নভেল করোনা ভাইরাস নিয়ে কিছু আশংকা, কিছু প্রশ্নোত্তর ও কিছু সামাজিক দায়িত্ব

কেন নতুন করোনা ভাইরাস (Covid-19) নিয়ে অবশ্যই আতংকিত হব?
কেন অবশ্যই প্যানিক অনুভব করব?

মানুষ (হোমো সেপিয়েন্স) এর জন্য সবচেয়ে বড় ভয় কি জানেন? বড় ভয় হল ‘অজানা জিনিসের প্রতি ভয়’ বা ‘fear of unknown’. [1] মানুষ যে জিনিসকে ভালোভাবে জানে না সেটাকে সে বিশাল মাত্রায় ভয় পায়। মৃত্যুভয় এর কাছে তুচ্ছ।

করোনা ভাইরাস নিয়ে বর্তমানে বিজ্ঞানীরা সবে জানতে শুরু করেছেন। তাই পুরোপুরি জেনে উঠার আগ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসের ব্যাপারে ভীষণ রকম আতংকিত না হবার কোনো প্রশ্নই আসে না! উদাহরণ দিচ্ছি।

একটা আন-পীয়ার রিভিউড নিউজ লেটারে একদল বিজ্ঞানী ধারণা করেছেন যে করোনা ভাইরাসটি পুরুষদের প্রজননতন্ত্রের ক্ষতি সাধন করতে পারে।[2] উনাদের আশংকা এখনো যদিও পুরোপুরি তাত্ত্বিক, যাকে বলে educated guess বা শিক্ষিত ধারণা, তা সত্ত্বেও এটাকে নিয়ে অবশ্যই আতংকিত হবার কারণ আছে। এটার ব্যাপারে পুরোপুরি সিদ্ধান্ত নিতে অন্তত তিন মাস লাগবে। করোনায় আক্রান্ত পুরুষদের তিনমাস পর শুক্রাণু পরীক্ষার মাধ্যমে এটা নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ভেবে দেখলেই ভয়টা আরো বাড়া উচিত যে তিন মাসের মাথায় যদি তাদের ধারণা ঠিক হয় তাহলে এই তিন মাসে যেসব পুরুষ করোনায় আক্রান্ত হবে তাদের সংখ্যাটা কত হবে? বাংলাদেশের কথা-ই ধরি। আন্দাজে বললেও সেটা কোটির উপরে হওয়া অসম্ভব না।

এবার ভাবা উচিত আমরা কি এই ঝুঁকি নিতে আগ্রহী?
একটা বন্ধ্যা (impotent) জাতি হিসেবে কি আমরা আগামীতে টিকে থাকতে পারবো?

প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট হওয়া আর ভাইরাসের কাছে মানুষের হেরে যাওয়া সমার্থক। এই হার প্রজাতির কাছে প্রজাতির হার। মানব প্রজাতির সার্থকতা বংশবিস্তার করে তার জিনেটিক তথ্য রেখে যাওয়ার মাঝে নিহিত।
সেই মানব প্রজাতির মাঝে সবচেয়ে করুণ পরিণতি হতে যাচ্ছে হয়ত বাংলাদেশের।

আমি আতংকিত হবার পক্ষে। প্যানিক করার পক্ষে।

আমি মৃত্যু ভয়ে ভীত নই- অজানা জিনিসের প্রতি ভয়ে ভীত।
এ ব্যাপারে আমি নিউট্রাল নই। তাই ‘darkest places in hell’ দেখা হচ্ছে না আমার, কারণ-
“The darkest places in hell are reserved for those who maintain their neutrality in times of moral crisis.”
– Dante

References:
[1] Fear of the unknown: One fear to rule them all?

https://www.sciencedirect.com/science/article/pii/S0887618516300469

[2] https://www.newsweek.com/chinese-scientists-coronavirus-male-fertility-1488235

(অন্যান্য বিজ্ঞানীদের চাপের মুখে পড়ে মূল নিউজলেটারটি মুছে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন এটার লেখকরা। সেটি পড়তে চাইলে নীচের গুগল ড্রাইভ ফাইল দেখুন)


https://drive.google.com/open?id=1sMSSlI8H9gAeX7a-sjIkIVXFKGVU3xxs 

                                    সাধারণ সচেতনতা

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ৩০ সেকেন্ড ধরে সাবান দিয়ে পানিতে ভালভাবে ঘষে হাত ধোয়া হ্যান্ড স্যানিটাইজারের চেয়েও বেশী কার্যকর।

তাই দামী হ্যান্ড স্যানিটাইজারের উপরে জোর না দিয়ে সাবান-পানি দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়ার উপর সবাইকে জোর দিতে উৎসাহিত করুন।

