কার্ল সেগান ও কসমসের সাথে ১৩টি ঘণ্টা l ২য় ঘণ্টা

কসমস (১৯৮০) সকল এপিসোডের বাংলা সাবটাইটেল.

মহাজাগতিক সুরের মধ্যে একটি কণ্ঠ

সেগানের সাথে প্রথম ঘণ্টা কেটেছিলো বাড়ি ফেরার গল্প নিয়ে। কীভাবে আমরা কসমসে নিজেদেরকে খুঁজে নিলাম সেই গল্প হয়েছিলো। সেগান জানালেন সেটা সংক্ষিপ্ত রূপ ছিলো। এবার তিনি একে একে বিস্তারিত বর্ণনা করবেন।

সেগান সারাজীবন ভেবে গেছেন পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্ব নিয়ে। বিলিয়ন ট্রিলিয়ন নক্ষত্রের কোনো একটির চারিপাশে ঘুরে বেড়ানো মামুলি গ্রহ পৃথিবী। এর বাইরে প্রাণ থাকাটা অনেক বেশি যুক্তিযুক্ত, প্রাণ না থাকার চাইতে। ভাবুন তো, যদি প্রাণ থাকে, তারা কি আমাদের মতোই? নাকি এতটাই আলাদা যে আমরা কল্পনাই করতে পারি না! পৃথিবীর সব প্রাণ কার্বন অণু দিয়েই তৈরি। এমন অণু তো মহাবিশ্বের আনাচে কানাচে মোটামুটি সহজলভ্য। কোথাও না কোথাও কোনো না কোনো গ্রহের জন্ম বা মৃত্যু হচ্ছে। হতেও তো পারে তাদের কিছু সংখ্যক আমাদের মতো জৈব অণু তৈরি করে নেয়! পর্যাপ্ত সময় ও পরিবেশ পেলে প্রাণের উৎপত্তি শতভাগ সম্ভব, যেমনটা পৃথিবীতে হয়েছে। কিছু গ্রহে পরিবেশ তৈরির আগে গ্রহটি ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। কিছু গ্রহে প্রাণের উৎপত্তির পর বিবর্তিত না হতে পারে। কিছু সংখ্যক আবার আমাদের কল্পনার চেয়ে বেশি উন্নত হতে পারে! পৃথিবীর প্রাণগুলো নিজেদের মাঝে গভীরভাবে যুক্ত। কারণ, আমরা একটা সাধারণ ঘটনা থেকে এসেছি। আমাদের রাসায়নিক গঠন তাই এক। একারণেই জীববিজ্ঞানের বিষয়বস্তুগুলো একই! যেন একটা অদ্ভুত সুর! প্রশ্ন হলো, পুরো মহাবিশ্বে কি সুর আর কণ্ঠ একটাই? নাকি একই সুরে আরো বিলিয়ন বিলিয়ন কণ্ঠ গান গেয়ে চলেছে? পৃথিবীতেই বা প্রাণের উদ্ভব হলো কীভাবে? কীভাবেই বা বিবর্তিত হলো? যাত্রাপথের এই মুহুর্তে সেগান আমাকে একটা গল্প শোনাতে চাইলেন। আপনাদের সাথেও গল্পটা বলি-

দ্বাদশ শতাব্দীতে জাপানে ‘হেইকে’ নামে এক যোদ্ধা সম্প্রদায় বাস করতো। ‘অন্তকু’ নামে ৭ বছর বয়সী নেতা ছিলো তাদের, যার অভিভাবক ছিলো তার দাদী। গিঞ্জি নামক এক সামুরাই সম্প্রদায়ের সাথে হেইকের তুমুল যুদ্ধ চলছিলো। ১১৮৫ সালের ২৪ এপ্রিলে জাপানের দানোউরাতে যুদ্ধ হয়েছিলো তাদের। দানোউরা ছিলো জাপানের এক সমুদ্র উপকুল। হেইকেরা পরাজিত হচ্ছিলো। অনেকে পানিতে ডুবে আত্মহত্যা করছিলো। ‘দ্যা টেল অব দ্যা হেইকে’ তে উল্লেখ আছে যুদ্ধের ঘটনা। অন্তকুর দাদী তার নাতিসহ পানিতে ডুবে মারা যান এই বিশ্বাসে যে, “সমুদ্রের গভীরতার মাঝেই আমাদের মুক্তি”। এখনো ২৪ এপ্রিল সেখানে যুদ্ধের স্মৃতি মনে করে উৎসব হয়। সেখানকার জেলেদের বিশ্বাস, হেইকে সামুরাই এখনো সমুদ্রের তলদেশে ঘুরে বেড়ায়। এই ধারণা কাঁকড়ার চেহারা দেখে! সেখানে এক প্রজাতির কাঁকড়া পাওয়া যায় যা দেখতে অনেকটা সামুরাইদের চেহারার মতোই! এই কাঁকড়াগুলো খাওয়া হয়না যুদ্ধের সম্মানে। এই ঘটনা একটা প্রশ্ন তৈরি করে। কীভাবে কাঁকড়াগুলো দেখতে এতটা মিল? অবাক করার মতো বিষয় নয় কি?

