতে ৯ প্রকার শক্তির কথা বলা হয়েছে। (তাপ শক্তি, বিদ্যুৎ শক্তি, চৌম্বক শক্তি, রাসায়নিক শক্তি, সৌর শক্তি ইত্যাদি ইত্যাদি)। উপরে আমরা যে ২টা কাজের কথা বললাম, এই ক্ষেত্রে মানুষ কাজ করার শক্তি পায় মূলত রাসায়নিক শক্তি থেকে। আমরা যে ভাত মাছ মাংস বার্গার চকলেট চিপস খাঁই, সেই গুলা (অথবা সেই গুলার হজম হওয়া অংশগুলা) প্রতিটি কোষের ভিতরে ঢোকে। কোষের ভিতরে মাইটোকন্ড্রিয়া নামে একটা জিনিস আছে, সেই মাইটোকন্ড্রিয়াতে এই খাবারগুলা পোড়ানো হয় (মানে অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে) এই বিক্রিয়ার ফলে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়, সেই তাপ দিয়ে আমাদের শরীরের সব যন্ত্রপাতি কলকব্জা কাজ করতে পারে স্বাভাবিকভাবে। কোনো কোনো খাবার খাইলে বেশি তাপ উৎপন্ন হয়, আবার কোনো কোনো খাবারে কম তাপ উৎপন্ন হয়। কোকাকোলার বোতলের গায়ে লেখা আছে, ১০০ মিলিলিটার কোকাকোলা খেলে ৪৪ ক্যালরি তাপ পাওয়া যাবে। (ফাস্ট ফুডের প্যাকেটের গায়ে সাধারনত এইভাবে ক্যালরির হিসাব লেখা থাকে) ভাত, মাছ, তরকারির ক্যালরির হিসাব খুব সহজে পাওয়া যাবে বিটিভিতে প্রচারিত মা ও শিশুর স্বাস্থ্য বিষয়ক অনুষ্ঠান স্বাস্থ্য তথ্য/পুষ্টি তথ্য/সুখী পরিবার জাতীয় প্রোগ্রামগুলাতে। গড়ে একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের প্রতিদিন ২৫০০ ক্যালরি তাপ দরকার হয়। মানুষের প্রতিটা কোষে ২০০ টার মত মাইটোকন্ড্রিয়া থাকে। এই জন্য মানুষের অনেক বেশি তাপ দরকার হয়। তাই মানুষ ৩ বেলা খায়, এবং অনেক কাজও করতে পারে। সাপের প্রতিটা কোষে ২০/২৫ টা মাইটোকন্ড্রিয়া থাকে। তাই সাপের তাপ লাগে কম।সাপ খায় কম। একটা অজগর সাপ একটা মুরগী খেলে ২ সপ্তাহ আর কিছু খাওয়া লাগেনা। সমস্যা হচ্ছে অজগরের কাজ করার ক্ষমতাও কম। সে একটানা ২/৩ সপ্তাহ ঘুমায়, একটু খানি জেগে উঠে শিকার ধরে, তারপরে আবার ঘুমায়।

ইঞ্জিন কিভাবে কাজ করে?

কোনো ইঞ্জিন চলার জন্যও একইভাবে তাপ লাগে। তাপ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে পরিণত করতে পারবে এমন জিনিস হচ্ছে ইঞ্জিন। আরো সহজ করে বলা যায়, ইঞ্জিন তাপকে গতিতে পরিণত করবে। উদাহরণ হিসেবে বন্দুকের কিংবা কামানের কথা বলতে পারি। কামানের ভিতরে এক মাথায় থাকে গোলা (মেটাল কিংবা পাথরের টুকরা) অন্য মাথায় থাকে ফসফরাস, সালফার কিংবা বারুদের অন্যান্য উপাদান, যে জিনিসে সহজে আগুন ধরে যায়। বারুদে আগুন ধরানো হলে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়, সেই তাপের প্রভাবে ভিতরের বায়ু আয়তনে প্রসারিত হয়। বেশি আয়তনের বায়ু ধাক্কা দিয়ে নলের একেবারে মুখে থাকা গোলাটাকে ছিটকে বাইরে ফেলে দেয়। এইভাবে কামান এর গোলা নিক্ষিপ্ত হয়।

গাড়ির ইঞ্জিনের ক্ষেত্রেও মামলা একই। ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে মূল কাহিনী ঘটে যেখানে, সেটার নাম সিলিন্ডার। দেখতে ইঞ্জেকশনের সিরিঞ্জের মত, গোল, ভিতরে একটা পিস্টন আছে, চাপ দিয়ে সেই পিস্টনকে ওঠানো নামানো যায়। ( এই সিলিন্ডারের সাইজ দিয়েই ইঞ্জিনের সাইজ বুঝানো হয়। সিলিন্ডারের আয়তন বের করার সূত্র : সিলিন্ডারের আয়তন = 3.1416 x সিলিন্ডারের উচ্চতা x সিলিন্ডারের ব্যাসার্ধ²। উচ্চতা এবং ব্যাসার্ধ যদি আপনি সেন্টিমিটারে মাপেন, তাহলে সিলিন্ডারের আয়তন বের হবে ঘনসেন্টিমিটারে, ইংরেজিতে যাকে বলে cubic centimeter বা সংক্ষেপে c.c. এই সিসি দিয়েই আমরা ইঞ্জিনের সাইজ মাপি (৮০ সিসি হোন্ডা, ১০৫ সিসি ওয়াল্টন ইত্যাদি) এটা পুরা ইঞ্জিনের সাইজ না, এটা জাস্ট সিলিন্ডারের সাইজ ) একটা সিলিন্ডারের ভিতরে জ্বালানি (পেট্রোল/ডিজেল/অক্টেন/সিএনজি) থাকে। সেই জ্বালানিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় (পেট্রলের ক্ষেত্রে গ্যাস লাইটারে যেভাবে আগুন জ্বালায় সেইভাবে স্পার্ক ইগনিশন করা হয়। ডিজেলের ক্ষেত্রে লাগেনা, কারণ ডিজেলে বেশি চাপে এমনিতেই আগুন জ্বলে ওঠে )। আগুনের তাপে বাতাস প্রসারিত হয়। প্রসারিত বাতাস সিলিন্ডারের ভিতরে থাকা পিস্টনকে ঠেলে বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।এই পিস্টনের সাথে আরো কয়েকটা পিস্টন, কানেক্টিং শ্যাফট, রড এবং গিয়ার জাতীয় জিনিস লাগানো থাকে। অনেক পথ ঘুরে এই পিস্টনের বাইরে ছিটকে পড়ার শক্তিটা চলে যায় গাড়ির চাকায়। ওই শক্তি দিয়ে তখন গাড়ির চাকা ঘোরে এবং সামনে পিছনে যায়। ইঞ্জিনগুলাতে একসাথে অনেকগুলা সিলিন্ডার লাগানো থাকে (৪/৮/১২/১৬ টা লাগানো স্ট্যান্ডার্ড) ফলে সব সময়য় কোনো না কোনো সিলিন্ডার থেকে শক্তি পাওয়া যায়। সিলিন্ডারের পিস্টন গুলাকে আবার ভিতরে টেনে এনে পরের স্টেপে একইভাবে বিস্ফোরন করে নতুনভাবে শক্তি বের করা হয়। গাড়ি বাদে যেকোনো মেশিনের সাথে ইঞ্জিন লাগিয়ে দিলেই ইঞ্জিন থেকে পাওয়া শক্তি দিয়ে মেশিনটা ঘুরতে থাকবে কিংবা চলতে থাকবে।

 


ওয়ার্কিং অবস্থায় একটা ইঞ্জিনের ৪ টা সিলিন্ডার পাশাপাশি দেখা যাচ্ছে

ইঞ্জিন থেকে কিভাবে চাকায় শক্তি যায়, সেটা দেখানো হচ্ছে এই ছবিতে। মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, ইঞ্জিনের শক্তিটা পাই সোজাসুজি, রৈখিক গতিতে।এটাকে চাকা ঘোরানোর জন্য ঘূর্ণন গতিতে পরিণত করতে হয়। বিভিন্ন সাইজের গিয়ার দিয়ে এই কাজ করা হয়।

ইউটিউব থেকে ইঞ্জিন রিলেটেড কয়েকটি ভিডিও দেখলে আশা করি বিষয়টা ক্লিয়ার হবে যে ইঞ্জিন কিভাবে কাজ করে (এই ধরনের ইঞ্জিনকে বলে I.C. ইঞ্জিন । আরো অনেক প্রকার ইঞ্জিন আছে, তবে বেসিক মোটামুটি এক।)

এবারে আসি কিভাবে বিদ্যুৎ বানানো যাই সেই ব্যাপারে ।

বিদ্যুৎ ২ প্রকার – স্থির বিদ্যুৎ আর চল বিদ্যুৎ। সকল পদার্থের ভিতরে ইলেক্ট্রন আর প্রোটন থাকে। ইলেক্ট্রনের চার্জ নেগেটিভ আর প্রোটনের চার্জ পজেটিভ। কোনোভাবে কোনো পদার্থের ভিতর যদি সব নেগেটিভ চার্জওয়ালা ইলেক্ট্রন এক করে ফেলতে পারি, তাহলেই স্থির বিদ্যুৎ তৈরি হবে (মাথার চুলে কলম ঘষলেই এই বিদ্যুৎ তৈরি হবে) এই কারেন্ট শুধু এক জায়গাতেই বসে থাকে, আরেক জায়গায় একে নিয়ে গিয়ে কাজ করা যায়না চল বিদ্যুৎ আবার ২ প্রকার। AC (সরকারী কারেন্টের লাইনে পাওয়া যায়) আর DC (ব্যাটারি থেকে পাওয়া যায়)। ২ প্রকার কারেন্ট বানানোর মূলনীতিই মোটামুটি একই। কমার্শিয়ালভাবে এই কারেন্টগুলা বানানো হয় তড়িৎচৌম্বক তত্ত্ব ইউজ করে। মাইকেল ফ্যারাডে আবিষ্কার করেছিলেন, যে, কোনো চুম্বক ক্ষেত্রের ভিতরে যদি কোনো মেটাল (পরিবাহী তার কিংবা ধাতব পাত) বার বার ঢুকানো আর বের করা হতে থাকে তাহলে ওই তারে কারেন্ট তৈরি হবে (পরিবর্তনশীল চৌম্বক ক্ষেত্রের সাথে কোনো পরিবাহীর আপেক্ষিক গতি বজায় থাকলে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে)। এই পদ্ধতি ইউজ করে বাংলাদেশের গ্রাম গঞ্জে অনেকেই সাইকেলে ডায়নামো লাগিয়ে ব্যবহার করেন। ডায়নামোর কাজের মূলনীতি খুব সিম্পল। সাইকেলের চাকার সাথে ডায়নামো লাগানো থাকে। ডায়নামোর ভিতরে চুম্বক এবং তার রাখা থাকে। সাইকেলের চাকা ঘুরতে থাকলে চুম্বক স্থির থাকে, তার ঘুরতে থাকে (অথবা, অন্য ডিজাইনের ডায়নামোতে চুম্বক ঘুরতে থাকে, তার স্থির থাকে ) যেভাবেই হোক চুম্বক আর পরিবাহী তারের মধ্যে আপেক্ষিক গতি তৈরি হয়, ফলে ওখানে কারেন্ট তৈরি হয়।