তথ্যসূত্রঃ https://www.businessinsider.com/coronavirus-photos-why-you-should-wash-hands-with-soap-water-2020-3


প্রশ্নোত্তরে করোনা ভাইরাসের  ব্যাপারে সচেতনতা

√√√√√√√√√🎓🎩🎓√√√√√√√√√

🕹প্রশ্ন 00: পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা কি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে?
উত্তরঃ সম্ভাবনা আছে, এমনটাই একদল গবেষক দাবী করেছেন। এর কারণ হল পুরুষের অন্ডকোষের টিস্যুতে ACE 2 এনজাইমটি প্রচুর পরিমাণে থাকে। যেহেতু এই এনজাইমের সাহায্যে করোনা ভাইরাস মানুষের কোষে প্রবেশ করে তাই ভাইরাসটি শরীরে ছড়িয়ে পড়লে পুরুষের অন্ডকোষের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হতে পারে। সন্তান জন্মদানে অক্ষমও হয়ে যেতে পারেন অনেক করোনা আক্রান্ত পুরুষ।
_____________________
🕹প্রশ্ন 0: করোনা ভাইরাস মানুষের শরীরে কতদিন পর্যন্ত বাঁচে?
উত্তর: এটার সঠিক উত্তর নিয়ে কেউ পুরোপুরি নিশ্চিত নয়৷ যারা বেঁচে যাবেন তাদের কয়েকসপ্তাহ থেকে শুরু করে কয়েকমাস পর্যন্ত শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি থাকতে পারে। যেহেতু রোগটি অপেক্ষাকৃত নতুন তাই এই প্রশ্নের একদম সঠিক উত্তর জানতে আমাদের আরো গবেষণা করতে হবে৷
_______________________
🕹প্রশ্ন ১: কাপড়ে/ আসবাবপত্রে করোনা ভাইরাস কতক্ষণ জীবিত থাকে?
উত্তর: কাপড়ে ঠিক কত সময় করোনা ভাইরাস থাকে সেটা কাপড়ের উপাদানের উপর নির্ভর করে। কিছু গবেষণা বলছে তিন দিন পর্যন্ত থাকতে পারে। আসবাবপত্রের ধরণের উপর নির্ভর করে ভাইরাসটি কত সময় সক্রিয় থাকবে। যেমন প্লাস্টিকের উপর তিন দিন, আবার কপারের উপর চার ঘন্টা। তাই গড়ে তিন-চারদিন ধরে নিয়ে সাবধানতা অনুসরণ করা উচিত।
বিঃদ্রঃ একটি ক্রুইজ শীপে ১৭ দিন পরেও ভাইরাসের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া গেছে। তাই উপরের সংখ্যাগুলোর উপর বেশী নির্ভর না করাটাই সমীচিন।
_______________________
🕹প্রশ্ন ২: বাহির থেকে আসার পর পরিহিত জামাকাপড়, ব্যাগ, ফোন ইত্যাদি কিভাবে ক্লিন করবো? বাসায় ঢুকেই জামাকাপড় ধোয়া সম্ভব না। বিকল্প উপায় কি?
উত্তরঃ বাইরে থেকে এসে জামাকাপড় অবশ্যই ধুতে দিতে হবে। ডিটারজেন্টের পানিতে একদিন রেখে পরদিন রোদে দুঘন্টার উপর শুকাতে হবে। মাথায় রাখতে হবে করোনা ভাইরাস কাপড় ঝাড়লে বাতাসে ১২ ঘন্টার মত ভেসে থাকতে পারে। তাই কাপড় অরক্ষিত অবস্থায় রাখা অত্যন্ত বিপদজনক। ব্যাগ যদি ধোয়া না যায় তাহলে করোনা ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই- কারণ ব্যাগের সারফেসে তিন-চারদিন এই ভাইরাস থাকতে পারে। তাই ব্যাগের ব্যাপারে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিন।
ফোন এলকোহল প্যাড কিংবা যেকোনরকম এলকোহল ভিত্তিক হ্যান্ড-স্যানিটাইজার ব্যবহার করে পরিষ্কার করুন৷
_______________________
🕹প্রশ্ন ৩: মাস্ক পড়লেই কি আমরা নিরাপদ ?
