যৌনতা ও জীবন, পর্ব ২ঃ মাস্টারবেশন এবং পর্নোগ্রাফি আসক্তি [হাইপার সেক্সুয়ালিটি]

লেখাটি পড়ার জন্য পাঠককে অবশ্যই ১৬+ এবং প্রাপ্তমনস্ক হতে হবে

প্রথম পর্ব না পড়া থাকলে এই লেখাটি পড়ার পূর্বে, ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বোঝার সুবিধার জন্য “যৌনতা ও জীবন, পর্ব-১ প্যারাফিলিয়া” পড়ে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হলো।

লেখার উদ্দেশ্য

মানুষকে তাদের যৌন জীবন ও স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতন করে তোলা এবং সঠিক যৌন শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করে তোলা। এই সিরিজ লেখার জন্য যৌন জীবনকে ৩ ভাগে ভাগ করা হলো।

১। সাধারণ যৌন জীবন

২। অনিয়ন্ত্রিত যৌন জীবন

৩। বিকৃত রুচির যৌন জীবন

প্রথম পর্বে যৌন জীবনের মানসিক বিকৃতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এই পর্বে ‘অনিয়ন্ত্রিত যৌন জীবন’ পর্যালোচনার পাশাপাশি ‘যৌন আচরণ বিকৃতির’ সঙ্গে অনিয়ন্ত্রিত যৌন জীবনের কোন সম্পর্ক আছে কিনা সেটা খুঁজে দেখার চেষ্টা করা হয়েছে।

প্রথমে জেনে নিই যৌন আকাঙ্ক্ষা সম্পর্কিত কিছু তথ্য

লিবিডো (LIBIDO)

সেক্স ড্রাইভ বা যৌন চাহিদা নামেও পরিচিত। লিবিডো শব্দটা যৌন কাজের প্রতি মানুষের সামগ্রিক আকাঙ্ক্ষাকে বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) মতে, ‘যৌন স্বাস্থ্য’ হলো মানুষের শারীরিক স্বাস্থ্য, মন-মানসিকতা, সামাজিক বন্ধনের সঙ্গে যৌন আকাঙ্ক্ষার একটা সম্পর্কিত রূপ।

বায়োলজিক্যাল দিক থেকে যৌন চাহিদা নির্ভর করে যৌনতা নিয়ন্ত্রক হরমোন (এন্ড্রোজেন, ভেসোপ্রেসিন, অক্সিটোসিন), এবং নিউরট্রান্সমিটার নামে পরিচিত মন-মানসিকতা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের (ডোপামিন, সেরোটনিন, নরএপিনেফ্রিন) ভারসাম্যের উপর। এছাড়া সামাজিক দিক, যেমন – পরিবার এবং কাজ; মানসিক দিক, যেমন – ব্যক্তির ব্যক্তিত্ব, মানসিক চাপ, হতাশা, বিষণ্ণতা, উদ্বেগ প্রভৃতি যৌন আকাঙ্ক্ষার উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রতিটা মানুষের যৌন চাহিদা এবং যৌন আকাঙ্ক্ষার পরিমাণ আলাদা। কিন্তু তারপরও মেডিক্যাল, সাইকোলজিক্যাল এবং সামাজিক বিষয় বিবেচনায় রেখে ‘অনিয়ন্ত্রিত যৌন জীবন’কে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে। শুরুতেই একটা সংজ্ঞার ভিতরে নিয়ে আসার চেয়ে প্রথমে এটাকে ২ ভাগে ভাগ করে নিই।
১। যৌনতার প্রতি অনীহা (হাইপোএক্টিভ সেক্সুয়াল ডিজঅর্ডার)

২। তীব্র যৌন আকাঙ্ক্ষা (হাইপার সেক্সুয়াল ডিজঅর্ডার)

প্রথম পর্বের মত এখানেও আমরা গুরুত্ব বিবেচনায় শেষের দিক থেকে পর্যালোচনা শুরু করব।

২। তীব্র যৌন আকাঙ্খা (হাইপার সেক্সুয়াল ডিজঅর্ডার): কিছু মানুষ প্রায় সব সময়ই তীব্র যৌন চাহিদা অনুভব করে, আবার কারো কারো ক্ষেত্রে হঠাত করে যৌন চাহিদা খুব বেশি বেড়ে যায়। অনেকে আবারবারবার যৌন মিলন করেও মানসিক তৃপ্তি লাভ করে না। এ ধরনের অবস্থাকে হাইপার সেক্সুয়াল ডিজঅর্ডার বলা হয়।

বিভিন্ন যুগের প্রায় সব সমাজেই ‘বিবর্তনগত কারণে’ পুরুষের যৌন আকাঙ্ক্ষা নারীর তুলনায় বেশি। এই পার্থক্য ‘কালচারাল ইউনিভার্সাল’-এর অন্তর্গত। এছাড়াও পুরুষের দেহে টেস্টোসটেরন নামক হরমোন সাধারণত মেয়েদের তুলনায় গড়ে ১০+ গুণ বেশি হওয়ায় তারা বেশি যৌন আকাঙ্ক্ষা প্রিয় হয়ে থাকে। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে এই আকাঙ্ক্ষার পরিমাণ এতই বেশি হয়ে যায় যে, তখন তা আর নিয়ন্ত্রণ এর ভিতরে থাকে না। এরকম হওয়ার ফলে ব্যক্তির মন এবং স্বাস্থ্যের উপর ছাড়াও সামাজিক পর্যায়ে বেশ বড় খারাপ প্রভাব পড়ে। তবে শুধু পুরুষ নয়, মেয়েরাও হাইপার সেক্সুয়াল ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত হতে পারে। সাধারণত হাইপার সেক্সুয়াল ডিজঅর্ডারে আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষ এবং নারীর অনুপাত ৫:১।

1

কী ধরনের পরিস্থিতিকে আমরা হাইপার সেক্সুয়াল ডিজঅর্ডার বলবো?