ফ্যারাডের বানানো প্রাচীন ডায়নামো। এখানে a হচ্ছে চুম্বক। চুম্বকের উত্তর আর দক্ষিণ মেরুর মাঝখানে ডিস্ক d ঘুরতেছে। ফলে কারেন্ট তৈরি হচ্ছে। এই কারেন্ট m এর সাথে লাগানো তার দিয়ে বাইরে চলে যাচ্ছে।
ডায়নামো লাগানো সাইকেল

ডায়নামোর মেকানিজম

এখন এই ম্যাগনেট আর কারেন্ট পরিবাহী (মেটাল কিংবা তার) এর মধ্যে একটা গতি তৈরি করাই মূল চ্যালেঞ্জ। সাইকেল চালানোর সময়য় সাইকেলের টায়ারের ঘোরার ফলে এই গতি পাচ্ছে (তবে এতে কিন্তু ভালই শক্তি খরচ হয়। নরমাল সাইকেলের তুলনায় ডায়নামোর সাইকেল চালানো কঠিন। পায়ে অনেক বেশি বাধে ডায়নামোর সাইকেলে) হাত দিয়ে যদি আপনি চাকা ঘুরান, একই কাজ করবে। আমির খানের থ্রি ইডিয়ডস সিনেমার শেষের দিকের দৃশ্যে দেখা যায়, এক লোক সাইকেলের প্যাডেল ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ বানাচ্ছে, সেই বিদ্যুৎ যাচ্ছে একটা ইলেক্ট্রিক শেভারে, সেই শেভার দিয়ে আরেক লোক ভেড়ার লোম কাটতেছে মূল টার্গেট হচ্ছে এইভাবে চাকা ঘুরানো। বাংলাদেশের কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পানির স্রোত দিয়ে চাকা গুলাকে ঘুরানো হয়। উইন্ড মিল (বায়ু কল) গুলাতে বাতাসের শক্তি কাজে লাগিয়ে চাকা ঘুরানো হয়। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ডাইরেক্ট একটা পেট্রোল বা ডিজেল ইঞ্জিন লাগিয়েই এই চাকা ঘুরানোর কাজ করা হয়। তার মানে হচ্ছে, তেল পুড়িয়ে আমরা কারেন্ট বানাচ্ছি। বাংলাদেশে কিছু প্রাকৃতিক গ্যাস আছে। বাংলাদেশের অধিকাংশ পাওয়ার প্লান্টই এই গ্যাস ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করে। (গ্যাস পুড়িয়ে একটা ইঞ্জিন চালায়, ইঞ্জিনটা একটা টারবাইনকে (বড় চাকা) ঘুরায়, টারবাইনের সাথে জেনারেটর/ডায়ানামোর মত মেকানিজম থাকে, সেখান থেকে কারেন্ট তৈরি হয়) রামপালে যে তাপবিদ্যুতকেন্দ্র তৈরি করার কথা বলছে, সেখানে জ্বালানি হিসেবা ইউজ করা হবে কয়লা। রুপপুরে যে পারমাণবিক বিদ্যুতকেন্দ্র নির্মান করার কথা বলা হচ্ছে, সেখানে জ্বালানি হবে ইউরেনিয়াম। ( ইউরেনিয়াম পোড়ালে অনেক তাপ উৎপন্ন হয়। এক কেজি ডিজেল পোড়ালে যেখানে ৪৫ মেগাজুল তাপ পাওয়া যায়, সেখানে ১ কেজি ইউরেনিয়ামে ৫০০ গিগাজুল তাপ পাওয়া যাবে।এই জন্য পরমাণু বিদ্যুতকেন্দ্র বসানোর ব্যাপারে অনেকে খুব আগ্রহী থাকে। তবে ইউরেনিয়ামের কারণে পরিবেশগত বিপদের ঝুঁকি আছে) পাওয়ার প্লান্টে প্রতিনিয়ত জ্বালানি সাপ্লাই দিয়ে যেতেই হয়। ১০০ মেগাওয়াটের একটা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানোর জন্য প্রতি ঘন্টায় ৫৫ টন কয়লা সাপ্লাই দিতে হবে। (এত বিশাল পরিমাণ কয়লা পরিবহন করা ঝামেলা। তাই বাংলাদেশ সরকার সুন্দরবনে সুমদ্রের কাছেই কয়লাবিদ্যুৎকেন্দ্র বসাতে চাচ্ছে, যেন সমুদ্র পথে বেশি দূর পাড়ি দিতে না হয়, কয়লার সাপ্লাই বাইরে থেকে নিরবিচ্ছিন্নভাবে আসতে পারে। তবে এখানে সে পরিবেশ বিপর্যয়ের কথা হিসাব করেনি)। পেট্রোল দিয়ে যদি চালাতে চাই, তাহলে প্রতি ঘণ্টায় আমার লাগবে ৭০০০ গ্যালন। গ্যাস দিয়ে চালানো একটু ইজি, কারন গ্যাসের লাইন একবার বসানো হয়ে গেলে সাপ্লাই নিয়ে আর টেনশন নেই। পাইপের ভিতর দিয়ে গ্যাস আসবেই। প্রাকৃতিক গ্যাস দিয়ে যদি আমি ১০০ মেগাওয়াটের পাওয়ার প্লান্ট চালাতে চাই তাহলে আমার প্রতি ঘণ্টায় লাগবে ১০ লাখ ঘনফুট গ্যাস।

জল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ডিজাইন। পানির স্রোত এখানে টারবাইনকে ঘুরাচ্ছে।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্কিমেটিক ডায়াগ্রাম। কয়লা পুড়িয়ে তাপ পাই, সেই তাপ দিয়ে পানি গরম করে বাষ্প বানানো হয় (বয়লারের ভিতরে)। সেই বাষ্প ধাক্কা দিয়ে টারবাইনটাকে ঘুরায়।  টারবাইন ঘুরলে ডায়নামোর মেকানিজম অনুযায়ী জেনারেটরের ভিতরে কারেন্ট তৈরি হয়

কারেন্ট বানাতে হলে আমাকে সারাজীবন তেল/কয়লা দিয়ে যেতেই হবে? অন্য কোনো বিকল্প নেই? আমি পাওয়ার প্লান্ট থেকে যে কারেন্ট পাইলাম, সেই কারেন্ট দিয়েই ইঞ্জিন চালাতে পারব না? তাহলে কি নতুন করে আর তেল দেওয়া লাগবে? থিওরিটিকালি এটা খুবই ভাল আইডিয়া।  ধরুন, আমি আমার পাওয়ার প্লান্টে একটা ডিজেল ইঞ্জিন লাগিয়ে টারবাইন ঘুরাচ্ছি।  প্রথম বারে এই পাওয়ার প্লান্ট থেকে আমি ১ কিলো ওয়াট (১০০০ ওয়াট) কারেন্ট পাইলাম।  এই কারেন্ট আমি খরচ না করে একটা ইলেক্ট্রিক ইঞ্জিনে লাগালাম। পুরানো ডিজেল ইঞ্জিনের বদলে আমি ইলেক্ট্রিক ইঞ্জিন দিয়েই আমার পাওয়ার প্লান্ট এর টারবাইন চালাবো এইবার।  এইবারো ১০০০ ওয়াট পাব।  ৫০০ ওয়াট রেখে দিব খরচের জন্য, বাকি ৫০০ ওয়াট দিয়ে টারবাইন ঘুরাব।  এই স্টেপেও ১০০০ ওয়াট পাইলাম।  ৫০০ ওয়াট অন্য কাজে খরচ করলাম আর ৫০০ ওয়াট দিয়ে টারবাইন ঘুরালাম —এইভাবে চলতেই থাকবে।  আল্টিমেটলি সব সময়ই আমি পাওয়ার প্লান্ট থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা দুঃখজনক ব্যপার হল, প্রাকটিকাল ফিল্ডে পাওয়ার প্লান্টগুলা এই হিসাব মেনে চলে না।  ১০০০ ওয়াট দিয়ে আপনি যত স্পিডে টারবাইন ঘুরাতে পারবেন, ৫০০ ওয়াট দিয়ে আপনি তত স্পিডে ঘুরাতে পারবেন না।  ফলে সেকেন্ড স্টেপে আপনি পাওয়ার পাবেন কম (১০০০ পাবেন না), ওই কম পাওয়ার দিয়ে আবার টারবাইন ঘুরাতে গেলে পরের স্টেপে পাবেন আরো কম, এইভাবে চলতে থাকলে কোনো একটা স্টেপে এসে আপনি কোনো পাওয়ারই পাবেন না।

তবে কোনো শক্তির উৎস ছাড়া নিজে নিজে কাজ করে যাওয়ার এই রূপকথা বিজ্ঞান জগতে অনেক পুরনো একটা গল্প। এই ধরনের মেশিনকে বলে পারপেচুয়াল মোশন মেশিন। বিশ্বের বিভিন্ন কোনায় মাঝে মাঝেই কিছু ‘বিজ্ঞানী’ দাবি করে যে তারা পারপেচুয়াল মোশন মেশিন আবিষ্কার করে ফেলেছে। কিছুদিন তাদের নিয়ে হৈ হল্লা হয়। সত্যিকার বিজ্ঞানীরা তদেরকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে ঠাণ্ডা করে। নেটে আপনি একটু fake perpetual motion machine লিখে সার্চ দিলেই এই রকম মেশিন বানানোর অনেক চেষ্টার গল্প পাবেন। এগুলোর কোনোটাই সফল হয়নি।  পারপেচুয়াল মোশন মেশিন বানান নিয়ে অনেকের মধ্যেই ফ্যান্টাসি কাজ করে। আমি নিজেও কৈশোরে যে কয়েকটা সায়েন্স ফিকশন লিখেছিলাম, তার মধ্যে পারপেচুয়াল মোশন মেশিন ছিল। (তখন আমি এই নামটাও জানতাম না। ডায়নামো জিনিসটা বুঝতাম। ‘ত্বরণ’ শব্দটা ইউজ করেই গল্পে পুরা মেশিনটার মেকানিজম ব্যাখ্যা করেছিলাম) কেন perpetual motion machine সম্ভব নয়?