উত্তর: করোনা ভাইরাসের আকার এতই ক্ষুদ্র যে সাধারণ কাপড়ে তৈরি মাস্ক কিংবা ফিল্টার লাগানো অল্প দামের মাস্ক কাজে আসবে না। যে ধরণের মাস্ক করোনা ভাইরাস আটকে দিতে পারে সেটা সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য নয়৷ সেই মাস্ক ব্যবহারেরও কঠিন রকম প্রটোকল আছে৷ তাই কেবল মাস্কের ভরসায় কোথাও চলাচল করবেন না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে যে সব ব্যক্তি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়নি তাদের মাস্ক পড়ার কোনো প্রয়োজন নেই। সবচেয়ে যেটা বেশী প্রয়োজন সেটা হল সবসময় দূরত্ব বজায় রাখা৷ তবে নিজের হাঁচি কাশির কফ-থুতু বাইরে না আসা কিংবা ভুলবশত হাত দিয়ে নাক বা মুখ ধরার অভ্যাস কমানোর জন্য যে কেউ মাস্ক পড়তে পারেন। এক্ষেত্রে সার্জিক্যাল মাস্ক বেশ ভাল কাজ দিবে। তবে এক্ষেত্রে মাস্কের বারবার ব্যবহারের ব্যাপারে সাবধান হতে হবে। বারবার ব্যবহারে সার্জিক্যাল মাস্ক তার ফিল্টার করার সক্ষমতা হারায়। সার্জিক্যাল মাস্ক দিয়েই বর্তমান সংকটাবস্থা অনেকাংশে কাটাতে পারবেন। তবে কেবল মাস্কের ভরসায় থাকবেন না। ভাইরাস চোখ দিয়েও প্রবেশ করতে পারে। একটা বিষয় মনে রাখতে হবে, যেটা অনেক বিশেষজ্ঞ বলে থাকেন, “মাস্ক অনেক ক্ষেত্রে মানুষের মনে মিথ্যা সেইফটির অনুভূতি সৃষ্টি করে। তাই মাস্ক পড়ার সাথে সাথে অন্যান্য হাইজিন প্রটোকলগুলোও কঠোরভাবে মেনে চলুন৷
_______________________
🕹প্রশ্ন ৪: কতটুকু দূরত্ব নিরাপদ দূরত্ব?
উত্তর: কমপক্ষে ৩ ফুট বা প্রায় ১ মিটার (বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভাষ্য মতে)। তবে অনেক ডাক্তার বলছেন ৬ ফুট বা দুই মিটার হলে বেশী নিরাপদ।
_______________________
🕹প্রশ্ন ৫: করোনা ভাইরাস মূলত কীভাবে ছড়ায়?
উত্তর: করোনা ভাইরাস ছড়ানোর পদ্ধতি হল হাঁচি ও কাশির মাধ্যমে নাক ও মুখ থেকে বের হয়ে আসা জলীয় পদার্থ যেটা খালি চোখে দেখা যায় না। তাই কেউ হাঁচি কাশি দিলে যেন সেই জলীয় পদার্থ আপনার কাছে না আসে সে জন্যই পাবলিক প্লেসে দূরত্ব বজায় রাখার জন্য এতটা জোর দেয়া হচ্ছে৷
______________________
🕹প্রশ্ন ৬: করোনা ভাইরাসের ওষুধ কী?
উত্তর: ইতিমধ্যে কয়েকটি ওষুধকে করোনা ভাইরাসের চিকিৎসার ব্যাপারে কাজে লাগানো যাবে বলে গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে। তবে ওষুধগুলো ডাক্তারের সরাসরি পর্যবেক্ষণ ছাড়া নিজে খেলে কমবয়সী মানুষও ওভারডোজেই মারা যাবার খুব বেশী সম্ভাবনা আছে। ধারণা করা হচ্ছে কয়েকদিনের মাঝেই আমরা করোনার সাথে যুদ্ধ করার মত ওষুধ নিয়ে নিশ্চিতভাবে কথা বলতে পারবো৷ তাই ভয়কে দূরে সরিয়ে হাইজিনকে চর্চা করুন।
______________________
🕹প্রশ্ন ৭: করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে প্রতিদিনকার উপসর্গ গুলো কি কি? সেই উপসর্গের বিপরীতে আমরা কি কি ব্যবস্থা নিতে পারি?
যেমনঃ জ্বর হলে জ্বরের, মাথা ব্যথা হলে এটার সাধারণ ঔষধ খাওয়া যাবে কি না?
উত্তর: করোনা ভাইরাস মূলত ফুসফুসে আঘাত হানে৷ তীব্র শ্বাসকষ্ট হল প্রতিদিনের উপসর্গ। এর সাথে জ্বর, গা শিরশির করা, মাথাব্যথা, হাঁশি, নাক দিয়ে অনবরত পানি পড়া, কাশি(শুকনো), পেশী দুর্বল হয়ে যাওয়া, ডায়রিয়া, বমিভাব, কাশির সাথে কফের দলা উঠে আসা, বুক ও গলার ভেতর ব্যথা, ঢোক গিলতে ব্যথা এসব আছে। খুব মারাত্মক পরিস্থিতে কাশির সাথে রক্ত উঠে আসা ও কিডনী বিকল হয়ে যাওয়ারও সম্ভাবনা আছে। মূলত করোনা ভাইরাস ডিজিজ-১৯ একটি তীব্র নিউমোনিয়া জাতীয় রোগ।