১। বারবার প্রচণ্ড যৌন মিলনের আকাঙ্ক্ষা থাকা সত্ত্বেও মিলনের পর পরিতৃপ্ত হওয়া বা না হওয়া।

২। যৌন আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণের ভিতরে না থাকা। যখন তখন, পাবলিক প্লেসে বা কর্মক্ষেত্রে যৌন উত্তেজনা অনুভূত হওয়া।**

৩। হতাশা, বিষণ্ণতা, উদ্বেগ এবং মানসিক চাপ থেকে কিছু সময়ের জন্য মুক্তি পাওয়ার উদ্দেশ্যে বা এগুলো থেকে পালানোর পথ হিসাবে বার র সেক্সকে ব্যবহার করা। একে বলা হয় কম্পালসিভ আচরণ।***

৪। ইম্পালসিভ আচরণ, যেমন – স্বতস্ফূর্তভাবে যৌন কর্মকাণ্ডে বারবার লিপ্ত হতে হতে এক সময় এটাতে খুব বেশি অভ্যস্ত আর নির্ভরশীল (ডিপেন্ডেন্ট) হয়ে পড়া, যা জীবনের অন্যান্য আনুষঙ্গিকতায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে থাকতে পারে।*

৫। বারবার এমন ধরনের যৌন আচরণে জড়িয়ে পড়া যেটা সমাজ কর্তৃক স্বীকৃত না (এই অংশে আপনার যৌন কার্যকলাপের প্রভাব সমাজের অন্যদের উপরও পড়ছে বলে ধরে নেওয়া হয়েছে। ব্যক্তিগত ব্যাপারে বলা হয়নি)।

হাইপার সেক্সুয়াল ডিজঅর্ডার এমন একটি বিতর্কিত বিষয় যে, এটা ঠিক কীভাবে নির্ণয় (ডায়াগনোসিস) করা হবে তা নিয়ে এখনো পর্যন্ত গবেষকগণ কোনো উপসংহারে পৌঁছতে পারেননি। তা্র মানে এই না যে, এই জিনিষটা মানুষের মাঝে দেখা যায় না। বরং এটা বেশ ভাল পরিমাণেই দেখা যায়। ‘পেয়ার রিভিউড’ জার্নালগুলোতে ‘হাইপারসেক্সুয়ালিটির’ কেস ‘প্যারাফিলিয়ার’ কেস থেকেও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশিবার অন্তর্ভূক্ত হয়।

পশ্চিমা চিকিৎসা ব্যবস্থায় ১৭০০ শতাব্দীর শেষের দিকে এই বিষয়টা সর্বপ্রথম ক্লিনিক্যালি উল্লেখ করা হয়। এরপর শুধুমাত্র ১৭০০ থেকে ১৯৭০ সালের ভিতরেই অনেক ডাক্তার এবং প্যাথোলজিস্ট বা ক্লিনিশিয়ানের মাধ্যমে অসংখ্যবার বিষয়টা প্রকাশ করা হয়। তবে এর সাথে সাইকোলজিক্যাল, প্যাথোলজিক্যাল, নিউরোলজিক্যাল এবং সামাজিক ব্যাপার যুক্ত থাকায় হাইপার সেক্সুয়ালিটির ব্যাপারটা মূলত ডায়াগনোসিসের জন্য জটিল হয়ে যায়।

হাইপার সেক্সুয়াল ডিজঅর্ডার নির্ণয় করার জন্য বেশ কয়েকটি ডায়াগনোসিস মডেল আছে। হাইপার সেক্সুয়াল ডিজঅর্ডারকে শুরুতে নন-প্যারাফিলিকধরে নিয়ে DSM-V অন্তর্ভূক্ত করার জন্য প্রস্তাবিত যে ডায়াগনোসিস মডেল আছে, তা মোটামুটি এরকমঃ

১। ৬ মাসের বেশি সময় ধরে একটানা বারবার তীব্র ইচ্ছার বশবর্তী হয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেয়ে যৌন ফ্যান্টাসিতে ভোগা বা যৌন আচরণে জড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি নিচের ৫ টার ভিতরে যেকোন ৩ টি আচরণে জড়িয়ে পড়াঃ

১.১। দিনের অনেকটা সময় একটানা যৌন কল্পনার (ফ্যান্টাসির) ভিতরে থাকা, এবং যৌন আচরণে জড়িয়ে পড়া, যেটা প্রায় প্রতিদিনই চলতে থাকা, যা জীবনের অন্য লক্ষ্য বা নন-সেক্সুয়াল কাজে বাধার সৃষ্টি করছে এমন উপলব্ধি করা। যেমন- কাজ, পড়াশুনা ইত্যাদি।

১.২। ‘শুধুমাত্র’ হতাশা, উদ্বেগ, বিরক্তি বা একঘেয়েমি কাটানোর জন্য প্রতিদিনই অথবা দিনে একাধিকবার যৌন কল্পনা এবং যৌন কাজে জড়ানো। যেমনঃ মাস্টারবেট করা বা পর্ন দেখা (কম্পালসিভ আচরণ)।

১.৩। দৈনন্দিন জীবনের চাপকে পাশ কাটানোর জন্য যৌন কল্পনা এবং যৌন কাজে প্রতিদিন বা দিনে একাধিকবার জড়িয়ে পড়া (ইম্পালসিভ আচরণ)।