ধরুন, আপনি বাংলাদেশের বিজ্ঞান কিংবা প্রযুক্তি মন্ত্রী।  মাঝে মাঝেই এইরকম জ্বালানি ছাড়াই ইঞ্জিন বানানোর দাবি নিয়ে কেউ না কেউ হাজির হয় আপনার কাছে। আপনি এই ক্ষেত্রে কি করবেন? প্রতিটা মেশিনের ডিজাইন দেখে মেশিনটা বানিয়ে টেস্ট করে দেখবেন যে মেশিনটা আসলে চলে কি না? নাকি কোনো সূত্রে ফেলে চেক করে দেখবেন মেশিনটা আসলে চলবে নাকি চলবে না? এই সকল ক্ষেত্রে নিয়ম হচ্ছে, আগে তাত্ত্বিক দিক থেকে জিনিসটা সম্ভব কি না সেটা যাচাই করে তারপরে ব্যবহারিকভাবে সেটার প্রয়োগ করা (আগে সূত্রে ফেলে দেখতে হবে মেলে কিনা, যদি মেলে তাইলে মেশিন বানিয়ে দেখতে হবে।  আর যদি সূত্রে না মেলে তাহলে বাদ, ওই মেশিন বানিয়ে লাভ নেই, চলবে না)।

৭, ৫, আর ১০ সেন্টিমিটার লম্বা ৩টা সরলরেখা নিয়ে দেখা যাচ্ছে, যে, এইগুলা দিয়ে ত্রিভুজ আঁকা সম্ভব।

একটা উদাহরণ দেই। ত্রিভুজ জিনিসটা হচ্ছে ৩ টা বাহুর (সরলরেখা) সমষ্টি। আমি কি যে কোনো সাইজের ৩ টা সরলরেখা নিয়ে ত্রিভুজ আকতে পারবো? না,পারব না। ত্রিভুজের ক্ষেত্রে নিয়ম হচ্ছে – যে কোনো ২ বাহুর যোগফল ৩ নাম্বার বাহুর চেয়ে বড় হতে হবে। যদি বড় না হয়,তাহলে ওই ৩ টা বাহু দিয়ে ত্রিভুজ বানানো সম্ভব না। পাশের ছবিতে দেখা যাচ্ছে – ৫, ৭, আর ১০ সেন্টিমিটারের ৩ টা সরলরেখা নিয়ে যে কম্বিনেশনেই যোগ করিনা কেন, সব সময়য় ২ টা বাহুর যোগফল ৩ নাম্বার বাহুর চেয়ে বেশি হচ্ছে। সো, এদের দিয়ে ত্রিভুজ বানানো যাবে কিন্তু আমি যদি ১, ২ আর ১০ সেন্টিমিটার লম্বা ৩ টা রেখা নেই, তখন কি অবস্থা হবে?

পাশের ছবিতে দেখা যাচ্ছে, প্রথম ক্ষেত্রে ২ টা বাহুর যোগফল তৃতীয় বাহুর চেয়ে ছোট। তাই এদের দিয়ে ত্রিভুজ বানানো যাবেনা। থিওরির কথা না শুনে তারপরেও আমি ত্রিভুজ আকানোর চেষ্টা করেছিলাম। দেখা গেল, ত্রিভুজ কমপ্লিট হচ্ছে না। ২ টা বাহুর মাথা জোড়া লাগছে না তার মানে প্রমাণিত হল, আমার থিওরি ঠিক। ত্রিভুজের ২ বাহুর যোগফল অবশ্যই তৃতীয় বাহুর চেয়ে বড় হতে হবে। অর্থাৎ কত লম্বা বাহু হলে ত্রিভুজ তৈরি হবে, সেটা বের করার জন্য ত্রিভুজ আঁকতে হবে না, যোগ করে হিসাব করলেই হবে। ( নিম্ন মাধ্যমিক গনিত বইতেই এই উপপাদ্যের বর্ননা এবং প্রমান রয়েছে) একই রকম ভাবে, কোনো সার্কিটে কোনো ইলেক্ট্রিক মেশিন লাগাতে হলে আগে আমরা চেক করি মেশিনটার ভোল্টেজ, এম্পিয়ার কিংবা ফ্রিকুএন্সি আমার কারেন্টের লাইনের সাথে ম্যাচ করে কিনা। ২২০ ভোল্টেজের লাইনে আমি ৪৪০ ভোল্ট লেখা কোনো মেশিন চালাতে পারব না। থিওরিটিকালি হিসাব করেই আমি বলে দিতে পারব কোন মেশিন চলবে আর কোন মেশিন চলবেনা, সত্যি সত্যি মেশিন লাগিয়ে আমার চেক করতে হবে না। ঠিক একই রকম ভাবে, পারপেচুয়াল মোশন মেশিন কিংবা জ্বালানি ছাড়া যেসব মেশিন আবিষ্কার করার কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো আমি প্রাকটিকালি না বানিয়ে জাস্ট সূত্রে সমর্থন করে কিনা সেটা চেক করেই বলে দিতে পারি যে মেশিন চলবে নাকি চলবে না।

তাপগতিবিদ্যা যেহেতু ইঞ্জিন তাপ শক্তিকে যান্ত্রিক শক্তিতে পরিনত করে, তাই ইঞ্জিন চেক করার জন্য আমাদের তাপগতিবিদ্যা (thermodynamics) জানতে হবে। ১৮৫০ সালে বিজ্ঞানী ক্লসিয়াস একটা সূত্র দেন। তিনি বলেন, সকল ক্ষেত্রে যেখানে তাপের মাধ্যমে কাজ সম্পাদন করা হয় সেখানে, গৃহীত তাপ কৃত কাজের সমানুপাতিক; বিপরীতভাবে, সমান পরিমাণের কাজ সমান শক্তি উৎপন্ন করে এই সূত্রকে তাপ গতিবিদ্যার প্রথম সূত্র বলে। এই প্রথম সূত্রের উপর ভিত্তি করে অনেক বিজ্ঞানী আলাদা আলাদাভাবে কাজ করে তাপগতিবিদ্যা নিয়ে নতুন সূত্র দেন। সবার কথা মোটামুটি একই, তবে এক্সপ্রেশন আলাদা। সূত্র গুলো একটু দেখুন (একই সূত্র বিভিন্ন বিজ্ঞানীর আলাদা আলাদা ভার্শন)

ক্লসিয়াসের বিবৃতি (১৮৫৪ সাল): বাইরের সাহায্য ছাড়া কোনো স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের পক্ষে নিম্ন তাপমাত্রার কোনো বস্তু থেকে উচ্চ তাপমাত্রার বস্তুতে তাপের স্থানান্তর সম্ভব নয়।

কার্নোর বিবৃতি (১৮৯০ সাল): কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ তাপশক্তিকে সম্পূর্ণভাবে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তর সক্ষম এমন যন্ত্র নির্মাণ সম্ভব নয়।

প্লাংকের বিবৃতি (১৯২৬ সাল) : এমন কোনো ইঞ্জিন তৈরি সম্ভব নয়, যেটা কোনো বস্তু থেকে তাপ গ্রহণ করে অবিরত কাজে পরিণত করবে অথচ পরিবেশের কোনো পরিবর্তন হবে না।

কেলভিনের বিবৃতি (১৮৫১ সাল): কোনো বস্তুকে এর পারিপার্শ্বের শীতলতম অংশ থেকে অধিকতর শীতল করে শক্তির অবিরাম সরবরাহ সম্ভব নয়। এই বিবৃতিগুলাকে তাপগতিবিদ্যার ২য় সূত্র বলে। এই সূত্র আবিষ্কার হওয়ার পরে ১৯৩৫ সালে সমারফিল্ড এবং ফাউলার দেখলেন, আরো একটা সূত্র চলে আসে। সূত্রটা এই রকম, যদি ২ টা বস্তু যদি ৩ নাম্বার আরেকটা বস্তুর সাথে একই তাপমাত্রায় থাকে, তাহলে ওই ২ টা বস্তুর নিজেদের তাপমাত্রাও এক। এইটা খুব বেসিক একটা সূত্র ছিল। ১ এবং ২ নাম্বার সূত্র এইটার উপর ভিত্তি করেই এসেছে, কিন্তু সূত্র হিসেবে এটাকে এস্টাবলিশড করা হয়নি। ১ আর ২ নাম্বার সূত্রের সাথেও মানুষ পরিচিত হয়ে গেছে, এদের নাম চেঞ্জ করা যাবেনা। আবার এই নতুন সূত্র এতই বেসিক যে এটাকে ৩ নাম্বার সূত্র বলাটাও খারাপ দেখায়। অবশেষে এটাকে তাপগতিবিদ্যার শূন্যতম সূত্র নাম দেওয়া হল যে কোনো হিট ইঞ্জিন এই ৩ টা সূত্র মেনে চলবে। থিওরিটিকালি কোনো ইঞ্জিন যদি এই ৩ টা সূত্রের এক বা একাধিক সূত্র মেনে না চলে, তাহলে প্রাকটিকালি সেটা বানানো সম্ভব হবে না।

উপরে আমরা যে পারপেচুয়াল মোশন মেশিন নিয়ে আলোচনা করলাম, সেটা তাপগতিবিদ্যার ১ম এবং ২য় সূত্র অনুযায়ী সম্ভব নয়। ১ম সূত্র অনুযায়ী, সকল ক্ষেত্রে যেখানে তাপের মাধ্যমে কাজ সম্পাদন করা হয় সেখানে, গৃহীত তাপ কৃত কাজের সমানুপাতিক; বিপরীতভাবে, সমান পরিমাণের কাজ সমান শক্তি উৎপন্ন করে। কিন্তু পারপেচুয়াল মোশন মেশিন অনুযায়ী আমি ইনপুট দিচ্ছি ০, আউটপুট পাচ্ছি ৫০০ ওয়াট, যেটা সম্ভব নয়। ২য় সূত্র অনুযায়ী, এমন কোনো ইঞ্জিন তৈরি সম্ভব নয়, যেটা কোনো বস্তু থেকে তাপ গ্রহণ করে অবিরত কাজে পরিণত করবে অথচ পরিবেশের কোনো পরিবর্তন হবে না। এই রকম কিছু হতে হলে পরিবেশের চেঞ্জ হবেই (বাতাস থেকে হয়তো তাপ গ্রহণ করবে, ফলে এনভায়রনমেন্ট শীতল হবে) কিন্তু পারপেচুয়াল মোশন মেশিনের শর্তে এমন কিছু উল্লেখ করা নাই। সো বাইরে থেকে কোনো শক্তি না নিয়ে ওই ধরনের মেশিন বানানো অসম্ভব।

জ্বালানি ছাড়া ইঞ্জিন/বিদ্যুৎ আবিষ্কার করা দেশী ‘বিজ্ঞানী’