জ্বর হলে যেকোনভাবেই মস্তিষ্কের তাপমাত্রা কমাতে হবে৷ সেটা মাথায় পানি ঢালা থেকে শুরু করে মাথায় পট্টি দেয়াও হতে পারে। জ্বর কমানোর জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ চিকিৎসকের নির্ধারণ করে দেয়া নির্দিষ্ট ডোজ অনুসরণ করে খেতে হবে৷ মাথাব্যথার ওষুধও চিকিৎসকের বলে দেয়া ডোজ মেনে নিতে হবে৷ মাথায় রাখতে হবে করোনায় যাদের অবস্থা বেশ খারাপ হয়ে যায় তারা নিজের ইচ্ছামত ওষুধ খেয়ে সুস্থ হবার বদলে মারাও যেতে পারেন। তাই প্রতি পদক্ষেপে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
_____________________
🕹প্রশ্ন ৮: সাধারণ ভাবে যা শুনেছি ভাইরাস টা শরীরে ঢোকার মাধ্যম হচ্ছে চোখ, নাক ও মুখ। এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে, শরীরের বিভিন্ন ক্ষতস্থান দিয়ে (কাটা-ছেঁড়া অথবা এলার্জি জাতীয় রোগের কারণে চুলকানির মাধ্যমে যেসব ক্ষত হয়) ভাইরাস কি শরীরে ঢুকতে পারবে?
উত্তর: সংক্ষিপ্ত উত্তর হল – সেটার সম্ভাবনা খুবই কম। বিস্তারিত ব্যাখ্যা নিচে দিচ্ছি।
করোনা ভাইরাস মানব কোষে প্রবেশের জন্য একটা এনজাইমের সাহায্য নেয় (নাম ACE 2)। এই এনজাইমটি ফুসফুসের এলভিওলাইয়ে (বায়ুথলীতে) থাকা একটা বিশেষ রকম কোষে (নাম টাইপ ২ এলভিওলাই কোষ) প্রচুর পরিমাণে থাকে। তাই করোনা ভাইরাস প্রথমে ফুসফুসে আক্রমণ করে। কাঁটা-ছেঁড়ার জায়গায় টাইপ-২ এলভিওলাই কোষ না থাকলে করোনা ভাইরাস প্রবেশের হার খুবই কমে যাবে, যদি সে স্থানে অন্য কোনো কোষে এ এনজাইমটা না থাকে৷ চুলকানীর মাধ্যমে জৈবরাসায়নিক কারণে যদি কোনো কারণে সে জায়গায় ACE 2 এনজাইম তৈরি হয়ে যায় তাহলে করোনা ভাইরাস সেখানকার কোষে প্রবেশ করতে পারবে৷ তবে এমন কিছু হবার সম্ভাবনা কম বলেই আপাতত এই মুহূর্তে আমরা সবাই ধরে নিব, কারণ এখন পর্যন্ত সবাইই ফুসফুসের ইনফেকশনে পড়েছেন করোনা ভাইরাসের প্রভাবে৷
_____________________
🕹প্রশ্ন ৯: ফল সব্জী এসব খাওয়া নিয়ে নির্দেশনা কী? খুবই সহজে এগুলো ভাইরাসের সংস্পর্শে আসতে পারে। সবজী হয়ত রান্না করে খাওয়া হল,ফলের সার্ফেসে ভাইরাস থাকলে সেক্ষেত্রে করণীয়? কীভাবে জীবানুমুক্ত করা যায়?
উত্তর: খাওয়ার আগে ফলকে অবশ্যই জীবাণুমুক্ত করতে হবে৷ অনেক ফলের উপরিতল পরিষ্কার হাতে সাবানের ফেনা দিয়ে মাখিয়ে ভাল করে ঘষে পরিষ্কার করা সম্ভব। সহজ উদাহরণ: আপেল, নাসপাতি, পেয়ারা। অনেক ফলের উপরে খোশা থাকলেও সেগুলোকে উপরে বলা পদ্ধতিতে ধুয়ে জীবাণুমুক্ত করে খাওয়াটা সংক্রমণের ঝুঁকি কমাবে৷ যেমন: আম, কমলা, কমলালেবু, মাল্টা, বেদানা, জাম্বুরা, এমনকি কলা। যেসব ফল জীবাণুমুক্ত করার সুযোগ নেই বলে মনে হবে সেগুলোকে কাঁচা না খাওয়াটাই উচিত৷ তবে মনে রাখতে হবে কোনো ফল যদি ধুয়ে চার-পাঁচদিন কোনো কিছুর সংস্পর্শ ছাড়া রাখা সম্ভব হয় তাহলে সেটা পরিষ্কার হাতে ধরে খেতে পারবেন, কেননা আগেই বলা হয়েছে করোনা ভাইরাস একেক জিনিসের গায়ে একেক সময় পর্যন্ত টিকে থাকে আর ধোয়ার মাধ্যমে ভাইরাসের সংখ্যা অনেক বেশী কমিয়ে ফেলা যায়। তবে ফল খাবার ব্যাপারে সবসময় নিজের বুদ্ধির পরিচয় দিতে হবে৷ সবসময় নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে ভাইরাস কোন কাজটা করলে শরীরে প্রবেশ করবে- তারপর সে কাজটা করা বাদ দিতে হবে।
কিছু সবজি খাবার ব্যাপারেও একই সতর্কতা মানতে হবে- যেমন টমেটো, শশা, গাজর, ব্রকলী ইত্যাদি যেগুলো কাঁচা খাওয়া যায়৷ এক্ষেত্রেও নিজের বিবেচনার উপর নির্ভর করে কাজ করুন৷
_______________________
🕹প্রশ্ন ১০: জ্বর বা সর্দিকাশি দেখা না গেলেও কি কারো শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি থাকতে পারে?