১.৪। বারবার এই ধরনের আচরণ থেকে বেরিয়ে আশার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হওয়া (অতিরিক্ত যৌন কল্পনা বা অতিরিক্ত যৌন কাজ থেকে নিজেকে বারবার বিরত রাখার চেষ্টা করেও সফল না হওয়া (উইথড্রয়াল সিম্পটম)।

১.৫। নিজের বা অন্যের শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি হচ্ছে এটা উপলব্ধি করার পরও সেটাকে উপেক্ষা করে বারবার যৌন কাজে জড়িয়ে পড়া (যৌন আসক্তি)।

২। অতিরিক্ত যৌন কাজ, যৌন কল্পনার ফলে সামাজিক, কর্মক্ষেত্র বা জীবনের অন্যন্য এলাকাগুলোতে ক্ষতি হওয়া এবং চিকিৎসাগতভাবেই (ক্লিনিক্যালি) উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিগত মর্মপীড়ার শিকার হওয়া।

৩। উপরের আচরণগুলো ড্রাগ ব্যবহার বা কোনো ঔষধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া কিনা।

পাশাপাশিঃ
i) সাপ্তাহিক মাস্টারবেশন ফ্রিকোয়েন্সি,
ii) সাপ্তাহিক পর্ন দেখার সময়ের পরিমান,
iii) টেলিফোন সেক্স, সাইবার সেক্সে আসক্তির পরিমাণ ইত্যাদি।

উপরের বর্ণিত মডেল বা অনুরূপ মডেলের ভিত্তিতে করা বহু রিপোর্টের কয়েকটি রিপোর্ট নিচে তুলে ধরা হল।

নন ক্লিনিক্যাল স্যাম্পলের (যেখানে অধিকাংশই সাধারণ মানুষ, আক্রান্ত নয় এমন) উপর করা কিছু রিপোর্ট

১। ১৯৪৮ সালে, ৫৩০০ আমেরিকান পুরুষের উপর করা একটা রিপোর্টে বলা হয় মাত্র ৭.৬% পুরুষ সপ্তাহে ৭ বা ৭ বারের বেশি যৌন কাজে যুক্ত ছিলো প্রায় ৫ বছরের বেশি সময় ধরে। (মাস্টারবেশন, সঙ্গম বা অন্যন্য)।

২। ১৯৮৭ সালে, ১০৭৭ জন হাইস্কুল ও কলেজ ছাত্রের উপর করা রিপোর্টে মাত্র ৫% হাইস্কুল ও ৩% কলেজ ছাত্র সপ্তাহে ৭ বা ৭+ টাইম যৌন কাজে যুক্ত ছিলো।

৩। ২০০৭ সালে, ৬৪৫৮ জন ‘সাধারণ পুরুষ’ এবং ৭৯৩৮ জন ‘সাধারণ নারীর’ উপর ইন্টারনেট ভিত্তিক এক জরিপে দেখা যায় ১০৭ জন পুরুষ (১.৬%) এবং ৬৯ জন নারী (.৮%) “কম্পালসিভ সেক্সুয়াল আচরণে”  আক্রান্ত এবং ডাক্তারি সহায়তা চাচ্ছে।

৪। ২০০২ এর একটা রিপোর্টে বলা হয় অধিকাংশ স্কুল/কলেজ স্টুডেন্ট সপ্তাহে গড়ে ৩ বার মাস্টারবেশনে যুক্ত ছিলো।

৫। সুইডিশ কমিউনিটিতে, ২৪৫০ জন সাধারণ পুরুষ এবং নারীর উপর করা রিপোর্টে, ১২.২১% পুরুষ (১২৪৪ জনের ভিতরে) এবং ৬.৮% নারী (১১৭১ জনের ভিতর) সব থেকে বেশি যৌন কাজে যুক্ত ছিলো (৭ বা ৭+ টাইম) এবং বেশি একটিভ গ্রুপের ভিতরে অনেকেই হাইপারসেক্সুয়াল ডিজঅর্ডার সহ সল্প মাত্রার প্যারাফিলিয়া আক্রান্ত ছিলো।

2

ক্লিনিক্যাল স্যাম্পলের (ডাক্তারি সহায়তা চাইছেন এমন) উপর করা কিছু রিপোর্ট

১। ২০০৩ সালের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, সপ্তাহে ৭+ বার যৌন কাজে (সঙ্গম, মাস্টারবেশন, বা অন্যান্য) যুক্ত ২৪০ জনের ভিতরে ৭২-৮০% কে দেখা যায় হাইপার সেক্সুয়াল ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত এবং ডাক্তারি সহায়তা চাইতে। ফ্রিকোয়েন্সি যদি ৫+ ধরা হয় তবে সংখ্যাটা দাঁড়াবে ৯০%।

২। ২০৭ জনের একটি কম্পালসিভ গ্রুপের উপর জরিপে ক্রমাগত আচরণের ভিত্তিতে, ৮১.১% পর্নোগ্রাফি ব্যবহার, ৭৮.৩% মাস্টারবেশন, ১৮.১% সাইবারসেক্সকে রিপোর্ট করে।

৩। ১৯৯৭ সালে, ডাক্তারি সহায়তা চাইতে আসা ৫৩ জনের (৪৭ জন পুরুষ ও ৬ জন নারী) ৯৮% এর ভিতরে কমপক্ষে ৩ বারের বেশি উইথড্রয়াল সিম্পটম দেখা যায়। ৯৪% এর ভিতরে চেষ্টা করেও কয়েকবার নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হওয়া, ৯২% এর ভিতরে নিজের ক্ষতি হচ্ছে বুঝেও মাত্রাতিরিক্ত যৌন কাজে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা পাওয়া যায়।