বাংলাদেশে বিদ্যুতের সমস্যা প্রকট। এই মুহুর্তে মাত্র ১০ হাজার মেগাওয়াটের মত কারেন্ট বানাচ্ছি আমরা। শীতকালে এই পরিমান বিদ্যুৎ আমাদের জন্য মোটামুটি যথেষ্ট। কিন্তু গরমকালে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যায়। বিদ্যুতের অভাবে ইন্ডাস্ট্রিতে প্রোডাকশন কমে যায়। মাঠের ফসলে সেচ দেওয়া যায়না। (বাসা বাড়িতে মানুষের ও বেশ কিছু শারীরিক অসুবিধা হয়)। এই জন্য বিদ্যুৎ এর উৎপাদন বাড়ানো আমাদের খুব দরকার। বাংলাদেশ সরকার বেপরোয়া হয়ে সুন্দরবন উজাড় করে কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুতকেন্দ্র বানাচ্ছে। দেশের সাধারণ মানুষেরাও বিদ্যুতের চাহিদার বিষয়টা বোঝেন। তাই তারাও বিভিন্ন ভাবে চেষ্টা করেন কম বিদ্যুৎ খায় এমন মেশিন বানানো যায় কিনা। মাঝে মাঝেই আমাদের পত্রিকায় নিউজ বের হয়–জ্বালানি ছাড়াই বিদ্যুৎ আবিষ্কার করলেন বাংলাদেশী বিজ্ঞানী —–ব্লা ব্লা ব্লা। গত কয়েক বছরে কমপক্ষে ডজন খানেক এই ধরনের আবিষ্কারের কথা পেলাম নেট ঘেঁটে।

এই ধরনের আবিষ্কারকে মোটা দাগে ২ ভাগে ভাগ করে ফেলা যায়।

১) এদের শিক্ষার অল্প একটু ঘাটতি রয়ে গেছে। পারপেচুয়াল মোশন মেশিনের মত কোনো একটা বিষয় নিয়েই তারা ঘুরপাক খাচ্ছে। কেন এই মেশিন বানানো সম্ভব না, সেই লজিক তারা ধরতে পারছে না।

২) এই প্রজাতির বিজ্ঞানীরা জেনে শুনেই ধান্দাবাজি করে বেড়াচ্ছে। তারা জানে যে তারা আসলে কিছুই আবিষ্কার করেনি, হুদাই ভুং ভাং দেখিয়ে যদি কিছু এটেনশন বা ফান্ডিং পাওয়া যায়, সেই চেষ্টা করতেছে। আর এরা মিডিয়া এটেনশন ও ভালই পায়। পেপারে এদের ছবি নাম ঠিকানা ছাপা হয়। অনেকে এদের গবেষনার জন্য আর্থিকভাবে সাহায্য ও করে দুঃখের বিষয়, সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকেও মাঝে মাঝে এদের সাহায্য করা হয়। সরকারের ভিতরে সম্ভবত বিজ্ঞানের মৌলিক জ্ঞানওয়ালা লোকজন কম, তাই ফাঁকফোঁকর গলে এরা সরকারের শীর্ষ পর্যায় পর্যন্ত চলে যেতে পারে, ফান্ডিংও হয়তো পায়! সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের লোকজন এর আগেও বিজ্ঞানী এবং ফ্রড চিনতে ভুল করেছিল। বাংলাদেশের ক্লাস এইটের ইংরেজি টেক্সট বইতে ওয়াসিক ফারহান রুপকথা নামে এক বিস্ময়বালকের গল্প আছে, সে নাকি ৬ বছর বয়স থেকে প্রোগ্রামিং করে। সরকার তাকে লাখ লাখ টাকার অনুদান ও দিয়েছে। আসল কাহিনী হচ্ছে, সে গেমস খেলা ছাড়া আর কিছুই পারে না যাক সে কথা। আসুন আমরা জ্বালানী বিহীন বিদ্যুৎ আবিষ্কারকারী “বিজ্ঞানী”দের সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি।

১। শরিফুল ইসলাম (sharifuelless)

শরিফুল ইসলামের বাড়ি টাঙ্গাইলের মীর্জাপুরে। তার ফেসবুক একাউন্টে একাডেমিক লেখাপড়ার ঘরটা ফাঁকা। তিনি জ্বালানি (তেল, গ্যাস, কয়লা, পানি, বাতাস, সৌরশক্তি) ছাড়াই একটা ইঞ্জিন আবিষ্কার করেছেন বলে দাবি করেছেন। নিজের নামের সাথে মিলিয়ে ইঞ্জিনটির নাম দিয়েছেন sharifuelless . নিজের ফেসবুক একাউন্টে ২ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে তিনি বলেন,

“বর্তমান সারা বিশ্বের বিজ্ঞানীদের ধারণা যে জ্বালানি ছাড়া স্বয়ংক্রিয় ইঞ্জিন আবিষ্কার করা অসম্ভব। অর্থাৎ (তেল, গ্যাস, কয়লা, পানি, বাতাস, সৌরশক্তি) ব্যবহার ছাড়া কোন প্রকার স্বয়ংক্রিয় ইঞ্জিন আবিষ্কার করা সম্ভব নয়। কিন্তু তাদের সে ধারণা ভুল প্রমাণিত করে আমি দীর্ঘ ৮ (আট) বছর যাবৎ গবেষণা করে প্রায় সাড়ে তিনশত বার ব্যর্থ হয়ে অবশেষে মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে জ্বালানী ছাড়াই স্বয়ংক্রিয় ইঞ্জিন আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছি। এই ইঞ্জিনে কোন প্রকার জ্বালানী ব্যবহার করতে হবে না। এই ইঞ্জিন দিয়ে জ্বালানী ছাড়াই বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের যত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন তা উৎপাদন করা যাবে এবং সকল প্রকার যানবাহন যেমন বাস, ট্রাক, লঞ্চ, স্টীমার, জাহাজ, উড়োজাহাজ চালানো যাবে।”

এছাড়া ২০১১ সালেই তার ইন্টারভিউ একবার মিডিয়ায় ছাপা হয়েছিল। সেই সময় তিনি ঢাকা প্রেসক্লাবে একটা সাংবাদিক সম্মেলন ও করেছিলেন। সেখানে তিনি বলেন,

“পরীক্ষামূলকভাবে আমি তেল, গ্যাস, পানি, কয়লা, বাতাস বা সৌরশক্তি ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদনের কার্যক্রম চালাই এবং আমার উদ্ভাবিত যন্ত্র দিয়ে ৩.৫ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হই। আমি আরো গবেষণা চলিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে, আমার উদ্ভাবিত ইঞ্জিনের জ্বালানি উৎপাদন ক্ষমতা হবে অফুরন্ত ও শক্তিশালী। ‘শুরুতে আমার উদ্ভাবিত যন্ত্রের উৎপাদনক্ষমতা কম ছিল। প্রতিদিন আমি এ যন্ত্রের শক্তি বৃদ্ধির চেষ্টা চালাচ্ছি। এখন আমার উদ্ভাবিত যন্ত্রের শক্তি সম্পর্কে সংশয় ছাড়াই বলতে পারি যে, এর শক্তি অফুরন্ত। শুধু তাই নয়, আমি বিজ্ঞানী ও বিশেষজ্ঞদের প্রতি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলতে পারি আমার এ যন্ত্রের শক্তি সম্পর্কে কেউ দ্বিমত পোষণ করতে পারবেন না। আমার উদ্ভাবিত এ যন্ত্র দিয়ে আমার পরিবারের বিদ্যুতের চাহিদা মিটিয়ে আমি পাশের বাসায় সরবরাহ করেছি। এই যন্ত্রে এখন যে পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে তা দিয়ে ২০টি ফ্যান ও ১০০টি ১০০ ওয়াটের লাইট জ্বালানো সম্ভব।”

বিশ্লেষণ: এই বক্তব্যের দুর্বলতা হচ্ছে, তিনি সাংবাদিকদের তার ইঞ্জিন সম্পর্কে কিছুই বলতে চাননা। সামান্য কিছু ইনফর্মেশন দিলেই হয়তো ধরা পড়ে যাবেন এই ভয় রয়েছে। জ্বালানি ছাড়াই ইঞ্জিন চলার বিষয়টি তাপগতিবিদ্যার প্রথম সূত্রকেই লংঘন করে। এছাড়া মাত্র ১৭ লাখ টাকা দিয়ে ইঞ্জিনের এক্সপেরিমেন্টাল সেট আপ বানানো সম্ভব না। ৪০/৫০ লাখ টাকা দেখতে দেখতে খরচ হয়ে যায়। বার বার ট্র্যায়াল এন্ড এরর করতে হয়। তিনি নিজেই উল্লেখ করেছেন, ৩৫০ বার চেষ্টা করে অবশেষে সফল হয়েছেন। ১৭ লাখ ভাগ ৩৫০=৪ হাজার ৮০০ টাকা। মাত্র ৪৮০০ টাকা দিয়ে খেলনা গাড়ির ইঞ্জিন বানানোর এক্সপেরিমেন্টও সম্ভব নয় আর ২০১১ তার দেওয়া হিসাবে একটা বড় ধরনের ভুল আছে। এভারেজ একটা ফ্যানের পাওয়ার যদি ৫০ ওয়াট ধরি, তাহলে ২০ টা ফ্যান কারেন্ট খাবে ২০x৫০=১,০০০ ওয়াট .১০০ টা বাল্ব কারেন্ট খাবে ১০০x১০০=১০, ০০০ ওয়াট। মোট কারেন্ট হল তাহলে ১০, ০০০+১০০০=১১, ০০০ ওয়াট। ১ হাজার ওয়াটে ১ কিলোওয়াট। তার মানে ১১ হাজার ওয়াটে ১১ কিলোওয়াট। কিন্তু তার ইঞ্জিন তো কারেন্ট বানায় মাত্র সাড়ে ৩ কিলো ওয়াট। ১১ কিলোওয়াটের লাইট ফ্যান চলল কেমনে?

