রোবোটিক্সে হাতেখড়ি

আমরা সকলেই কমবেশি রোবট শব্দটির সাথে পরিচিত। রোবট শব্দটির উৎপত্তি Robota মতান্তরে Roboti শব্দ থেকে। শব্দটার মানে হলো দাস বা কর্মী। একটি, দুটি বা বেশ কিছু কাজ একসাথে করতে পারে এমন যন্ত্রকেই আমরা সাধারণত রোবট বলে থাকি। কাজটি স্বাভাবিক মানুষের আদলে হাঁটাহাঁটি ছাড়াও খুব সামান্য কিছুও হতে পারে। যেমন একটা দরজা যা মানুষের উপস্থিতি সেন্স করে নিজে নিজে খুলতে বা বন্ধ হতে পারে , তাকেও রোবট বলা হলে খুব ভুল হবে না –যদিও এগুলোকে  সাধারণত Intelligent System বলা হয়। শুধুমাত্র কাজ করার মাঝেই থেমে নেই রোবট, প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় রোবট ছাড়িয়ে গেছে তার সীমা। এইতো কদিন আগেই প্রথম নাগরিকত্ব পাওয়া রোবট সোফিয়া ঘুরে গেল বাংলাদেশ, আর বাড়িয়ে দিয়ে গেল এদেশের বহু প্রযুক্তিপ্রেমী তরুণ গবেষকদের তৃষ্ণা। বিভিন্ন যান্ত্রিক ও ইলেকট্রনিক স্বয়ংক্রিয় ব্যাবস্থা নিয়ে জ্ঞান আহরণ, চর্চা, গবেষণা, উন্নয়ন আর উদ্ভাবনকে এক কথায় রোবোটিক্স বলা চলে।

সাগরের পানির বিশালতার মতই রোবোটিক্স এ জ্ঞান আহরণের পরিসীমাও বিস্তর। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর তরুণ গবেষকদের তুলনায় আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। আশার আলো  হচ্ছে,সীমাবদ্ধতার মধ্যেও তরুণরা নিত্য নতুন উদ্ভাবনে এগিয়ে আসছে। আর তাই দেশকে প্রযুক্তিতে এগিয়ে নিতে রোবোটিক্স ও অটোমেশন শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই।

আজ আমরা ইলেকট্রনিক্স এর এনালগ আর ডিজিটাল জগত সম্পর্কে জানবো। কোনো স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র কী কী তত্ত্বের ভিত্তিতে কাজ করে আর কী কী কর্মপদ্ধতি অনুসরণ করলে তোমরা নিজেরাও স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র তৈরি করতে পারবে তা নিয়ে আলোকপাত করবো।

ইলেক্ট্রনিক্স জগতকে মোটামুটি দুভাগে ভাগ করা যায়ঃ এনালগ আর ডিজিটাল। ডিজিটাল সার্কিট ইলেক্ট্রনিক্স জগতে গুরুত্বপূর্ণ অংশ দখল করে আছে। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে আমরা যে ইলেক্ট্রনিক্স ডিভাইসসমূহ ব্যাবহার করি তার অধিকাংশেই ডিজিটাল ইলেক্ট্রনিক্স কনসেপট ব্যবহৃত হয়।

তোমায় যদি বলা হয়, চাঁদ একটি উপগ্রহ -সত্য না মিথ্যা ? পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরে-সত্য না মিথ্যা? কিংবা সৌরজগতে ৮ টি গ্রহ- সত্য না মিথ্যা? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর শুধুই সত্য বা মিথ্যা হতে পারে এবং এর মাধ্যমে আমরা কোন অবস্থাকে বিশ্লেষণ করতে পারি। কোন প্রশ্নের উত্তরের মান সত্য হলে ১ আর মিথ্যা হলে ০ ধরে নিতে পারি। এই সত্য-মিথ্যা প্রশ্নের ১ এবং ০ মানের মতো ডিজিটাল সিস্টেমেও শুধুমাত্র দুটি মান থাকতে পারে। ডিজিটাল সিস্টেম হচ্ছে সেই সিস্টেম, যেটি ডিজিটাল লজিক বা যুক্তি ব্যবহার করে কাজ করে। আশা করছি ডিজিটাল লজিক সম্পর্কে তোমরা কিছুটা হলেও ধারণা পেয়েছ, এবার আসি এনালগে। এনালগ হচ্ছে ডিজিটাল এর বিপরীত, যার মান সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয়। যেমন তাপমাত্রা, ভোল্টেজ , কারেন্ট –এসব মান সময়ের সাথে পরিবর্তিত হতে পারে। আর সময়ের সাথে পরিবর্তনশীল ডাটা বা উপাত্তকে আমরা এনালগ সিস্টেম বলতে পারি।