ধরে নেওয়া যাক, সুদূর অতীতে হয়তো কিছু কাঁকড়া এমন আদল নিয়েই জন্মাতো। আর ধরা পরার পরেও না খাওয়ার কারণে এদের একটা ধারা তৈরি হয়ে গেছে। কাঁকড়ার চেহারা সাধারণ হলেই মারা পড়বে, মানুষের মত হলে বেঁচে যাবে! তাই হয়তো তারা নিজেরদের বংশ বৃদ্ধি করেছিলো মানুষের মত দেখতে কাঁকড়ার মাধ্যমে! ফলে অন্যদের তুলনায় এরা টিকে থাকলো বেশি। প্রাকৃতিক নির্বাচন কাজ করে ঠিক এই ভাবেই! নিজেদের অজান্তেই জেলেরা ও কাঁকড়া মিলে এমন কিছু পরিবর্তন ঘটিয়ে ফেলেছে।

মানুষ হাজার হাজার বছর ধরে ঠিক এভাবেই নির্বাচন করে আসছে কোন কোন উদ্ভিদ বা প্রাণী তাদের পাশে থাকবে কি থাকবে না। নির্বাচনের মূল কথা একটাই, পরিস্থিতির প্রয়োজনে বা পরিবেশগত কারণে কিছু প্রাণী বা উদ্ভিদের প্রজনন ঘটে, কিছুর বাধা পায়। যারা বিচ্ছিন্ন হয়, তারা হারিয়ে যেতে থাকে। যারা পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেয় তারা তারা টিকে থাকে। ভাবুন তো, যদি মাত্র কয়েক হাজার বছরে আমরা এতটা পরিবর্তন দেখি, তাহলে কয়েকশ কোটি বছরে কী পরিমাণ সক্রিয় পরিবর্তন হতে পারে! ফসিলগুলো প্রমাণ করে দেয় কত কত ধাপে পরিবর্তিত হয়েছে আমাদের এই ভিন্ন ভিন্ন প্রজাতিরা! বিলুপ্ত হয়েছে বহু। কতটা? বিলুপ হওয়া প্রজাতির সংখ্যা বর্তমানে বেঁচে থাকা প্রজাতির চেয়ে ঢের বেশি। আমাদের আশেপাশে ঘুরে বেড়ানো প্রাণী, উদ্ভিদ বা আমাদের নিজেদেরই কোনো ফসিল আমরা পাই না। কারণ, আমরা বিবর্তিত হয়েছি মাত্রই!

কার্ল সেগান আমাকে আরো বুঝিয়ে বললেন সবকিছু। চার্লস ডারউইন ও রাসেল ওয়ালেস বিবর্তনের কৌশল আবিষ্কার করেছিলেন। পৃথিবীতে প্রচুর প্রচুর প্রাণীর জন্ম হয়। অধিকাংশই টিকে থাকতে পারে না। পরিবেশের তারতম্য কিছু পরিবর্তন ঘটায় যা পরবর্তী প্রজন্মে চলে যায়। এই পরিবর্তনগুলো প্রকৃতি নির্বাচন করে। ফলে মানিয়ে নেওয়া প্রজন্ম টিকে থাকে। ধাপে ধাপে এই পরিবর্তন ডিএনএ তে থেকে যায়। যার সর্বশেষ ধাপ, নতুন প্রজাতির উদ্ভব।