শরিফুল ইসলাম ,যিনি sharifuelless এর আবিষ্কারক

রেফারেন্স : ইউটিউব ভিডিও

২। শহিদ হোসেন সানি ( হেকমত টেকনোলজি )

গত কয়েক বছরে এই টেকনোলজির নাম খুব বেশি শোনা গেছে। ছেলেটার নাম শহিদ হোসেন সানি। তার ফেসবুক একাউন্টে এডুকেশন নিয়ে কিছুই লেখা নেই। কিন্তু কিছু নিউজপেপারে তাকে ইলেক্ট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর ছাত্র হিসাবে বলা হয়েছে। কয়েকটা ইন্টারভিউতে তিনি বলেছেন, ২০০৩ সালে তার লেখাপড়ায় গ্যাপ পড়ে যায়। ২০০৭ সালে ক্লাস নাইনে এসে আবার তিনি ভর্তি হন। বর্তমানে তিনি ডিপ্লোমা পড়তেছেন। ২০১৪ শালের ৬ ডিসেম্বর সে প্রেসক্লাবে তার আবিষ্কারের ঘোষনা দেয় .তার মেশিনটার নাম দিয়েছে সে Heavy Circular Moving Objects Triggering Energy সংক্ষেপে HeCMOTE টেকনোলজি সম্পর্কে এক নিউজপেপারে দেখলাম, ” মধ্যাকর্ষণ শক্তিকে ব্যবহার করে পদার্থবিদ্যার পাঁচটি সূত্রকে কাজে লাগিয়ে তেল, গ্যাস, কয়লা, সোলার বিদুৎ বা কোন রকম কোন জ্বালানী ছাড়াই বিদ্যৎ উৎপাদনের এক প্রযুক্তি আবিষ্কার করেন। এবং এটা কল্পনা নয় বাস্তব গত দুই বছর যাবৎ এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে টঙ্গীতে ৮০ কিলোওয়াটের বিদুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে শাহিদ হোসেন বলেন, আমরা বাংলাদেশ সহ অনেক দেশের একাধিক প্রস্তাব পেয়েছি। সিঙ্গাপুরের এক কম্পানি কয়েক মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাবনা দিয়েছে। তাছাড়া ২০০৮ কানাডিয়ান এক কম্পানি ১৫০ কোটি টাকায় এই প্রযুক্তিটি কিনতে চেয়েছিল। কিন্তু আমি চাই আমার এই উদ্ভাবিত প্রযুক্তির মাধ্যমে আমার দেশ এবং এই দেশের মানুষ উপকৃত হোক, তাই আমি এই প্রযুক্তি হস্তান্তর করিনি। টেকনোলজির নাম কিংবা মার্কেটিং ছাড়া এখানে আর কোনো চমক নেই। তার নিজের ফেসবুক একাউন্ট কিংবা গ্রুপে আমি অনেক খুজেছি, কাজের জিনিস কিছুই চোখে পড়েনি। এবিসি রেডিওর ‘জীবনের গল্প’ প্রোগ্রামে তার ইন্টারভিউ শুনেছিলাম। টিভি চ্যানেলেও কয়েকটা ইন্টারভিউ সে দিয়েছে। মেশিনটার মেকানিজম সম্পর্কে এখানে সে বলেছে, ২০০৩ সালে ইলেক্ট্রিক বিল বাকি থাকার কারনে আমাদের বাসার ইলেক্ট্রিক লাইন কেটে দেওয়া হয়। খুব কষ্টে ছিলাম তখন। তখন কারেন্ট বানানোর ইন্সপাইরেশন পেলাম। আমার একাডেমিক লেখাপড়া এই লাইনে নয়। আমি নিজের মত করেই বাসায় ইঞ্জিনিয়ারিং বই কিনে এনে পড়া শুরু করলাম। এছাড়া দেশের বিভিন্ন পাওয়ার প্লান্ট ভিজিট করতে গেলাম। ২০০৭ সালে আমি আমার উদ্ভাবনী ক্ষমতা কাজে লাগিয়েই একটা পাওয়ার প্লান্ট এর ডিজাইন করে ফেললাম ———— – একটা ১০০ কেজি ওজনের গোলাকার বস্তু তুলতে হলে আমাকে ১০০ কেজি শক্তি লাগবে, কিন্তু ওই গোলককে সারফেস (সমতল জায়গা)এর উপর দিয়ে অনেক কম শক্তি দিয়েই ধাক্কা দিয়ে চালানো সম্ভব। আমি ১০ কেজি ওজন দিয়েই গোলকটাকে ধাক্কা দেই। গোলকটা তখন সারফেসের উপর দিয়ে চলতে থাকে। সারফেসের সাথে মেকানিকাল, কেমিকাল এবং ইলেক্ট্রিকাল ইন্টারফেস লাগানো আছে। বলটা যখন চলতে থাকে, তখন সে সারফেসে ১০০ কেজি শক্তি দিয়েই যাইতে থাকে, ফলে ১০ কেজি শক্তি থেকে ১০০ কেজি শক্তি পাই ” ———————————— ভিডিও থেকে তার অজ্ঞতা বেশ পরিষ্কার হয়েছে। ভরের একক কেজি, ওজনের একক নিউটন। একটা ১০০ কেজি ভরের গোল বস্তু চুপচাপ যদি বসে থাকে, তখন তার পেটের ভিতর স্থিতি শক্তি জমা হয়। সেটা তার নিচের টেবিল (সারফেস)কে ১০০x৯.৮১=৯৮১ নিউটন বল দিবে তখন। টেবিলটা এর সমান পরিমান প্রতিক্রিয়া বল দিচ্ছে বলেই বলটা ঠান্ডা হয়ে বসে আছে। যদি গোলকের ওজন টেবিলের প্রতিক্রিয়া শক্তির চেয়ে বেশি হয়, তাহলে টেবিল ভেঙ্গে সেটা নিচে পড়বে। আর যদি টেবিলের প্রতিক্রিয়া বল বেশি হয়, তাহলে সেটা গোলককে উপরে ঠেলে তুলবে (লিফটের মত)। একই সারফেসের উপরে আমি যদি গোলকটাকে ঠেলা দিতে চাই, তখন আমার শক্তি লাগবে F=ma পরিমান (বল=ভরxত্বরন) ত্বরন জিনিসটা স্পিডের সাথে রিলেটেড। কম স্পিডে ধাক্কা দিতে চাইলে কম শক্তি লাগবে, বেশি স্পিডে ধাক্কা দিতে চাইলে বেশি বল লাগবে . ১ মিটার পার সেকেন্ড ত্বরনে আমি যদি ধাক্কা দিতে চাই তাহলে আমার বল লাগবে ১০০ কেজিx১ মিটার পার সেকেন্ড=১০০ নিউটন। এই গোলকের তখন কোন স্থিতিশক্তি থাকবেনা। থাকবে গতি শক্তি। (গতি শক্তি বের করার সুত্র = 0.5xভরxবেগxবেগ) এই বেগের উপাংশ থাকবে সোজা সামনের দিকে। যদি আমি এঙ্গেল করে ধাক্কা দেই, তাহলে সেই ধাক্কার উপাংশ কিছু থাকবে সোজা সামনে, কিছু থাকবে সোজা মাটির দিকে। শহীদ সাহেবের কথা অনেযুয়ায়ী একেবারে সোজাসুজিই ধাক্কা দেওয়া হবে। সো, এখানে নিচের দিকে কোনো বল কাজ করবেনা। সো, গোলকটা গড়িয়ে গড়িয়ে যাওয়ার সময় কোনো কাজ করবেনা। সারফেসের সাথে ইলেক্ট্রিকাল আর মেকানিকাল কি ডিভাইস কেমনে লাগাইছে সেইটা বলেনাই। কেমিকাল কোনো রিএজেন্ট যদি লাগায়, সেটা গোলকের সাথে বিক্রিয়া করে শক্তি উৎপন্ন করলেও করতে পারে। কিন্তু এক্ষেত্রে তাকে নিয়মিত ওই কেমিকালটা রিফিল করে দিতে হবে। মানে এইখানে তার জ্বালানি লাগতেছেই। জাস্ট তার নিজের লেকচারটা একটু ‘ওজনদার’ করার জন্যই সে এইসব শব্দ ইউজ করেছে বলে মনে হচ্ছে। এগুলার কোনো আগাও নাই, মাথাও নাই, কেবলই গালভরা বুলি। ২০১০ শালের দিকে এক অনুসন্ধানী সাংবাদিক/ব্লগার গিয়েছিলেন সানি সাহবের হেকমত টেকনোলজি দেখতে। সেখানে তার সামনে ডেমোস্ট্রেশন দেখানো হয়, একটা ৩ কিলো ওয়াটের মটর থেকে পাশের রুমে ৩ কিলো ওয়াটের জেনারেটর চলতেছে। তার মানে ৩ থেকে ৩০ কিলো ওয়াট হচ্ছে। তবে সেই ব্লগারের হিসাব মতে, রুমের এক কোনায় চটে জড়ানো একটা জিনিস লুকানো ছিল, সম্ভবত বেশি শক্তি ওয়ালা একটা আইপিএস, সেখান থেকেই প্রয়োজনীয় শক্তি এসেছিল। চট উল্টিয়ে দেখার মত সিচুয়েশন তিনি তৈরি করতে পারেননি। ব্লগে এই লেখাটা লেখার পর থেকেই তিনি উলটা শহিদ সাহেবের কাছ থেকে হুমকি পাচ্ছেন বলে লিখেছেন ।

শহিদ হোসেনের প্রেস কনফারেন্স

হেকমত টেকনোলজির মেকানিজম সম্পর্কে জানতে চেয়ে বারবার অনুরোধ জানানো হলে তিনি এই ফ্লো চার্ট দেন ।প্রথমত, ভারী বস্তুকে ঘুরাইতে গেলে অনেক এনার্জি লস হবে,এই পদ্ধতিটা কোথাও কেউ ইউজ করেনা । দ্বিতীয়ত, তার বাসায় যে সেট আপ দেখা গেছে,সেখানে টারবাইন বসানোর মত জায়গা ছিলনা । তৃতীয়ত, যতটুকু এনার্জি পাওয়া যাচ্ছে,সেটা দিয়ে নতুন স্টেপে আবার মেশিনটা চালানো যাবেনা ।পারপেচুয়াল মোশন মেশিনের মত অবস্থা হবে । চতুর্থত, এখানে কোনো বস্তু উপর থেকে নিচে পড়তেছেনা বা উঠতেছেনা ।একই জায়গায় বসে থেকে হয়তো ঘুরতেছে । সো এখানে গ্রাভিটেশন এনার্জি আসলে ইউজ করা হচ্ছেনা । তার টেকনোলজির নামকরনের ক্ষেত্রেই ভুল রয়েছে

রেফারেন্স – নিউজ 1 2 3 4 5 6 7
হেকমতের সমালোচনা করে লেখা – 1

৩। ড. সৈয়দ আব্দুল খালেক (কাইনেমেটিক ইঞ্জিন)