৪। ২০০৪ সালে ৮৭৬ জন ও ২০০৮ সালে ৩৯০ জন কলেজ স্টুডেন্ট এর উপরে করা গবেষণায় দেখা যায়, যারা বেশি সেক্সুয়ালি এক্টিভ ছিলো (মাস্টারবেশন), তারা বেশি “ কম্পালসিভ আচরণ” এবং “সেক্সুয়াল ঝুঁকিপূর্ণ আচরণে” আক্রান্ত ছিলো।

৫। ১৯১ জন হাইপার সেক্সুয়াল এবং ৬৭ জন সাধারণ পুরুষের উপরে করা তুলনামূলক জরিপে দেখা যায়, হাইপার সেক্সুয়ালিটিতে আক্রান্তরা যৌন আসক্তির শিকার।

৬। ২০০৭ সালে, ১০২৬ জন ল্যাটিনো পুরুষের উপর করা জরিপে দেখা যায়, যারা বেশি সেক্সুয়ালি কম্পালসিভ ছিলো, তারা বেশি অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক এবং বেশি যৌন সঙ্গীর সাথে যুক্ত ছিলো।

৭। ২০০৫ সালে, মোট ২০৪ জনের (১১২ জন নারী এবং ৯২ জন পুরুষ) উপরে জরিপে দেখা যায়, ৩১% স্যাম্পল জীবনে কমপক্ষে একবার হলেও সেক্সুয়ালি ইম্পালসিভ, ৪.৯% সারা জীবনই সেক্সুয়ালি কম্পালসিভ ছিলো, এবং এদের প্রতি ১০ জনের ৯ জনই বর্তমানে সেক্সুয়ালি কম্পালসিভ হিসাবে নিজেদেরকে রিপোর্ট করে।

৮। সেক্স হেল্প ডট কমের ইন্টারনেট ভিত্তিক এক জরিপে ৫০০৫ জন পুরুষ ও ১০০৩ জন নারী অংশগ্রহণ করে। সেখানে যৌন আসক্তি নির্ণয় ব্যবস্থায় দেখা যায়, সেক্সুয়াল কম্পালসিভ গ্রুপ নন-কম্পালসিভ গ্রুপের চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় ইন্টারনেট ভিত্তিক সেক্সুয়াল কন্টেন্ট দেখছে এবং যৌন কাজে অংশ নিচ্ছে। অনেক বেশি সময় সেক্সুয়াল প্রবন্ধ পড়ছে বা ভিডিও দেখার পেছনে ব্যয় করছে। কম্পালসিভিটি দেখা যায় ২০১৩ জন পুরুষ এবং ৫৫৩ জন নারীর ক্ষেত্রে, যেখানে নন-কম্পালসিভ গ্রুপের সদস্য সংখ্যা ছিলো মোট ২৫৬৬ জন।

৯। ২০০৭ সালে জার্মান সোসাইটিতে ডাক্তারি সহায়তা চাইতে আসা হাইপার সেক্সুয়ালিটিতে আক্রান্ত ৭৮ জন পুরুষ এবং ১৯ জন নারীর উপরে জরিপ করে দেখা যায়, তাদের মধ্যে ৪৮.৭% পর্নোগ্রাফির উপর নির্ভরশীল। ৩৪.৬% কম্পালসিভ-মাস্টারবেশন এবং ২০.৫% এলোমেলো/অনিয়ন্ত্রিত সেক্সুয়াল আচরণে ভুগছিলো।

১০। ২০০৯ সালে ডাক্তারি সহায়তা চাইতে আসা ৫৯ জন পুরুষের ভিতরে ৫৬% কম্পালসিভ-মাস্টারবেশন, ৫১% পর্নোগ্রাফি নির্ভরশীলতা, ৩৯% অনেকগুলো মিলিত অনিয়ন্ত্রিত সেক্সুয়াল সমস্যায় আক্রান্ত ছিলো।

এছাড়া বিভিন্ন সময়ে করা আরও কয়েকটি জরিপে দেখা যায় ৩৬ জন পুরুষ ৮ জন নারী, ২৩২ জন পুরুষ ৫৮ জন নারী, ৭৮ জন পুরুষ ১৯ জন নারী হাইপার সেক্সুয়ালিটি জনিত সমস্যায় আক্রান্ত এবং ডাক্তারি সহায়তা চাইছেন।

উপরের সাধারণ মানুষের উপরে জরিপ এবং ডাক্তারি সহায়তা চাইতে আসা জরিপের তালিকাগুলি মেলালে দেখতে পাওয়া যায়, হাইপার সেক্সুয়ালিটিতে আক্রান্ত তালিকার বেশিরভাগই অতিরিক্ত পরিমাণ যৌন কাজ (সপ্তাহে ৭+ বারের বেশি সঙ্গম, মাস্টারবেশন বা অন্যন্য), কম্পালসিভ-মাস্টারবেশন, ইম্পালসিভ-সেক্স, যৌন আসক্তি, পর্নোগ্রাফি আসক্তি ইত্যাদির সাথে যুক্ত ছিলেন।

পরবর্তীতে আমরা ব্রেইনের উপরে পর্নোগ্রাফি আসক্তি এবং অতিরিক্ত মাস্টারবেশনের প্রভাবগুলো দেখবো। তার আগে হাইপার সেক্সুয়ালিটিতে আক্রান্ত দুজন মানুষের সংক্ষিপ্ত গল্প বলে নিই।

১। স্টাডি-১ (পর্নোগ্রাফি আসক্তি):