উত্তর: হ্যাঁ। উপসর্গগুলো দেখা না গেলেও একজন মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত অবস্থায় থাকতে পারেন৷ এধরণের ঘটনাগুলোর অনেক রিপোর্ট বর্তমানে পাওয়া গিয়েছে৷ এধরণের কেইসগুলোতে যে মানুষটি নিজেকে সুস্থ বলে ভাবছেন তার দ্বারাই বহু লোক ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে। তাই দুর্যোগ পুরোপুরি না কাটা পর্যন্ত দেখা সাক্ষাতের সময় নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। হাইজিনের প্রটোকল অনুসরণ করুন৷ দেখতে সুস্থ হলেই নিজেকে বা অন্যদেরকে ভাইরাস থেকে মুক্ত ভাবার কোনো সুযোগ নেই।
______________________
🕹প্রশ্ন ১১: ধূমপায়ীদের জন্য করোনা ভাইরাস ডিজিজ কতটা মারাত্মক?
উত্তরঃ করোনা ভাইরাসের মূল আঘাত আসে প্রথমে ফুসফুসে। ধূমপায়ীদের ফুসফুস সুস্থ মানুষের তুলনায় অনেক দুর্বল থাকে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে ধূমপায়ীরা তাই তীব্র শ্বাসকষ্টে বেশী ভুগেন। আপনি যদি ধূমপায়ী হন তাহলে করোনার ভয়াবহ সংক্রমণ থেকে বাঁচতে অবিলম্বে ধূমপান করা ত্যাগ করুন। নিজের শরীরকে করোনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার ব্যাপারে সাহায্য করুন।
______________________
🕹প্রশ্ন ১২: শিশুদের বেলায় করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা কেমন? তারা কী এই ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে মুক্ত থাকে? শিশুদের কাছ থেকে কি পূর্ণবয়স্করা সংক্রমিত হতে পারে?
উত্তর: এখন পর্যন্ত জানামতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে ১টি এক বছরের শিশুর মৃত্যু হয়েছে। (২৯ই মার্চ, ২০২০ পর্যন্ত) শিশুদের মাঝে সাধারণ সর্দিকাশি-জ্বর সৃষ্টি করে এই ভাইরাস। কেন শিশুরা এই ভাইরাসে কম মৃত্যুর স্বীকার হয় তার প্রকৃত কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি৷ তবে মাথায় রাখতে হবে শিশুরাও এই ভাইরাসের পোষক, তাই ভাইরাস তাদের সংক্রমণ করলে তাদের সংস্পর্শে আসা পূর্ণবয়স্করা একই ভাবে আক্রান্ত হতে পারে। তাই শিশুদের বেলায়ও সমান সতর্কতা ও দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।
______________________
🕹প্রশ্ন ১৩: করোনা ভাইরাসে একবার আক্রান্ত হলে কি পুনরায় আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা থাকে?
উত্তরঃ ইতিমধ্যে এমন কয়েকটি কেইস পাওয়া গিয়েছে যেখানে রোগীকে সুস্থ হিসেবে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেয়ার পর পুনরায় তাদের শরীরে কিছুদিন পর রোগের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। কেন এমনটা হল সেটা নিয়ে এখনো পর্যাপ্ত গবেষণা করার সময় পাওয়া যায়নি। তাই এধরণের ঘটনা ঘটতে পারে এমনটা মেনে নিয়েই আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে।
______________________
🕹প্রশ্ন ১৪: যারা এ্যাজমাতে আক্রান্ত তাদের করনীয় কি?কিভাবে সাবধান থাকা যায়?
উত্তরঃ এজমা আক্রান্তদের ব্যাপারে স্বাস্থ্য সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ সতর্কতা অনুসরণ করতে বলেছে। এজমা আক্রান্তদের আইসোলেশনের মেয়াদ দ্বিগুণ। অর্থাৎ চার সপ্তাহ।
