পদার্থবিজ্ঞানীরা বলছেন সাম্প্রতিক বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় তুরস্ক ও রাশিয়া উভয়ই মিথ্যাবাদী

jet

photo credit: The Russian military jet shortly after it was hit by a missile. DAHBOO777/YouTube

সম্প্রতি রাশিয়ান মিলিটারি জেটের টারকিশ ফোর্স দ্বারা সিরিয়া ও তুরস্কের বর্ডারের আশেপাশে কোথাও ভূমিস্যাৎ হবার পর তুরস্ক ও রাশিয়া দুই দেশ দুরকম কথা বলছে। বেলজিয়ান ইউনিভার্সিটি KU Leuven এর দুজন জ্যোতির্পদার্থবিদ নিউটোনিয়ান মেকানিক্স ব্যবহার করে দেখিয়েছেন যে দু দেশের কারোর কথাই সঠিক নয়।
তুরস্ক বলছে, বিমানটি ১৭ সেকেন্ড তাদের এয়ার স্পেসে ছিল এবং ৫ মিনিটে ১০টি ওয়ার্নিং উপেক্ষা করেছে। এদিকে রাশিয়া বলেছে বিমানটিকে সিরিয়ান এয়ারস্পেসে শুট করা হয়েছে আর এটা কখনই তুরস্কের এয়ারস্পেসে যায় নি। বেলজিয়ান গবেষকদ্বয় ঠিক করলেন তারা ভিডিও ফুটেজ দেখে বের করবেন যে ঠিক কারা সত্য কথা বলছে।
যখন জেটটিকে প্রথম আঘাত করা হল, এটা ভূমির দিকে পতিত হতে শুরু করে। ৩০ সেকেন্ড ধরে পড়ার পর এটা পাহাড়ের গায়ে আঘাত করে। পাইলটটি বিমান আঘাতপ্রাপ্ত হবার সাথে সাথে কনট্রোল হারিয়ে ফেলে – এটা ধরে নিলে বিমানটির নিচের দিকের গতি শুধুমাত্র অভিকর্ষজ ত্বরণ বা গ্রাভিটেশনাল একসিলারেশনের উপর নির্ভরশীল। এই একসিলারেশন এর ব্যাকট্র্যাকিং করে তারা হিসাব করলেন প্লেনটি আঘাত পাবার সময় ৪,৫০০ মিটার উপরে উড়ছিল। এটা তুরস্কের কথার সাথে মোটামুটিভাবে মিলে যায়।

তুরস্কের দাবী অনুযায়ী বিমানটি ক্র্যাশ সাইটের ৮ কিলোমিটার দূরে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছিল। যদি তাই হয় তবে বিমানটির আদিবেগ থাকার কথা ঘণ্টায় ৯৮০ কিলোমিটার। তুরস্কের অফিশিয়ালরা বলেন তুরস্কের এয়ারস্পেসে ১৭ সেকেন্ড ধরে ২ কিলোমিটার ভ্রমণ করে। কিন্তু যদি বিমানটির গতিবেগ ঘণ্টায় ৯৮০ কিলোমিটার হয় তবে এই ২ কিলোমিটার ভ্রমণ করতে বিমানটির মাত্র ৭ সেকেন্ডের মত লাগার কথা।

আবার বিমানটি যদি এই গতিবেগ নিয়ে চলে তবে ৫ সেকেন্ডে তাদের ৮০ কিলোমিটার ভ্রমণ করার কথা। এই বিস্তৃত পথে জেটটিকে ১০টি ওয়ার্নিং দেয়া বলা যায় প্রায় অসম্ভব। আবার এই ওয়ার্নিংগুলোর সব কটা ৭ সেকেন্ডে ফিট করতে পারে না। সুতরাং তুরস্কের দেয়া হিসাবে একটা বড়সড় গোলমাল দেখা যাচ্ছে।

7F4WPGe

Image credit: An airstrike on Kobane, a town close to the Syrian-Turkish border. Orlok/Shutterstock

এবার রাশিয়ার কথায় আসা যাক। রাশিয়া বলছে যে এটা তুরস্কের এয়ারস্পেস ভায়োলেট করেনি, কারণ এটা মিসাইল দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হবার পর ৯০ ডিগ্রী ঘুড়ে গিয়েছিল। কিন্তু হিসাব করলে দেখা যায় মিসাইল দ্বারা আঘাত পাবার পর ৯০ ডিগ্রী ঘুরতে হলে তাকে আরও কয়েকগুণ বেশি ভারী হতে হতো। তাই ধরে নেয়াই যায় যে, জেটটি তুরস্কের এয়ারস্পেসকে এভয়েড করার চেষ্টা করেনি।

সুতরাং বিজ্ঞান বলছে, তুরস্ক ও রাশিয়া উভয়েই কিছুটা করে মিথ্যা বলছে।

Read more, Belgian Physicist calculated that everyone is lying.

Comments

আপনার আরো পছন্দ হতে পারে...

মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানান

সবার আগে মন্তব্য করুন!

জানান আমাকে যখন আসবে -
avatar
wpDiscuz