ডক্টর সৈয়দ আব্দুল খালেক ঢাকা ইউনিভার্সিটির প্রান রসায়ন বিভাগে লেখাপড়া করেন। পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালে তিনি লন্ডন ইউনিভার্সিটি থেকে ইমিউনোএনজাইমোলজি এর উপরে পিএইচডি করেন। স্বর্না নামে একটি সার উদ্ভাবন করে তিনি বেশ পরিচিতি পেয়েছিলেন। ২০১৪ শালের ২২ এপ্রিল তিনি একটি প্রেস কনফারেন্স করে নিজের নতুন আবিষ্কারের ঘোষণা দেন। জ্বালানি ছাড়াই চলতে পারবে এইরকম একটা মেশিনের কথা বলেন তিনি। তিনি মেশিনটার নাম দিয়েছেন কাইনেমেটিক ইঞ্জিন সংবাদ সম্মেলনে ড. খালেক বলেন, কাইনেম্যাটিক ইঞ্জিনের ব্যাপারে এবারই প্রথম তিনি জনসম্মুখে কিছু বলছেন। এর আগ পর্যন্ত এটি নিয়ে জনসম্মুখে তিনি কোনো বক্তব্য রাখেননি। এমনকি বিশ্বের কোথাও কোনো সংবাদ সম্মেলনও করেননি। ইঞ্জিনটির পেটেন্ট করা আছে তার নিজের নামে। পেটেন্ট কোম্পানির শর্তাবলী আরোপিত থাকায় ইঞ্জিনটির কোনো ছবি বা ডায়াগ্রাম এখন পর্যন্ত জনসম্মুখে প্রদর্শন করা সম্ভব নয়। তবে যেকোনো উৎপাদনকারী চাইলে তার অনুমতিসাপেক্ষে ইঞ্জিনটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করতে পারবেন। এটি দিয়ে যে কোনো রকম যানবাহন, পাম্প, বৈদ্যুতিক জেনারেটরসহ ইঞ্জিনচালিত সবকিছু চালানো সম্ভব। এ ইঞ্জিনটির আবিষ্কারে দেশী-বিদেশী বিজ্ঞানীদের একটি চৌকস দল কাজ করেছে। এ ইঞ্জিন আবিষ্কারে যেসব সংস্থা অর্থ জোগান দিয়েছে তাদের একটি হচ্ছে যুক্তরাজ্যের জাতীয় বিজ্ঞান একাডেমি রয়েল সোসাইটি। তিনি বলেন, বল বৃদ্ধির নীতি ব্যবহার করে কিছু কিছু যন্ত্র -যেমন হাইড্রলিক প্রেস, লিভার, ফালক্রাম ইত্যাদি প্রযুক্ত বলকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। লব্ধ বল এবং প্রযুক্ত বলের অনুপাতকে যান্ত্রিক সুবিধা বলে। যে যন্ত্রের যান্ত্রিক সুবিধা যত বেশি, তার কর্ম দক্ষতা তত বেশি। আমার কাইনেমেটিক ইঞ্জিন বল বৃদ্ধির এই নীতি ব্যবহার করবে। ফলে প্রযুক্ত বলের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি বল পাওয়া যাবে। অতিরিক্ত কোনো জ্বালানি ছাড়াই এটি যান্ত্রিক উপায়ে বল বৃদ্ধি করবে।

বিশ্লেষণঃ স্যারের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, স্যার এখানে পারপেচুয়াল মোশন মেশিনের গোলকধাঁধায় আটকা পড়ে গেছেন। হাইড্রোলিক প্রেস কিংবা লিভারে বল বৃদ্ধি করা যায়, সত্য কথা। হাইড্রোলিক প্রেসে ২ টা আলাদা সাইজের পাইপ থাকে। ২ টা পাইপেই একই পরিমান চাপ এপ্লাইড হয়। এক মাথায় চাপ দেওয়া হয়, আরেক মাথায় চাপ বের হয়ে আসে। চাপ= বল/ক্ষেত্রফল। যেহেতু পাইপ ২ টার সাইজ আলাদা, তাই যেপাশে ক্ষেত্রফল বেশি সেখানে বল বেশি হবে আর যেখানে ক্ষেত্রফল কম সেখানে বল কম হবে। এই মূলনীতি (প্যাসকেলের সূত্র) ইউজ করে চিকন পাইপের মাথায় অল্প একটু বল দিয়ে মোটা পাইপের মাথায় বেশি বল পাওয়া যায়। লিভার (lever) এর ক্ষেত্রে মাঝে একটা ফালক্রাম (ঠেকা দেওয়ার জায়গা) থাকে। ফালক্রামের উপরে একটা কাঠ/তক্তা/রড রেখে তার ২ মাথায় ২ টা আলাদা ভরের বস্তু/ওজন রাখা হয়। ফালক্রাম থেকে যে মাথার দূরত্ব বেশি, সেই মাথায় অল্প একটু ফোর্স দিলে অন্য প্রান্তে অনেক বেশি বল পাওয়া যায়। বাচ্চাদের সি স খেলাতেও এই জিনিসের কিছুটা প্রয়োগ আছে। এর কারণ, কেন্দ্র থেকে ২ প্রান্তের ২ টা বলের মোমেন্টই সমান। এখানে মোমেন্ট= বলxদূরত্ব। যেখানে বল কম, সেখানে দূরত্ব বেশি দেওয়া হয়। ফলে যেখানে দূরত্ব কম, সেখানে আমি বল বেশি পাব। লিভার বা হাইডড়োলিক প্রেসের মত করে ইঞ্জিনে বল বৃদ্ধি করা যাবে না, কারণ ইঞ্জিনে তাপের পরিবর্তনের ব্যাপার আছে। ফলে ইঞ্জিনে থার্মোডাইনামিক্সের সূত্র লাগাতে হবে। হাইড্রোলিক প্রেস কিংবা লিভারে তাপের পরিবর্তন ঘটে না, ফলে এখানে গতিবিদ্যার সূত্রই যথেষ্ট।

ড আব্দুল খালেক ,কাইনেমেটিক ইঞ্জিনের উদ্ভাবক

রেফারেন্স –  1, 2

ব্যালান্স অবস্থায় একটা লিভার

৪। মিজান, যশোর

যশোরের মিজান সাহেবের জন্ম ১৯৭১ সালে। মিজানের বাবা ছিলেন ইঞ্জিনমিস্ত্রি। মিজানরা ছয় ভাই-বোন। অনেক কষ্ট করে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়তে পেরেছিলেন মিজান। পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেলে ১৯৮৩ সালে নাভারন বাজারে একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজ খুলে বসেন। বাজারে মুকাইল মিয়ার ছিল পুরনো লোহা-লক্কড়ের ব্যবসা। তাঁর কাছ থেকে অপ্রয়োজনীয় লোহা নিয়ে এসে কারিকুরি করতেন। এভাবে ১৯৯২ সালের দিকে একটি ডিজেল ইঞ্জিন আবিষ্কার করেন মিজান। এটি আবিষ্কারের পর থেকেই তাঁর মাথায় ভূত চাপে। লোহা-লক্কড়ের সঙ্গেই কাটে দিন-রাত। স্বয়ংক্রিয় অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র, মিজান গাড়ি, ডিজিটাল কাইচি সহ অনেক মেশিন তৈরি করেছেন তিনি। এসবের জন্য অনেক পুরষ্কার ও পেয়েছেন। ২০১৫ সালে যশোর বিজ্ঞান মেলায় অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের জন্য মিজান প্রথম পুরস্কার পান। খুলনার বিভাগীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায়ও তিনি এই যন্ত্র নিয়ে প্রথম হন। জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন। ২০১৬ সালে স্বয়ংক্রিয় সেচযন্ত্র আবিষ্কারের কারণে যশোরের ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলায় শ্রেষ্ঠ তরুণ উদ্ভাবকের পুরস্কার অর্জন করেন। মূল খবর হচ্ছে, এই বছরের জানুয়ারি মাসে তিনি জ্বালানিবিহীন একটা ইঞ্জিন তৈরি করে ফেলেন। মিজানুর রহমান মিজান স্বাধিন বাংলা টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন,জ্বালানী বিহিন ও ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় ভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পটি তৈরি করতে খরচ হয়েছে প্রায় লাখ টাকা।এটি তৈরিতে প্রয়োজন ৩০ কেজি ওজনের একটি ফ্লাই হুইল, একটি ডিসি মোটর, পৌনে এক কিলোওয়ার্টের একটি জেনারেটর,একটি ট্রান্সফর্মা,বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও একটি চ্যাচিজ। যন্ত্রটি পরিবেশ দূষন মুক্ত, শব্দ বিহিন, ভাইব্রেশন মুক্ত, ঝুকি মুক্ত ও সেল্ফ স্ট্রার্ট।“দীর্ঘস্থায়ী ও মানসম্মত এ যন্ত্রটির মাধ্যমে ২০ থেকে২৫টি এনার্জি বাল্ব জ্বালানো সম্ভব এবং গভীর নলকুপে সেচ সংযোগ দিয়ে ১০ বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা সম্ভব।

বিশ্লেষণ: প্রথমত, মিজান সাহেবের অন্যান্য আবিষ্কারগুলো দেখলাম। অগ্নি নির্বাপন মেশিনের জন্য তিনি জাতীয় পর্যায়েও পুরষ্কার পেয়েছেন। তার উদ্ভাবনগুলো প্রসংশনীয় কিন্তু জ্বালানিবিহীন ইঞ্জিনের ক্ষেত্রেই প্রশ্ন থেকে যায়। এখানে মোটর,জেনারেটর সবই ইউজ করা হচ্ছে। তারপরেও এটাকে জ্বালানিবিহীন ইঞ্জিন বলা হচ্ছে কেন? এটা সাংবাদিকের ভুল নাকি মিজান সাহেব একটু বাড়িয়ে বলছেন? মিজান সাহেব কি আরেকটু বেশি খ্যাতি অর্জনের জন্য এই ইঞ্জিনের গল্প বলছেন? এই বছরের ১৭ই জানুয়ারি ‘নিলয়’ নামে এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটির এক ছাত্র মিজান সাহেবের বিরুদ্ধে তার টেকনোলজি চুরির অভিযোগ করেন। এদের মধ্যে কে যে সত্য কথা বলছে সেটা বেশ কনফিউজিং।

রেফারেন্স : 1 (খুব সম্ভবত ১ নং সাইট ডাউন এখন)2 3

১ লাখ টাকার ও কম খরচে বানানো ডিজিটাল জ্বালাবিহীন ইঞ্জিন

http://www.kalerkantho.com/print-edition/oboshore/2016/04/02/342699 http://www.jessoreexpress.com/2016/01/17/%E0%A6%AF%E0%A6%B6%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9B%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A8-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%81/ http://www.ittefaq.com.bd/wholecountry/2016/07/13/76071.html?no_redirect=true

৫। গিয়াসউদ্দিন, চট্টগ্রাম

২০০৮ সালের একটিমাত্র নিউজ লিঙ্ক পাচ্ছি এই ঘটনার ব্যাপারে। আর কোথাও কোনো নিউজ নাই। এখানে একইভাবে একইরকম দাবি করা হয়েছে। বলা হয়েছে “যন্ত্রপাতি তৈরির ব্যয় ছাড়া আর কোনো ব্যয় হবে না উদ্ভাবিত এই নতুন পদ্ধতিতে।” চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স মিলনায়তনে গিয়াস উদ্দিন কচি নাকি তার উদ্ভাবিত নতুন এ প্রযুক্তির মাধ্যমে এক হাজার ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে দেখান।

বিশ্লেষণ: পারপেচুয়াল মোশন মেশিনের কেস বলে মনে হচ্ছে। সাংবাদিকদের সামনে ডেমোনেস্ট্রেশন দেখানোর জন্য কোনো এক ধরনের গোঁজামিল করে লাইট জালিয়ে দেখানো হতে পারে। গত ৮ বছরে গিয়াসউদ্দিন সাহেবের আর কোনো নিউজ খুঁজে না পাওয়াটাও সন্দেহজনক। (1, 2)