অনেকেই বেশ রাগ করেছিলো বিবর্তন আর প্রাকৃতিক নির্বাচনের কথা শুনে। অনেকে এই অপরূপ সৌন্দর্যে সৃষ্টিকর্তাকে খুঁজে পান। প্রাণের সবচেয়ে সহজ ব্যাপারটাও হাতঘড়ির চেয়ে জটিল। কিন্তু, হাতঘড়িও তো নিজে নিজে তৈরি হয়ে যায় না বা দেয়াল ঘড়ি থেকে বিবর্তিত হয় না। কীভাবে সম্ভব পরমাণুগুলোর নিজে নিজে বিন্যাস? সৃষ্টিকর্তা ব্যাপারটা মানবিক! হয়তো আরো কম প্যাঁচালো। কিন্তু, প্রাকৃতিক নির্বাচন আরো বেশি যুক্তিযুক্ত।

এই পর্যায়ে সেগান ১ম ঘণ্টার সেই ১৫ বিলিয়ন = ১বছর ব্যাপারটাকে সহজভাবে বোঝাতে শুরু করলেন। হয়তো এমন বিন্যাস ঘটেছে মহাবিশ্বের অন্য কোনো গ্রহেও! মহাজাগতিক ক্যালেন্ডারের হিসাবে সেপ্টেম্বরের ১৪ তারিখে পৃথিবী জন্মাচ্ছে। ফসিল রেকর্ড বলে, প্রাণের জন্ম তার কিছু সময় পরেই, ২৫ তারিখের দিকে। মানে, পৃথিবী জন্মের প্রায় ৫০ কোটি বছর পর। প্রথম প্রাণ ছিলো এখনকার এককোষী প্রাণীর তুলনায়ও সরল। অতিরিক্ত বজ্রপাত বায়ুমণ্ডলের হাইড্রোজেন অনুগুলোকে ভেঙ্গে ফেলছিলো। সময়ের বিবর্তনে ও পরিবেশের অনুকুল স্রোতে রাসায়নিক পরিবর্তনই তৈরি করেছিলো প্রাণ কোনো এক বা বহু জলাশয়ে। তৈরি হয়েছিলো ডিএনএ। এরা চারটা অংশে বিভক্ত যাদেরকে নিউক্লিওটাইড বলা হয়। একটির গঠন অন্যটি থেকে অল্প বা অনেক আলাদা। একারণেই তৈরি হয় ভিন্ন ভিন্ন রকম প্রাণী।

সেগান বলতে থাকলেন, আজ থেকে প্রায় ৪০০ কোটি বছর আগে যখন প্রাণের উদ্ভব হয় তখন পরিবেশ কেমন ছিলো? কোনো শিকারী ছিলো না। সম্ভাবনা ছিলো। প্রাণের কাঁচামাল ছিলো! গ্রহাণুপুঞ্জের আঘাতে ক্ষত বিক্ষত পৃথিবীর গর্ত পরিপূর্ণ হয়ে থাকতো সাগর-জলাশয়ে। প্রাণের উপাদান মিলে তৈরি করলো প্রথম এককোষী জীব। এরই ধারাবাহিকতায় তৈরি হয় বহুকোষী জীব। আজ থেকে প্রায় ২০০ কোটি বছর আগে লিঙ্গের উদ্ভব। অক্সিজেন ও নাইট্রোজেনে পরিপূর্ণ পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়লো প্রাণ। প্রথম ৪০০ কোটি বছরে প্রাণের আকারে খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি। হতে পারে বিবর্তন প্রাণের উদ্ভবের চেয়েও জটিল কিছু! হতে পারে মহাবিশ্বের অনেক গ্রহ গিজগিজ করছে প্রাণে। কিন্তু তুলনামূলক বড় আকারের না তারা। প্রথম মেরুদণ্ডী প্রাণীর আগমন আজ থেকে ৫২ কোটি বছর আগে। পাখাওয়ালা পতঙ্গ বিবর্তিত হয়েছিলো ৩৮ কোটি বছর আগে। এই সময়টাতেই বিবর্তন উভচর প্রাণীর। ৩৫ কোটি বছর আগে প্রথম গাছের বিবর্তন। এর কয়েক কোটি বছর পরেই ডাইনোসরের আবির্ভাব। পৃথিবীটা একসময় রাজত্ব করতো এরাই। স্তন্যপায়ী ও পাখিদের আগমন এর কিছু কোটি বছর পরে। প্রায় ২০ কোটি বছর রাজত্বের পর ডাইনোসর বিলুপ্ত হয়েছিলো। কারণটা ছিলো ধুমকেতুর আঘাত। শিক্ষাটাও স্পষ্ট। এতো বছর রাজত্বের পরেও বিলুপ্তি, মোটেই অস্বাভাবিক না! মোটামুটি কয়েক লক্ষ বছর আগে মানুষের উদ্ভব। ৪ বিলিয়ন বছর সময় পেলে অণুদের দ্বারা এমন খেল দেখানো মোটেই অসম্ভব কিছু নয়, বরং অনেক বেশি যুক্তিযুক্ত।