এজমা আক্রান্তদের ইনহেলার সবসময় মজুদ রাখতে উপদেশ দেয়া হয়েছে আইসোলেশনের সময়। স্টেরয়েড জাতীয় ইনহেলারগুলো যেহেতু কিছুটা এজমা আক্রান্তদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়ার মাধ্যমে এজমা নিয়ন্ত্রণ করে, তাই করোনার সংক্রমণ হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কিছুটা হলেও কম থাকে। তাই যতটা পারা যায় জীবাণুমুক্ত থাকা, ফুসফুসের জন্য উপকারী খাবারদাবার খাওয়া এগুলোই হল পরামর্শ।
_______________________
🕹প্রশ্ন ১৫: ব্লিচিং পাউডার পানিতে মিশিয়ে স্প্রের মাধ্যমে ভাইরাস মুক্ত করা কি সম্ভব?
উত্তরঃ হ্যাঁ সম্ভব। সেক্ষেত্রে সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করে মিশ্রণ তৈরি করতে হবে। এই বিষয়ক গাইডলাইন CDC (Center for Disease Control and Prevention) ওয়েবসাইটে আছে।
____________________
🕹প্রশ্ন ১৬ঃ স্যাভলনের বিষয়টি একটু নিশ্চিত করেন। অনলাইনে জেনেছি, ” স্যাভলনে ভাইরাস মরেনা, ব্যাক্টেরিয়া মরে।” কিন্তু হাসপাতালে তো আমরা দেখি সবসময়ই অনুজীব ধ্বংস করতে স্যাভলন ব্যবহার করা হয়। এই ব্যাপারে একটু বলবেন দয়া করে। যদি স্যাভলনে সত্যিই কোন কাজ না হয়, তাহলে হ্যান্ডওয়াশ, ডিটারজেন্ট, সাবান ইত্যাদি ব্যবহারেই বা কতটুকু নিশ্চয়তা পাবো, একটু বলবেন। এমনক্ষেত্রে কি ব্যবহার করে শরীর, জামাকাপড় জীবাণুমুক্ত রাখতে পারি?
উত্তরঃ স্যাভলন (লিকুইড এন্টিসেপটিক) করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর কিনা সেটা প্রমাণ হয়নি। ওরা কোনো ল্যাব টেস্ট করতে পারেনি। কারণ ভাইরাসের স্যাম্পল ওদের কাছে নেই। (২৬ মার্চ, ২০২০ পর্যন্ত )
করোনার বিরুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর হচ্ছে সাবান-পানি দিয়ে ২০ (বা ৩০) সেকেন্ডের উপর হাত ধোয়া (WHO অনুযায়ী)। হ্যান্ড স্যানিটাইজারও ততটা কার্যকর না যতটা সাবান-পানি দিয়ে ২০ (বা ৩০) সেকেন্ড হাত ধোয়া।
এর কারণ হল অধিকাংশ সময় ব্যবহারের সময় হ্যান্ড স্যানিটাইজারের পরিমাণ কম থাকে এবং হাতের সবজায়গায় সমানভাবে ছড়ানো সম্ভব হয় না।
তাই গরীবি শোনালেও করোনার বিরুদ্ধে কম দামী সাবানই সেরা যেগুলোতে ক্ষারের পরিমাণ বেশী থাকে।
কম দামী সাবান হলেই সবচেয়ে ভালো যে সাবানে ক্ষার বেশী। কাপড় ধোয়ার সাবান হলে সবচেয়ে ভালো করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে।
_________________________
🕹প্রশ্ন ১৭ঃ এক জায়গায় দেখলাম ২০ লিটার পানিতে ১ চা চামচ ব্লিচ পাউডার ব্যাবহার করে স্প্রে করার কথা বলছে। ব্লিচ পাউডার কি COVID-19 ভাইরাস ধ্বংস করতে সক্ষম?
উত্তরঃ CDC এর ওয়েবসাইটে দেয়া গাইডলাইন অনুসরণ করে বানালে ব্লিচ সলিউশন খুব কার্যকর।
______________
🕹প্রশ্ন ১৮ঃ কবর দিলে রোগ ছড়ানোর সম্ভাবনা কতটুকু? আর কবর দেওয়া মানে কিন্তু শুধু মাটি চাপা না। প্রথমে লাশকে কাফনে মোড়ানো হয়, তারপর কবরের উপর বাশঁ দেওয়ার পর তার উপর চাটাই দেওয়া হয়। সবশেষে মাটি চাপা দেওয়া হয়। এতে কি সমস্যা দেখা দিবে?
উত্তরঃ (ছোট উত্তরঃ)
মৃতদেহের শেষকৃত্য কেমন করে করা হবে সেটার গাইডলাইন একেক জায়গায় একেকভাবে অনুসরণ হচ্ছে।
তবে সবাই যা অনুসরণ করার চেষ্টা করছে তা হল
১) যত দ্রুত সম্ভব শেষকৃত্য সম্পাদন করতে
২) ১৫০ মাইক্রন তা তার চেয়ে বেশী পুরু কাপড় দিয়ে পুরো মৃতদেহ মুড়িয়ে দাফন করতে
৩) বায়ু নিরোধক কফিন ব্যবহার করতে
৪) পোড়ানোর সুযোগ থাকলে ইলেক্ট্রিক চুল্লীতে উচ্চতাপে মৃতদেহ পোড়াতে