রাজেশ ২২ বছরের যুবক, যাকে ইন্টারনেট পর্নোগ্রাফি আসক্তির জন্য ডাক্তারি সহায়তা নিতে পাঠানো হয়। সে বলেছিলো , সে প্রতিদিন ৩/৪ ঘন্টা পর্নোগ্রাফি দেখে। কিন্তু সে নিশ্চিত না তার কোন সমস্যা আছে কিনা। সে ১৪ বছর বয়স থেকে এটা শুরু করে এবং বর্তমানে দিনে ১-৩ বার মাস্টারবেট করে। সে বলে, সে একই জিনিস বারবার দেখতে পছন্দ করে না। তাই সে সবসময় নতুন ছবি এবং ভিডিও খোঁজে, যাতে তার অনেক বেশি সময় ব্যয় হয়, এবং সে ক্লাসেও মাঝে মাঝে দেরি করে পৌঁছায়। কারণ সে সময় সে মাস্টারবেশন করছিলো। সে আরও বলে, সে এটাতে এখন ক্লান্ত হয়ে গেছে। সে নিজেকে একটা চক্রে আবদ্ধ মনে করে, যার কারণে সে অন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজে, সৃজনশীল কাজে বা দৈনন্দিন কাজে সময় দিতে পারে না। জীবনকে তার এখন কঠিন মনে হয়।

২। স্টাডি-২ (অনুতপ্ত বোধ করা):

কেলি ৪০ বছর বয়স্কা হেটারোসেক্সুয়াল নারী। ৯ বছর ধরে তিনি বিবাহিত এবং পূর্বে অত্যধিক কম্পালসিভ আচরণ ও দীর্ঘস্থায়ী অবসাদগ্রস্ত হিসাবে তাকে সনাক্ত করা হয়েছিলো। বর্তমানে তাকে তার গৃহ চিকিৎসক যৌন আসক্তির জন্য বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠায়। সে বলে, তার যদি শক্তি থাকতো, তাহলে সে প্রতিদিন ইচ্ছেমত সেক্স করত। সে সপ্তাহে দুবার ভাইব্রেটর ব্যবহার করে যখন তার স্বামী বাসায় থাকে না। কারণ সে তার সাথে মিলনে পরিতৃপ্ত না, এবং তার স্বামী এটা জেনে কষ্ট পেতে পারে, তাই তাকে জানতে দিতে চায় না। কেলি বলে, সে প্রায়ই চিন্তা করে “কোনো একজনের সাথে সে সেক্স করছে, যাদেরকে তার তখন মনে আসে, সে যে কেউই হতে পারে”, এবং এসবের জন্য সে অনুতপ্ত বোধ করে।

এ ধরনের পরিস্থিতিকে সেক্সুয়ালি অনুতপ্ত বোধ করা (গিল্ট ফিলিং) বলা হয়, যা হতাশা, মন খারাপ বাড়িয়ে দেয় এবং প্রাত্যহিক জীবনে ব্যাঘাত ঘটায়।

হাইপার সেক্সুয়ালিটির কেসগুলোতে বিভিন্ন জরিপ এবং পুনর্বাসন কেন্দ্রে অংশগ্রহণকারীদের করা স্বীকারোক্তি থেকে জানা যায়, বেশিরভাগ হাইপার সেক্সুয়ালিটিতে আক্রান্তরাই সপ্তাহে প্রতিদিন (প্রায় ১-৩ ঘন্টা করে) পর্নোগ্রাফি দেখায় যুক্ত ছিলেন। স্বভাবতই পর্ন দেখার সাথে মাস্টারবেশনের একটা সম্পর্ক চলে আসে।

পর্নোগ্রাফি এবং ব্রেইন

যৌনতা হচ্ছে জীবের আদিম প্রবৃত্তি, যা টিকে থাকা এবং বংশবৃদ্ধির জন্য প্রকৃতিরই গড়া নকশা। তাই মানুষের মস্তিষ্ক যৌন ইঙ্গিত বা যৌনতা প্রকাশ করে এমন ছবি বা ভিডিওর ক্ষেত্রে খুব সহজেই সাড়া দেয়। পর্নোগ্রাফিও এর ব্যতিক্রম না। পর্নোগ্রাফির স্বল্প ব্যবহার যৌন আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি এবং সঙ্গী ভিত্তিক সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটালেও দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত মাত্রায় এর ব্যবহার বা এর প্রতি আসক্তি মানুষের মস্তিষ্ক এবং যৌন জীবনের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

একটা স্বাভাবিক সুস্থ সঙ্গী ভিত্তিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যৌন সঙ্গমের চাহিদাটাই শুধু মুখ্য নয়; সেখানে স্পর্শ থাকে, পরস্পরের চোখে তাকানো থাকে, পারস্পরিক বোঝাপড়া থাকে। কিন্তু পর্ন ইন্ডাস্ট্রিগুলো ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির মত হওয়ায় সেখানে বাস্তবতার চেয়ে দর্শককে আকৃষ্ট করার উপায়ই প্রধান উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। তাই বাস্তবে স্বাভাবিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যেটা সাধারণত হয় না, এমন ধরণের ভঙ্গিমা এবং উপায়ে যৌনতাকে পর্নোগ্রাফিগুলোতে তুলে ধরা হয়। তাই একশন বা এডভেঞ্চার ফিল্মের মত মানুষ সহজেই পর্নোগ্রাফিতে আকৃষ্ট হয়। বরং এর সাথে দৈহিক ও মানসিক সুখের অনুভূতি যুক্ত থাকায় সাধারন ফিল্ম থেকেও পর্নোগ্রাফি বেশি  সফল ব্যবসা।