৬। মাহবুবুর রহমান, রাঙ্গামাটি

২০১৬ সালের মে মাসে তাকে নিয়ে পত্রিকায় রিপোর্ট ছাপা হয়েছিল। সেখানে বলা হয়েছে– কোন প্রকার জ্বালানী ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদন করার কৌশল আবিষ্কার করেছে রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার কিশোর বৈজ্ঞানিক মোঃ মাহবুর রহমান। মাহবুবুর রহমান জানান, এই পাওয়ার বক্সের আধুনিকায়ন করে কাজে লাগাতে পারলে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখা সম্ভব। এজন্য সে সরকারী সহায়তা কামনা করেছে। এ বিষয়ে রাবেতা মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল কবির জানান, “তাদের স্কুলের ছাত্র মাহবুর রহমান অত্র বিদ্যালয় হতে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। সে লেখা পড়ার পাশাপাশি বিজ্ঞান বিষয়ক গবেষণা কাজ নিয়েও সর্বদা ব্যস্ত থাকতো। তার গবেষণার মাধ্যমে পাওয়ার বক্স নামে বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে ফর্মূলা আবিষ্কার করেছে তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তার এ আবিষ্কারে আমরা সকলেই অভিভূত।”

বিশ্লেষণ: মাহবুবুর রহমানের প্রযুক্তি দিয়ে কিন্তু বেশি ভারি কোনো মেশিন চালানো যায় না। লাইট ফ্যান টিভি ফ্রিজ প্রজেক্টর চালানো যায়। সম্ভবত তিনি কোন এক ধরনের ব্যাটারি/আইপিএস/পাওয়ার ব্যাংক বানিয়েছেন। জ্বালানি বলতে তিনি এবং সাংবাদিকরা সম্ভবত তেল/গ্যাস/কয়লাকেই বুঝিয়েছিলো। ইলেক্ট্রিসিটিকে তারা কোনো ধরনের জ্বালানি হিসেবে ধরেনি। এখানেই ভুলটা হয়েছিল এবং ভুল শিরোনামে তারা নিউজটা ছেপে দিয়েছে।

রেফারেন্স: 1, 2

৭। নজরুল ইসলাম, রাজশাহী, বাঘা (পাওয়ার বক্স)

পাওয়ার বক্স নামে প্রায় একই ধরনের টেকনোলজি আবিষ্কার করেছেন নজরুল ইসলাম নামে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার নজরুল ইসলাম .২০১৪ সালের ৩১ মে তার নিউজ পত্রিকায় ছাপা হয়। উপজেলার আহম্মদপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম নামের ওই ব্যক্তি চারটি ব্যাটারি, একটি বৈদ্যুতিক মোটর এবং জেনারেটর দিয়ে আবিষ্কার করেছেন সেচ কাজ যন্ত্র। যার তিনি নাম দিয়েছেন পাওয়ার বক্স। এটি বাণিজ্যিকভাবে ছড়িয়ে দিতে পারলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সাশ্রয়ে এটি বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে বলে দাবি করেন তিনি। উদ্ভাবক নজরুল ইসলাম জানান যে এলাকায় তাঁকে মেকার নামে ডাকা হয়। এই মেকারি করতে করতে এরই মধ্যে তিনি নিজেই বিভিন্ন গাড়ির গিয়ার বক্সও তৈরি করেছেন। শেষে দীর্ঘ তিন বছর ধরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ছাড়াই পাওয়ার বক্স উদ্ভাবনের কাজে হাত দেন। এরই ধারাবাহিকতায় নতুন প্রযুক্তির ওই পাওয়ার বক্স উদ্ভাবন করতে সক্ষম হন তিনি। ওই পাওয়ার বক্সের মাধ্যমে এক দিকে পানি উঠানো ছাড়াও বট্যারি চার্জ, ফ্যান চালানো, লাইট জ্বালানো, টিভি চলানোসহ দিনে ৮ থেকে ১০ বিঘা জমিতে সেচের কাজও করা যাচ্ছে। সবমিলিয়ে এটি তৈরি করতে তাঁর ব্যয় হয়েছে ৩২ হাজার টাকা।

বিশ্লেষণ: ডিটেইলস ডিজাইন এখানে বুঝতে পারিনি । তবে তার মেশিনটা ভালভাবে চেক করা হয়েছে কিনা এটা দেখার বিষয়। মটর, জেনারেটর লাগানো মেশিন —কোথা থেকে কোথায় শক্তি যাচ্ছে সাধারন মানুষ সব সময় বুঝতে নাও পারে ২০১০ সালে গোপালগঞ্জে শিমসন সাহা শিমু নামের এক মেকানিকের মেশিন নিয়ে একই ধরনের চিল্লা পাল্লা শুরু হয় । তার মেশিনটার নাম ছিল মেকানিকাল পাওয়ার বক্স । প্রথম আলোতেও তখন তিনি কভারেজ পান। অনেকেই তখন তার টেকনোলজি ভেরিফাই করতে আগ্রহী হয়। কিছুদিন পরে শিমু সাহেব জানালেন যে তার মেশিনটা চুরি হয়ে গেছে। এত বছরেও তার শক্তির বাক্স নতুন করে বানানোর কোনো নিউজ পেলাম না কোথাও।

রেফারেন্স – 1, 2, 3

৮। জালাল, নাটোর (ফেরাল জিম)

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫ এর সংবাদপত্রে এলো –

তরুণ উদ্ভাবক মো. জালাল উদ্দিন আবিষ্কার করেছেন জ্বালানীবিহীন বিদ্যুৎ উৎপাদন মেশিন ‘ফেরাল জিম’। নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার নগর ইউনিয়নের পাঁচবাড়িয়ায় স্থাপন করেছে তার এই সফল বিদ্যুতের প্লান্ট। উদ্ভাবক মো. জালাল উদ্দিন জানান, আবিষ্কৃত ‘ফেরাল জিম’ মেশিনের উৎপাদিত বিদ্যুতেই উক্ত মেশিনটি চলতে থাকবে। উক্ত প্রযুক্তির মেশিন সম্পূর্ণ বায়ু ও শব্দ দূষণমূক্ত এবং পরিবেশ বান্ধব। মেশিনের ওয়েস্টেজ এবং পরিচালনার খরচ অন্তে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় মাত্র কুড়ি পয়সা। গ্যাস, ডিজেল, ফার্নেস ওয়েল, কয়লা, সোলার, জল বিদ্যুৎ এবং পরমানু ইত্যাদি বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের খরচের চেয়ে উক্ত প্রযুক্তির বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ অনেক কম। আবিষ্কৃত মেশিনটিতে বাহিরের যে কোনো শক্তি জ্বালানি হিসাবে ১০ মিনিট ব্যবহার করার পর মেশিনের উৎপাদিত বিদ্যুৎ শক্তি পুনঃচক্রাকার পদ্ধতিতে ৪০% উক্ত মেশিনের জ্বালানী হিসাবে ব্যবহার করে অবশিষ্ট ৬০% বিক্রয় করা যাবে। আবিষ্কৃত মেশিনের বিদ্যুৎ উৎপাদনের আউটপুট রেশিও ৩ অনুপাত ২। উক্ত প্রযুক্তির মেশিন সম্পূর্ণ বায়ু ও শব্দ দূষণমূক্ত এবং পরিবেশ বান্ধব। প্রতি পাঁচ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন মেশিন তৈরি করতে অর্থ লাগবে দেড় মিলিয়ন মার্কিন ডলার। উক্ত প্রযুক্তির মেশিনে কোন প্রকারের ঝুঁকি নেই। কেননা ঝুঁকিপূর্ণ বিস্ফোরক জাতীয় কোন প্রকারের পদার্থ মেশিনের ভিতরে এবং বাহিরে ব্যবহার করা হয়নি। মেশিনের ওয়েস্টেজ এবং পরিচালনার খরচ অন্তে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় মাত্র কুড়ি পয়সা। গ্যাস, ডিজেল, ফার্নেস ওয়েল, কয়লা, সোলার, জলবিদ্যুৎ এবং পরমানু ইত্যাদি বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের খরচের চেয়ে উক্ত প্রযুক্তির বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ অনেক কম। এ প্রযুক্তির মেশিনে মেকানিক্যালে ফ্রিকশন লস ধরা হয়েছে বি-বেল্ট সাড়ে এগার পারসেন্ট, চেইন পিনিয়নে সাড়ে তিন পারসেন্ট এবং স্পার গিয়ারে দেড় পারসেন্ট। প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ আউট করার জন্য শক্তির প্রয়োজন হয় এক দশমিক আট হর্স পাওয়ার। আবিষ্কৃত প্রযুক্তির মেশিনে সমস্ত প্রকারের ফ্রিকশন লস অন্তে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ আউট করার জন্য শক্তির জোগান দেওয়া হয়েছে বার হর্স পাওয়ার। প্রতি পাঁচ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার জন্য অলটারনেটর লাগবে ৯৫০০ কিলোওয়াট। অলটারনেটর এর দক্ষতা ৯০% হিসাবে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে ৮৫৫০ কিলোওয়াট। আবিষ্কৃত মেশিনে ড্রাইভিংয়ের জন্য ৫০০ হর্স পাওয়ারের ২টি মটর অটো টাইমারে ১০ ঘন্টা করে রানিং থাকবে। এভাবে ‘ফরাল জিম’ মেশিনটি ২৪ ঘন্টাই বিদ্যুৎ আউটপুট করতে থাকবে। আবিষ্কৃত মেশিনের উৎপাদিত বিদ্যুৎ পুনঃচক্রাকারভাবে ২টি মটরের জন্য জ্বালানি হিসেবে বিদ্যুৎ থাকবে ৩৫৫০ কিলোওয়াট। আউটপুট লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ হবে ৫০০০ কিলোওয়াট। প্রযুক্তির পাঁচ মেগাওয়াট মেশিনের স্থান লাগবে ২৮৮ বর্গফুট। আবিষ্কৃত প্রযুক্তির মেশিনের বিদ্যুৎ বহিঃপ্রকাশ করার জন্য ‘জুনায়েদ পাওয়ার লিমিটেড’ নামে একটি কোম্পানি গঠন করা হয়েছে। জুনায়েদ পাওয়ার লিমিটেড কোম্পানী বর্তমান পয়ত্রিশ লাখ টাকা খরচ করে ২৫০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন একটি মেশিনের কাজ শেষ করেছে। আর্থিক সমস্যার কারণে উক্ত মেশিনে ১০ কিলোওয়াট বিদ্যুৎ আউটপুট দেখানো হচ্ছে এবং মেশিন বর্তমানে রানিং আছে। প্রযুক্তির উদ্ভাবক ও মেশিন প্রস্তুতকারীদের নিরাপত্তাসহ বাংলাদেশ সরকার জুনায়েদ পাওয়ার লিমিটেড কোম্পানিকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করিলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের মধ্যে বাংলাদেশের বিদ্যুতের চাহিদা সম্পূর্ণরূপে পূরণ করে বাংলাদেশ সরকার বহির্বিশ্বে বিদ্যুৎ রপ্তানি করতে পারবে।