মৃত দেহ থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকে। না থাকলে এসব নিয়ম অনুসরণ করার কোনো দরকার ছিল না। চাইলে তখন মানুষ লাশ নিয়ে শোভা যাত্রা করতে পারতো- যা আন্তর্জাতিক গাইডলাইন মোতাবেক বর্তমানে “নিষিদ্ধ”।

       গ্রামের মানুষেরা খুব খুব বড় ঝুঁকির মাঝে আছে।

শহর থেকে যারা গ্রামে গেছে তারা অনেকে স্বেচ্ছায় গ্রামে সচেতনতা তৈরি করতে গিয়ে ব্যর্থ হচ্ছে। একে তো শহর থেকে ভাইরাস গ্রামে গেছে, তার উপর গ্রামের মানুষ ভাইরাস নিয়ে উপহাস করছে। এদের জন্য কিছু না করা হলে বাংলাদেশে মৃত্যুর সংখ্যা কোথায় গিয়ে ঠেকবে সেটা আমি ভাবতে চাই না। যেকোনো স্টাডিকে গ্রামের মানুষের কাজে লাগাতে হবে। যে কোনোভাবে হোক এটা করতে হবে। আশা করি এতটুকু আপনারা করবেন।
আমরা এখন আর ভাইরাসের নাম নিয়ে দুশ্চিন্তার পর্যায়ে নেই। Covid-19 বললে যদি একটা মানুষেরও মৃত্যুর দ্বারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা বেড়ে যায় তাহলে করোনাতেই সই- করোনাতেই কাজ চালাবো। নিজে সুস্থ থেকে গ্রামের মানুষকে যত দ্রুত পারা যায় এই রোগের ভয়াবহতা বোঝাতে হবে। এটাই এখন মূল কাজ আমাদের সকলের।
তাদেরকে তাদের ভাষায় বোঝাতে হবে, যাদের কথা তারা মানবে তাদের দিয়ে প্রচারণা চালাতে হবে।
সরকারের আশায় বসে থাকলে চলবে না। নিজেদের সরকারি লোক ভেবেই এখনি বোঝাতে হবে যে এটা মহামারী। এক কোটি লোকের মৃত্যু আমরা সইবো কি করে? এই কঠিন সত্য না হয় আপাতত ভুলে থাকি আমরা? তাদের বাঁচানোর জন্য ক্লান্ত না হয়ে পড়ি?
বুদ্ধি বের করুন, লেগে থাকুন। নেট ঘেটে সাইকোলজি আর্টিক্যালের আশ্রয় নিন। বুঝতে তাদের হবেই।
ডাক্তারী বিদ্যা ফলাতে হবে তো। হাল ছাড়লে হবে? সাইকোলজি ব্যবহার করতে হবে। বিভিন্ন দিক থেকে বারবার বোঝাতে হবে। কখনো আস্তে কখনো কড়া কন্ঠে। তবেই তো ওরা বুঝবে।
ভাইরাসের সুনামি যায় যাক। তাও গ্রামের মানুষগুলোকে বাঁচাতে হবে।
সম্ভব হলে একটু হাস্যরস মিশিয়ে গ্রামের মানুষদের ব্যাপারে আমরা যেন হতাশ না হই সে ব্যাপারে কিছু লিখতে পারেন। এ মুহূর্তে অনেক তরুণ-তরুণী গ্রামে অবস্থান করছে। তাদের হাতে বিশাল দায়িত্ব আমাদের দেশের মূল কৃষিসমাজকে বাঁচানোর। আমরা না পারলে আর কেউ পারবেনা।
হাসি দরকার আছে তো। হাসিকেই কাজে লাগাতে হবে আমাদের । মজা করে করে একটু একটু করে মাথায় ঢোকাতে হবে। তাও সবাই যেন শেষ পর্যন্ত ভালোটাই চায় একে অন্যের সেটা নিশ্চিত করতে হবে।
গ্রামের মানুষের উদাসীনতার কথা শুনে বুক ফেটে হয়ত কান্না আসবে। তখন প্রয়োজনে দুফোঁটা চোখের পানি ফেলার পর আবারো নতুন উদ্যমে চেষ্টা করতে হবে। তাদেরকে তাদের ভাষাতে বোঝাতে হবে। বারবার বলতে হবে। বারবার আওড়াতে হবে ভাইরাসের ভয়াবহতা।