সঙ্গী ভিত্তিক সম্পর্কের সময় বা পর্নোগ্রাফি দেখার সময় আমাদের মস্তিষ্কে হরমোন নিঃসৃত হয়। আর এই হরমোনের উচ্ছ্বাসই আমাদের ভাল লাগার অনুভূতি দিয়ে থাকে। ডোপামিন এমন একটি হরমোন। পর্নোগ্রাফি দেখলে যা হয় তা হলো, শুরুর দিকে পর্ন দেখার সময় পর্নোগ্রাফির বিশেষভাবে তৈরি বৈশিষ্ট্যের জন্য আমাদের মস্তিষ্কে ডোপামিনের নিঃসরণ স্বাভাবিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যা হওয়ার কথা, তার তুলনায় অনেক বেশি হয়। এই বেশি বেশি ডোপামিনের উচ্ছ্বাস দর্শককে খুব বেশি উদ্দীপ্ত করতে পারে, যাকে ‘ডোপামিন স্পাইক’ বলে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন স্টাইলের পর্ন দেখতে দেখতে আমরা সেগুলোতে খুব বেশি অভ্যস্ত হয়ে পড়ি। তাই তখন স্বল্প সময় ধরে বা ভালোবাসাপূর্ণ রোমান্সকে প্রকাশ করে, এমন ধরনের পর্ন দেখায় আমাদের এই ডোপামিনের নিঃসরণ হয় না, বা নিঃসরণের পরিমাণ কমে যায়। কিন্তু ততদিনে আমাদের মস্তিষ্কের “ডোপামিন রিসেপ্টর”গুলো বেশি বেশি ডোপামিনের প্রবাহে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। তাই কম পরিমাণ ডোপামিন তাকে আগের সেই ভালোলাগার অনুভূতি দিতে পারে না। তাই পর্ন দেখতে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া এবং আসক্তিতে পরিণত হওয়া মানুষগুলো ক্রমাগতই অতিরিক্ত ডোপামিনের স্বাদ পাবার জন্য পর্ন দেখার সময়ের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয় এবং হার্ডকোর শ্রেণির এবং স্বাভাবিক সম্পর্কের বাইরে যেয়ে শুধুমাত্র নাটকীয় আবহে তৈরি পর্নগুলোই বেশি বেশি খুঁজতে থাকে।

মুভি স্টাইলে তৈরি এই পর্নোগ্রাফির জালে খুব বেশি জড়িয়ে গেলে যেটা হয় তা হলো, স্বাভাবিক সঙ্গী ভিত্তিক সম্পর্কে আর ‘ওই পরিমাণ’ ডোপামিনের উচ্ছ্বাস থাকে না, যেটা তাকে সুখের অনুভূতি দিতে পারে। কারণ বাস্তবের সম্পর্ক পর্নোগ্রাফির মত না। তাই পর্ন দেখায় সুখ খুজে পেলেও বাস্তবে আর সুখের অনুভূতি পাওয়া যায় না। এই অবস্থাকে বলে “একমুখী নিউরোলজিক্যাল সুপার হাইওয়ে”, যেটা কাজ করে পাহাড়ি রাস্তায় মোটর সাইকেল রেস বা বরফের মাঝে স্কি করার মত। এসব ক্ষেত্রে একটা বাধা পেরোলেই পরের বাধা আরও উঁচুতে থাকে। তাই পর্নোগ্রাফি আসক্তরাও ক্রমাগত বেশি সময় ধরে পর্ন দেখতে থাকে এবং সুখের নেশায় হার্ড থেকে হার্ডকোর পর্নের দিকে ঝুঁকতে থাকে। ড্রাগ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এইরকম ব্যাপারই ঘটে। তাছাড়া পর্ন আমাদের যৌন ফ্যান্টাসিকে ডাল পালা ছড়াতে সাহায্য করে। মানুষ পর্নে দেখানো স্টাইলগুলো নিয়ে বেশি বেশি ভাবতে থাকে এবং যেই জিনিস মানুষ পর্নে দেখে অভ্যস্ত, বাস্তবেও তার প্রতিফলন ঘটাতে চায়। ফলাফল হিসাবে বাস্তবে সেটা প্রায়ই সম্ভব হয়ে ওঠে না বলে পার্টনারের সাথে সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং ওই ধরনের স্টাইল ছাড়া সেও আর তৃপ্তি পায় না।

নিচের বাম পাশের এক নাম্বার ছবিতে সাধারণ স্বাস্থ্যবান মানুষ এবং পর্নোগ্রাফি আসক্তদের ডোপামিনের লেভেলের তুলনার ইমেজিং দেখানো হয়েছে।

porn on brain image-01

এছাড়া পর্নোগ্রাফিতে বিভিন্ন ধরনের “ফেটিজম”কে খুব বেশি ব্যবহার করতে দেখা যায়। তাই পর্ন আসক্তরা বিভিন্ন ধরনের ফেটিজমেও অভ্যস্ত বা আক্রান্ত হয়ে পড়তে পারে! কারণ মানুষের মাঝে অনুকরণ করার প্রবণতা খুব বেশি। একে বলা হয় “মিরর-নিউরন ইফেক্ট”। তাছাড়া গবেষণায় দেখা গেছে, একজন সঙ্গীর সাথে দীর্ঘদিন ধরে সঙ্গমের ফলে সঙ্গমের সময়কাল বাড়ে যেটা হয়ত আনন্দদায়ক, কিন্তু প্রায়ই আলাদা আলাদা সঙ্গীর সাথে মিলনের ফলে মিলনের সময়কাল কমে যায়। পর্নে আলাদা আলাদা মানুষকে প্রতিদিন দেখতে থাকলে আসক্তরা তাই সাধারণত দ্রুত অর্গাজম/ইজাকুলেশনের শিকার হয়, যা উপরের ডান পাশের দুই নাম্বার ছবিতে দেখানো হয়েছে।