বিশ্লেষণ: প্রতিবেদনের হিসাব অনুযায়ী আউটপুট লাইনে বিদ্যুৎ থাকবে ৫০০০ কিলোওয়াট। কিন্তু এই মুহুর্তে আউটপুট লাইনে দেখাচ্ছে মাত্র ১০ কিলোওয়াট । কারণ কী? কারণ –’আর্থিক সমস্যা’ (লাস্টের দিক থেকে ৪ নাম্বার লাইন দেখুন) । সাংবাদিককে তিনি ‘কারিগরী সমস্যা’র কথাও বলতে পারতেন । বলতে পারতেন যে ডিসপ্লে বোর্ড নষ্ট , ভিতরে কারেন্ট ঠিকই প্রোডাকশন হচ্ছে বেশি, বাইরে কম ।সত্যিকার মেশিন দেখাতে না পারলে এইভাবেই গোঁজামিল দিয়ে মানুষকে বুঝ দিতে হয় এই মেশিনের আইডিয়া এসেছে পারপেচুয়াল মোশন মেশিন থেকে, তো এটা বানানো আসলে সম্ভব নয়।

রেফারেন্স – 1, 2, 3, 4.

৯। আল আমিন (বোরাক)

২০১২ সালের ১৬ই জুলাই একটি নিউজ পাই। নিউজপেপার থেকে কপি পেস্ট করছি এখানে ” প্রাকৃতিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রযুক্তি ‘বোরাক’ কোনো প্রকার জ্বালানি ছাড়াই বছরের পর বছর বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম বলে জানালেন নতুন উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তির উদ্ভাবক মোহাম্মদ আল-আমীন।

আজ শনিবার ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউটে আয়োজিত সাংবাদ সম্মেলনে এমনই দাবি করেন তিনি।

আল-আমীন জানান, ১৯৯৬ সাল থেকে ধারাবাহিক গবেষণার পর সম্প্রতি তিনি এ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করতে সক্ষম হন। যা দিয়ে ঘর গৃহস্থলির চাহিদা পূরণ করে চালানো যাবে শিল্প-কারখানাও।

প্রযুক্তির বর্ণনায় তিনি বলেন, বৈদ্যুতিক ও চৌম্বকীয় শক্তির আন্ত:সম্পর্ক এবং ওজন ও গতির সংমিশ্রনের এই ‘বোরাক’ প্রযুক্তিটি তৈরী। ‘বোরাক’ প্রযুক্তি ‘ক’ ‘খ’ও ‘গ’ এই ৩টি ইউনিটে বিভক্ত। ‘ক’ ইউনিট সাধারণ ও প্রচলিত প্রযুক্তির মিশ্রনে তৈরি, উৎপাদন ক্ষমতা সাধারণ। ‘খ’ ইউনিট সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক, উৎপাদন ক্ষমতা ব্যাপক এবং ‘গ’ ইউনিট অফুরন্ত বিদ্যুৎ শক্তির আধার। এসময় এই প্রযুক্তির ভিডিও ক্লিপস দেখিয়ে বর্ণনা করেন, পদ্ধতিটিকে একবার শক্তি দিয়ে নির্দিষ্ট গতির অবস্থানে তুলে দেয়া হলে সে যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে তার ১০ ভাগের ১ ভাগ নিজেকে সক্রিয় করার কাজে ব্যবহার করে অবশিষ্টাংশ সরবরাহ করতে পারবে। এটি একবার চালু করার পর আর কোনো জ্বালানির প্রয়োজন হবে না।

বিশ্লেষণ : এটা একটা আদর্শ পারপেচুয়াল মোশন মেশিন হয়ে গিয়েছে । প্র্যাকটিকালি এই রকম মেশিন বানানো সম্ভব না।

রেফারেন্স – 1, 2

১০। জাফর সাদিক

২০১৪ সালে সিলেটে বসবাসরত জাফর সাদিক নামের এক লোক ঢাকায় প্রেস কনফারেন্স করে বলেন, আমি জ্বালানিবিহীন বিদ্যুৎ আবিষ্কার করেছি। এখন বিভিন্ন গ্রুপ আমার টেকনোলজি চুরি করে নিয়ে যেতে চাচ্ছে। আমাকে খুন করার হুমকি দিচ্ছে। সরকারের কাছে আমি আমার জীবনের নিরাপত্তা চাই। এই প্রেস কনফারেন্সের আগে কিংবা পরে কখনোই তার টেকনোলজি বিষয়ক কোনো নিউজ পাইনি।

রেফারেন্স – 1, 2.

১১। নওগাঁর প্রত্যান্ত গ্রামে জ্বালানিবিহীন বিদ্যুৎ

নওগাঁর এক নিভৃত পল্লীতে কোন জ্বালানি ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহার করছেন গ্রামবাসী। নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম বারাতৈলে গ্যাস, পেট্রোল, ডিজেল ও কয়লার মত জ্বালানি বা সৌরশক্তির ব্যবহার ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। বারাতৈল গ্রামের দুটি পাড়ার লোকজন নিয়ে গড়ে উঠেছে ‘ক্ষুদ্র গ্রামীণ বিদ্যুৎ সমিতি’। ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে এ সমিতির ব্যবস্থপনায় দুই গ্রামের ১৪২টি বাড়ি ও ৩ টি মসজিদে এ বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে। বিদ্যুৎ গ্রাহকরা জানান, বাজার থেকে কেনা বৈদ্যুতিক মিটারের সাহায্যে প্রত্যেক গ্রাহকের বিলের হিসেব করা হয়। প্রতি গ্রাহককে মাসে ৯৫ টাকা লাইন রেন্ট ও সার্ভিস চার্জ দিতে হয়। আর প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ২ টাকা ৮৫ পয়সা। ছাত্রছাত্রীরা এখন বৈদ্যুতিক আলোতে লেখাপড়া করতে পারছে। ফ্যান, ফ্রিজসহ সবধরণের বৈদ্যুতিক সামগ্রী ব্যবহার করা যাচ্ছে বলে আনন্দিত এলাকার মানুষ। জ্বালানিবিহীন বিদ্যুতের উদ্ভাবক বদিউজ্জামান বলেন, ১০ বছর পরিশ্রমের পর এ প্রক্রিয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হয়েছেন তিনি। ১২ ভোল্টের ৪টি ব্যাটারি ও ১টি ইউপিএসের সাহায্যে একটি বৈদ্যুতিক মোটর ঘুরিয়ে একটি ৩ কিলোওয়াটের জেনারেটর চালানো হয়। একটি স্টেপ-আপ ট্রান্সফরমার দিয়ে ১১ হাজার ভোল্ট উৎপাদন করা হয়। আরেকটি স্টেপ-ডাউন ট্রান্সফরমার দিয়ে ১১ হাজার থেকে ২২০ ভোল্টে রূপান্তর করা হয়। এ বিদ্যুৎ দিয়ে আবার ব্যাটারিগুলো চার্জ করা হয়। তাই এখানে কোন জ্বালানির প্রয়োজন হয় না। এ বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কোন জ্বালানি ব্যবহার হচ্ছে না বলে এটি পরিবেশ বান্ধব, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে আরো বৃহত্তর পরিসরে এ বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যাবে এবং সহজেই জনপ্রিয়তা অর্জন করবে বলে মনে করছেন সুফলভোগী গ্রাহকরা।

বিশ্লেষণ: নিউজটার আগা মাথা কিছু বুঝলাম না। ২ টা সম্ভাব্য সলিউশন মাথায় আসলো। প্রথমত, এই গ্রামের লোকেরা অন্য গ্রাম থেকে সরকারী কারেন্টের লাইন চুরি করে এনে নিজেদের গ্রামে কানেকশন নিয়েছে। সাংবাদিকের কাছে চুরির গল্পটা আড়াল করতে গিয়ে জ্বালানিবিহীন বিদ্যুতের কথা বলেছে। দ্বিতীয়ত, তেল দিয়ে জেনারেটর চালিয়েই এরা কারেন্ট বানাচ্ছে। সাংবাদিককে হয়তো ভূগোল বুঝিয়েছে, কিংবা সাংবাদিকও এক লাইন বেশি লিখেছে।

রেফারেন্স – 1, 2.

উপসংহার

নেট ঘাঁটলে আরো অনেকগুলো তথাকথিত জ্বালানিবিহীন ইঞ্জিন আবিষ্কারের গল্প খুঁজে পাওয়া যাবে। মিডিয়াকে কেউ যদি আকর্ষণ করতে পারে, তার ভাগ্যে ব্যাপক সংবর্ধনা জোটে। খুব কম ক্ষেত্রেই তাকে সমালোচনা সইতে দেখা গেছে। এক সময় বিভিন্ন কুসংস্কারকে আশ্রয় করে এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী গড়ে উঠেছিলো। বর্তমান সময়ে কেউ আর সহজে কুসংস্কার বিশ্বাস করে না। এখন তাই বিজ্ঞানের ছদ্মবেশেই কুসংস্কার ঢুকছে। ২-৪ টা সায়েন্টিফিক টার্ম জুড়ে দিয়ে নিজের মনগড়া কথাকেই ‘বৈজ্ঞানিক’ বলে চালাতে চান অনেকে। বাংলাদেশের সাংবাদিক মহল কিংবা সুশীল সমাজের আরেকটু বেশি সচেতন হওয়া দরকার, যেন বিজ্ঞানের নাম করে এই ধরনের অপবৈজ্ঞানিক গালগল্প কিংবা ধান্দাবাজি বন্ধ করা যায়।

Comments

আপনার আরো পছন্দ হতে পারে...

মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানান

2 মন্তব্য on "জ্বালানিবিহীন বিদ্যুৎ উৎপাদন সংক্রান্ত অপবিজ্ঞান"

জানান আমাকে যখন আসবে -
avatar
সাজান:   সবচেয়ে নতুন | সবচেয়ে পুরাতন | সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত
Mir Mohamed Ullah
অতিথি

I think we should make our journalists well educated before educating these half educated scientists. In this way we can get rid of such confusing news.

Rony voltage lab
অতিথি

আমাদের এই বিষয়গুলো ভালোভাবে পর্যবেক্ষন করা উচিত কেননা এই বিষয়গুলো দক্ষতা খুব একটা ভালো নয়। বিজ্ঞানিক ভাবে আরো চিন্তা করে এগুলো নিউজে দেওয়া উচিত।

wpDiscuz