একটা উদাহরণ দেয়া যাক – ধরো তোমার কাছে একটি তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা পরিমাপক সেন্সর আছে যেটি দিয়ে তুমি সারা দিনের বায়ুর তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা রেকর্ড করতে পারো। এখন তুমি সারা দিনের নির্দিষ্ট কিছু সময় অন্তর তাপমাত্রা (Temperature) ও আদ্রতা (Humidity) পরিমাপ করে দেখলে যে তা কোন স্থির উপাত্ত নয়। আর এই পরিবর্তনশীল উপাত্তই হচ্ছে এনালগ ডাটা। চিত্রে আমরা দেখছি ——– রেখাটি দিনের বিভিন্ন সময়ের তাপমাত্রা নির্দেশ করছে আর  রেখাটি আপেক্ষিক আর্দ্রতা নির্দেশ করছে।

এবার তুমি পরিকল্পনা করলে, এই উপাত্ত ব্যাবহার করে তুমি বাসার রুম হিটার কিংবা এয়ার কুলার নিয়ন্ত্রণ করবে। সুবিধেমতো তাপমাত্রা আর আর্দ্রতার একটি স্কেল সেট করে তোমার বাসার কুলার কিংবা হিটারকে স্মার্ট করে ফেলো। এসো ব্যাপারটি একটি প্রবাহ চিত্রের মাধ্যমে দেখি।

Comments

EhsanSuny

বিজ্ঞানের সাথে অনেক আগে থেকেই আমার সখ্যতা। পরবর্তীতে যখন থেকে প্রযুক্তির পথে হাঁটতে শুরু করেছি, ছদ্মনাম রাখলাম নীল বর্তনী বা Blue Circuit. বাস্তবে যদিও বর্তনীর রঙ নীল হয়না, তবে আমার কাছে নীল মানে মুক্ত আকাশ, সীমাহীন সমুদ্রে সেই আকাশের নীল আলোর বিক্ষেপণ, নীল মানে একান্তই আপন, সকলের জন্য নিবেদিত প্রাণ। . এরপর থেকে এখনো প্রযুক্তির পথে হেঁটে চলেছি, সর্বদা নতুন কিছু শিখছি আর অনুজদের শিখিয়ে যাচ্ছি। আমি তখনই পুলকিত হই, যখন ইঞ্জিনিয়ারিং মেথোডলজি ব্যাবহার করে চারপাশের সমস্যার সমাধান করতে পারি। ইচ্ছে আছে নবীনদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আগ্রহী করে তুলতে এলাকায় একটি সমৃদ্ধ বিজ্ঞান ক্লাব করার। . আশেপাশের নানা সমস্যাগুলোর সমাধান করতে গিয়েই দারুণ দারুণ মানুষের সাথে পরিচয়, আর তাদের অণুপ্রেরণায় অণুপ্রাণিত হয়ে স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে ঝাঁপিয়ে পড়া। অদ্যাবদি ব্যাক্তিগতভাবে বহু স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে অংশ নেয়ার পাশাপাশি “Youth Renaissance” বা “যুবক নবজাগরণ” নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত আছি। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মতো, হতাশাগ্রস্থদের পথ দেখানোর মতো মহৎ কাজ আর আছে বলে আমার জানা নেই। . পড়ালেখা, চাকরি-বাকরি, খাওয়া-দাওয়া, ঘুম কিংবা সংসার পরিচালনার পাশাপাশি নিজের সুখ-দুঃখ গুলো সকলের সাথে ভাগ করে নেয়ার মাঝেই তো এই জীবনের সার্থকতা।

আপনার আরো পছন্দ হতে পারে...

মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানান

সবার আগে মন্তব্য করুন!

জানান আমাকে যখন আসবে -
avatar
wpDiscuz