এছাড়াও যেটা হয় তা হলো, মানসিক চাপ বা উদ্বেগ, হতাশাকে পাশ কাটাতে পর্ন দেখায় অভ্যস্ত হয়ে গেলে উদ্বেগ বা হতাশ থাকলেই পর্ন দেখতে ইচ্ছে করে এবং পর্নের সাথে সাধারনত মাস্টারবেশনও যুক্ত থাকে। তাই পর্ন আসক্তরা সাধারণের তুলনায় অনেক বেশি পরিমাণে মাস্টারবেট করে থাকে এটা উদ্বেগ বা হতাশাকে আরও বাড়িয়ে তোলে, এবং মানুষ শেষপর্যন্ত “কম্পালসিভ-আচরণে” আক্রান্ত হয়ে পড়ে।

পর্নোগ্রাফির প্রতি কম্পালসিভ-যৌন-আচরণে আক্রান্ত গ্রুপ এবং সাধারণ স্বাস্থ্যবান গ্রুপের ভিতরে তুলনামূলক রেসপন্স (নিচের ফিগার):

image-02

পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের একটা নিয়ন্ত্রিত নির্দিষ্ট অল্প সময় ধরে পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত ভিডিও দেখতে দেওয়া হয় এবং তাদের মস্তিষ্কের নিউরাল এক্টিভিটি ইমেজিং-এর পর গ্রাফ করে দেখা যায় যে, স্বাস্থ্যবান স্বেচ্ছাসেবকদের তুলনায় সেক্সুয়াল-কম্পালসিভিটিতে আক্রান্ত গ্রুপ পর্নোগ্রাফির প্রতি তুলনামূলক বেশি সাড়া দিচ্ছে। উপরের গ্রাফে নিউরাল এক্টিভিটি দেখানো হয়েছে যেখানে কালো রঙে আছে সাধারণ স্বাস্থ্যবান গ্রুপ এবং লাল রঙে সেক্সুয়াল-কম্পালসিভ গ্রুপ কে দেখানো হয়েছে।

পর্নোগ্রাফি জনপ্রিয়তা পায় পৃথিবী ব্যাপি ইন্টারনেটের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং ইন্টারনেট সহজলভ্য হবার পরই। একে একে প্রায় সব দেশেই পর্ন ইন্ডাস্ট্রির ব্যবসা গড়ে উঠতে থাকে। এটা সাধারণত হয় ১৯৯৫ সালের পরে। তাই পর্নোগ্রাফি এবং এর সাথে আসক্তির বা অন্যান্য সমস্যার শনাক্তকরণের ব্যাপারটাও খুব বেশিদিন আগের নয়। এজন্য এই সেক্টরে এখনও যথেষ্ট পরিমাণ গবেষণা হয়নি। তাছাড়া পর্ন ইন্ডাস্ট্রিগুলোর চাহিদা এবং আয়ের পরিমাণও ভয়াবহ রকমের বেশি। তাই তাদের এই শিল্প ধংস হয়ে যাক, সেটা নিশ্চয় ইন্ডাস্ট্রি মালিকরা চাইবে না। এজন্য “পর্নোগ্রাফি আসক্তি” এবং এর “খারাপ প্রভাব” বলে কিছু নেই, এমন মতবাদও বাজারে প্রচলিত আছে।

নিচে পর্ন নিয়ে গবেষণা করছেন এমন একজন গবেষকের ইউটিউব ভিডিওর লিঙ্ক দেওয়া হলঃ
https://www.youtube.com/watch?v=wSF82AwSDiU

নিচের অংশে ২০০৬ সালে করা পৃথিবী ব্যাপি পর্নোগ্রাফি সম্পর্কিত পরিসংখ্যানের উপাত্ত সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো।

ইন্টারনেট পর্নোগ্রাফি পরিসংখ্যান, ২০০৬ – Jerry Ropelato

সময় ভিত্তিক পরিসংখ্যান (২০০৬)
প্রতি সেকেন্ডে গড়েঃ ব্যবহারকারীরা $৩০৭৫ ডলার খরচ করছে।
প্রতি সেকেন্ডে গড়েঃ ২৮২৫৮ জন পর্ন দেখছে।
প্রতি সেকেন্ডেঃ ৩৭২ জন সার্চ ইঞ্জিনে পর্ন খুঁজছে।
প্রায় প্রতি ৩৯ মিনিটে একটি নতুন ভিডিও আপলোড হয়।

বিঃদ্রঃ এটা ২০০৬ সালে হওয়া জরিপ থেকে প্রাপ্ত উপাত্ত। বর্তমানে রাজস্ব, পর্ন পেইজ, পর্ন নির্মাতা, ভোক্তা প্রভৃতির সংখ্যা এই পরিসংখ্যানের তুলনায় অনেক বেশি

Porn-Stat

পর্ন ইন্ডাস্ট্রিগুলোর মোট আয়ও অনলাইনের অন্যান্য জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানের মিলিত আয় থেকে বেশি।