যাত্রার এই পর্যায়ে কার্ল সেগান আমাকে নিয়ে এলেন গাছের কাছে। বলতে শুরু করলেন গাছেদের গল্প। আমাদের বেড়ে ওঠার প্রতিটি ধাপে গাছ কি অসাধারণ ভূমিকাই না পালন করে! এই বন্ধুগুলো আমাদের জন্য কি না করে! বেঁচে থাকার উপাদানই তো এদের থেকে পেয়ে থাকি আমরা। সেগান আমাকে নিয়ে গেলেন লন্ডনের ‘দ্যা রয়্যাল বোটানিক গার্ডেন’ এ। মজার ব্যাপার, উদ্ভিদের বেঁচে থাকার জন্য দরকার আলো, আর আমাদের দরকার উদ্ভিদ। পৃথিবীতে আমরা না থাকলেও উদ্ভিদদের কিছু এসে যায় না। কিন্তু, ওরা না থাকলে আমাদের অস্তিত্ব কল্পনাও করা চলে না। মহাবিশ্বের কোটি কোটি রকমের অণু থাকলেও মাত্র কয়েকটাই ব্যবহার হয় উদ্ভিদ ও প্রাণীর বেঁচে থাকার কাজে।

কার্ল সেগান এই পর্যায়ে এসে ছোট্টখাটো পাগলামি করে বসলেন। তিনি নিজের আঙ্গুলে গোলাপের কাঁটা ফুটিয়ে দিলেন মানুষের ভিতরের উপাদান বিশ্লেষণের জন্য! তার ভাষ্যমতে, আঙ্গুলে খোঁচানোর মতো তুচ্ছ ব্যাপারও বেশ দানবীয় হয়ে যায় আণবিক পর্যায়ে গেলে। আমরা অনেক অনেক লোহিত রক্তকণিকার মধ্যে একটা শ্বেত রক্ত কণিকা দেখলাম, যে জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা করে দেহ কোষকে। এর বাইরে এন্টিবডি তৈরি হয়, কিন্তু ভিতরটা অন্যসব কোষের মতোই। কোষের ভিতরে ঢুকতেই এনজাইম তৈরির কারখানা দেখতে পেলাম, যা কোষের রসায়ন নিয়ন্ত্রণ করে। আরো গভীরে আছে নিউক্লিয়াস, যা কোষের মস্তিষ্ক। প্রাণের গোপন কোড লেখা আছে ডিএনএ তে। সেগানের ভাষায়, ‘কোষের সবচেয়ে পবিত্র স্থান’। সেগান আমাকে ডিএনএ ডাবল হেলিক্স দেখালেন। এখানে আছে ১০০ বিলিয়নের মতো পরমাণু! ডিএনএর ধারা বয়ে চলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। ক্রম পালটে গেলেই প্রজন্মের ধারা পালটে যায়। ডিএনএ নিজেদের নকল করে বিচ্ছিন্নকারী ও সংযুক্তকারী এনজাইম দ্বারা দক্ষতার সাথে। কোনো কারণে নকলে ভুল হলে জিনের নির্দেশনায় ছোট পরিবর্তন শুরু হয়ে যায়। ট্রিলিয়ন নিউক্লিওটাইডের অনেকে অপ্রয়োজনীয়ও বটে। মানে, তারা এমন প্রোটিন তৈরি করে যাদের কোনো জরুরি কাজ নেই আসলে! কিন্তু, কাজে লাগে এমন সমাহার অনেক অনেক বেশি। হয়তো ইতিহাসের সব মানুষের চেয়েও বেশি। এর মানে দাঁড়ায়, মানুষের সম্ভাব্য প্রজাতির সংখ্যা ইতিহাসের সকল মানুষের সংখ্যার চেয়েও হয়তো অনেক বেশি!