জ্ঞানের এই কষ্টের বোঝা বুকে বয়ে নিয়েই তাদেরকে নতুন উদ্যমে বোঝাতে হবে। উদাহরণ টানতে হবে কাজের মাধ্যমে। ছবি দেখাতে হবে। হাইজিনের প্রটোকল নিজে করে দেখাতে হবে। বারবার বারবার একই কথা অক্লান্তভাবে বলতে হবে। অভিমান গিলে ফেলতে হবে আমাদের। তবেই হবে।
এই মুহূর্ত থেকেই শুরু করি ? দুর্দিনের চিন্তায় দিন না গুণি?
গ্রামের মানুষকে স্যানিটারি পায়খানার ব্যবহার শিখাতেই বহু বছর গেছে। সেখানে একদিনের মাঝে করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা আর প্রতিরোধের উপায় তাদের শেখাতে হবে। অসাধ্যই তো। সেই অসাধ্যই সাধন করতে হবে। হাল ছাড়লে চলবে না।
সেই হালে মানবতাবোধই দিবে হাওয়া। তাই হাল ছাড়ার প্রশ্নই আসে না।
গ্রামের মানুষের মনে হাজারো কথা, হাজারো কল্পনা। তাদের সব কথা আগে শুনুন। অল্প কয়েকটা বাড়তি মিনিট। সব কথা শোনা হলে পুনরায় বোঝাতে শুরু করুন। বুঝাতে হবেই।
নতুন উদ্যমে বোঝাতে হবে। হবেই বোঝাতে।
গ্রামের মানুষের আজেবাজে আবোল তাবোল কথা শুনে ইচ্ছা করবে ছুটে পালাই। কিন্তু তা করার প্রশ্নই আসে না। তাদের কাছে আবার কথা বলতে যেতে হবে। হাইজিন প্রটোকল মেনেই যেতে হবে। সতর্কতা অনুসরণ করেই না হয় নতুন উদ্যমে শুরু করলেন বোঝানো। আগের কথা ভুলে গেলেন না হয়।
মাস্ক পড়ে যাবেন অবশ্যই। যদি বলে গরুর মুখোশ পড়েছেন কেন তাহলে হয়তো প্রথমবার বুকের ভেতর দলা পাকাবে হতাশা। ওলি-আউলিয়ার দেশের মানুষদের কিছু হবে না বলে আপনাদের হয়তো টিটিকারী মারবে। কথা শুনে ফিরে যদি আসেন তাহলে প্লিজ, দ্বিতীয়বার আবার সেই একই গরুর মুখোশ পড়েই বোঝাতে যান নিরাপদ দূরত্ব রেখে । সাথে করে ধর্ম, রাসুল,হাদিসের কথা- যা কাজে লাগে সবই নিন। তাও বোঝান। নবীর পথে কাঁটা রেখে যাওয়া বুড়ির গল্পটা সবসময় মাথায় রাখুন। এদের জন্য করেই যেতে হবে চেষ্টা।
(মহামারী ধর্মান্ধ, অজ্ঞেয়বাদী কাউকেই ছাড় দেয় না। তাই সবাইকে এক কাতারে ভাবতে হবে।)
বোঝাতে হবে। হাল ছাড়লে চলবে না।

যারা লেখাটি পড়বেন- আপনারা গ্রামের মানুষদের উদাসীনতাকে দূর করা নিয়ে কিছু করুন। হাজার হাজার তরুণ তরুণী গ্রামের মানুষদের ভাইরাসের ভয়াবহতা বোঝাতে গিয়ে ব্যর্থ হচ্ছে। ঠিক এই মুহূর্তে কিছু না করা গেলে গ্রামাঞ্চলে গণ-মৃত্যু বয়ে আসবে। এই সময়ে কেবল নিউজ আপডেটের মাঝে নিজেদের আটকে রাখবেন না।

Comments

Deepayan Turja

Studied Mechanical Engineering from BUET, Studying Theoretical Physics, M.Sc in University of Dhaka

আপনার আরো পছন্দ হতে পারে...

মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানান

সবার আগে মন্তব্য করুন!

জানান আমাকে যখন আসবে -
avatar
wpDiscuz