হতে পারে ডিএনএর বিন্যাস এমন ভাবে করা হলো যা সবচেয়ে বেশি কাজের, তাহলে কী ঘটতে পারে? ভাবার বিষয়, তাই না? এখনো পারিনা, কিন্তু নিজেদের মতো সাজিয়ে নিয়ে পছন্দ মতো মানুষও তো পেয়ে যেতে পারি! কথাটা উদ্ভট শোনালেও ফেলনা তো নয়! আর, একটা গাছ ও মানুষের মধ্যে এত্ত মিল, প্রাণে প্রাণে এত্ত মিল কেন? যুক্তিযুক্ত ব্যাখ্যা একটাই, আমরা একই ঘটনা থেকে জন্মেছি, বিবর্তিত হয়েছি।

সেগান আমাকে নিয়ে গেলেন কর্নেল ইউনিভার্সিটির গবেষণাগারে। সেখানে মিশালেন আদি পৃথিবীর গ্যাস আর পানি। প্রাণের উপাদান তৈরি করা যায় কিনা দেখতেই এই আয়োজন। আমরা এখনকার বাতাস বা পানি নিয়ে পরীক্ষা করলে পুরো গবেষণা ব্যর্থ হয়। কারণ, এখনকার বাতাসে আছে অক্সিজেন। কিন্তু, অক্সিজেন তো উদ্ভিদের বানানো। অর্থাৎ, প্রাণের উদ্ভব উদ্ভিদ আসার আগেই। কসমসের পুরোটাই হাইড্রোজেনে ঠাসা। এখন বায়ুমণ্ডল ও অন্যান্য পারিপার্শিক কারণে হাইড্রোজেন পৃথিবীতে তেমন নেই বললেই চলে। তখন তো হাইড্রোজেনে ঠাসা ছিলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল। মিথেন, এমোনিয়ার মতো কিছু গ্যাস আমরা ব্যাবহার করা যেতে পারে। সেগানের সহকর্মী বিষ্ণু খার অনেক চেষ্টা করলেন গ্যাসগুলোর বিশুদ্ধতা রক্ষার জন্য। এরকম এক গবেষণা আগেও হয়েছিলো ইউরি মিলার ও হ্যারল্ডের দ্বারা, ১৯৫০ এর দিকে। অতিবেগুনী রশ্মির পরিবর্তে গ্যাসগুলোকে বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হলো। কিছুক্ষণের ভিতরেই আমরা দেখতে পেলাম প্রোটিন ও নিউক্লীয় এসিডের গাঠনিক ভিত্তি। উপযুক্ত পরিবেশে এই গাঠনিক ভিত্তিগুলোই নিজেদের সাজিয়ে নেয় প্রোটিনের আকারে। কেউই বিক্রিয়ার শেষে কোনো প্রাণী বেরিয়ে আসতে দেখেনি! এখনো অনেক কিছুই জানার বাকি আসলে। সেগানের মতে, “আমরা এই গবেষণা করছি ৩০ বছর ধরে। আর প্রকৃতি শুরু করেছে ৪ বিলিয়ন বছর আগে”।

যদি অন্য কোথাও প্রাণ পাওয়া যায়, তারা দেখতে কেমন হবে? সেগানের মতে, তারা দেখতে হবে পৃথিবীর প্রাণীর চেয়ে অনেক বেশিই আলাদা। এর কারণ, পরিবেশ ও বিবর্তন। এরপরেই সেগান ব্যাখ্যা দিতে লাগলেন কেমন হতে পারে অন্য গ্রহের প্রাণ! পদার্থের অনুমতি, ইতিহাসের শিক্ষা, ও জীববিজ্ঞানের গবেষণা টেনে এনে তিনি তিন ধরণের সম্ভাব্য প্রাণীর বর্ণনা দিলেন। শেষে বললেন, “জীববিজ্ঞানের সাথে ইতিহাসের বেশি মিল, পদার্থবিজ্ঞানের চেয়ে। আপনাকে অতীত জানতে হবে, বর্তমানকে বোঝার জন্য।”

প্রাণের উৎপত্তি, বিকাশ, ও বিলুপ্তি নিয়ে কথা বলতে বলতে কখন যে আরেকটি ঘণ্টা পার হয়ে গেলো বুঝতেই পারলাম না! ২য় ঘণ্টার সমাপ্তি শেষে সেগান ৩য় ঘণ্টার যাত্রার প্রস্তুতি নিলেন আমাকে সাথে নিয়ে।

Comments

MHLikhon

বর্তমানে ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার বিজ্ঞানে অধ্যায়নরত। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ও ভ্রমণ নিয়েই চলে যায় দিন! লেখালেখিও এগুলো নিয়েই।

আপনার আরো পছন্দ হতে পারে...

মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানান

সবার আগে মন্তব্য করুন!

জানান আমাকে যখন আসবে -
avatar
wpDiscuz