এছাড়া ২০-০১-২০১৬ তারিখে নেওয়া একটি স্ন্যাপ শট, যেখানে শিশু পর্নোগ্রাফির চাহিদা তুলে ধরা হয়েছেঃ

image-03

বাংলাদেশ ও পর্নোগ্রাফি

পর্নোগ্রাফি ব্যবহারে বাংলাদেশও পিছিয়ে নেই। ১৯৯০ সালের শুরুর দিকে ডায়াল-আপ কানেকশনের মধ্য দিয়ে ইন্টারনেটের ব্যবহার শুরু হয় এদেশে, এবং ২০০৫ এর ভিতরেই ১৮০+ তালিকাভুক্ত ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী (ISP) যুক্ত হয়। এরপর ২০০৮ সালে বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলের আওতায় চলে আসে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে ২০১৪ সালে ইন্টারনেটের মূল্য অনেক কমে যায়। ২০১৫ থেকেই সারা দেশের প্রায় সব মোবাইল অপারেটর থ্রিজি প্রযুক্তি চালু করে। সেই সঙ্গে ২০০৯ সালে যেখানে প্রতি “মেগাবাইট” মোবাইল ইন্টারনেট ডাটার মূল্য ছিলো গড়ে প্রায় ২০ টাকা, সেখানে ২০১৫ সালে এসে সেই মূল্য দাঁড়ায় গড়ে প্রতি “গিগাবাইট” ডাটা ১৫০ টাকা। এছাড়া ব্রডব্যান্ড এবং ওয়াইম্যাক্স সংযোগের উচ্চগতির আনলিমিটেড ইন্টারনেট ব্যবহার তো আছেই।

শুধু ইন্টারনেট ব্যবহার না, ইন্টারনেটের সঙ্গে একই হারে তাল মিলিয়ে ব্যক্তিগত মোবাইল এবং কম্পিউটারের ব্যবহারও জনপ্রিয়তা পায়। ২০০৯ সালে যেখানে সিম্বিয়ান অপারেটিংয়ের নোকিয়া বা আইওএস ফোনের মূল্য ছিলো গড়ে ২০-৩০ হাজারের কাছাকাছি, সেখানে এন্ড্রয়েড জনপ্রিয়তা পাওয়ায় এবং চায়না স্মার্টফোন বাজার দখল করায় ফোরজি প্রযুক্তির স্মার্ট ফোন ২০১৩/২০১৪ তে এসে ৫-১০+ হাজার টাকায় পাওয়া গেলো। সাধারণ কম্পিউটারের মূল্যও ২০১৪ তে এসে দাঁড়ালো গড়ে ২৫ হাজার টাকা।

ইন্টারনেট ব্যবহার জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় শুধু পর্ন দেখা না, ছোট পরিসরে বাংলাদেশ পর্ন বানানো এবং পর্নোগ্রাফি আর্টিকেল তৈরির সাথেও যুক্ত হয়। এর প্রমাণ পাওয়া যায় “ইউটিউব” বা “গুগলে” বিভিন্ন প্রচলিত বাংলা কি-ওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করলে যে রেজাল্ট দেখায় তার থেকেই। এছাড়া এই সিরিজের প্রথম পর্বে একটা পরিসংখ্যান দেওয়া হয়, যেখানে দেখানো হয়েছে ২০১০-২০১৫ সালের ভিতরে (যে সময়টাতে মোবাইল এবং ইটারনেট প্রযুক্তি জনপ্রিয়তা পায়) বাংলাদেশে চাইল্ড-রেপ ভিক্টিমের পরিমাণও আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ের ভিতরে এডাল্ট রেপ ভিক্টিমের সংখ্যা বৃদ্ধির হারও আনুপাতিক ভাবে উল্লেখযোগ্য।

“হাইপার সেক্সুয়ালিটি” সম্পূর্ণ আলাদা সমস্যা। কিন্তু হাইপার সেক্সুয়ালিটির সাথে “প্যারাফিলিয়ার” সম্পর্কটা এমন যে, হাইপার সেক্সুয়ালিটিতে আক্রান্তদের অনেকেই আবার প্যারাফিলিয়াতেও আক্রান্ত। তাছাড়া হাইপার সেক্সুয়ালিটির সমস্যা আছে এমন অনেকেই খুব বেশি পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত এবং পর্নোগ্রাফির বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে রেপ টাইপের স্টাইলকে রিপ্রেজেন্ট করেও অনেক পর্ন বানানো হয়। তাই মানুষের ব্রেইনের “মিরর-নিউরন” মেকানিজমের প্রভাবের কারণে অনেকেই সেটাতে উদ্বুদ্ধ হতে পারে। যদিও স্পষ্ট কোন বর্ণনা নেই কেউ সেটায় উদ্বুদ্ধ হবে কিনা সে বিষয়ে! এটা ব্যক্তির মানসিকতা, শিক্ষা, নৈতিকতা, বেড়ে ওঠার পরিবেশ অনেক কিছুর উপরে নির্ভরশীল। কিন্তু তারপরও বাংলাদেশে রেপ ভিক্টিমের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এ ব্যাপারে আমাদের দেশ বড় পরিসরে গবেষণার দাবি রাখে।

খুব বেশি পর্নোগ্রাফি আসক্তি এবং অত্যধিক মাত্রায় মাস্টারবেশন কী ধরনের ক্ষতি করে

১। যৌন উত্তেজনা কমে যেতে পারে যা ইরেক্টাইল ডিসফাংশন নামে পরিচিত।
২। যৌন কাজে অর্গাজম লাভ না করা এবং যৌনাঙ্গে অনুভূতি/সেন্সিটিভিটি কমে যাওয়া।
৩। খুব বেশি মাস্টারবেশনের ফলে যৌনাঙ্গের নার্ভ এন্ডিংগুলো এবং ছোট বড় রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যে কারণে মূলত সেন্সিটিভিটি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
৪। পর্ন দেখে সুখ খুঁজে পেলেও বাস্তব জীবনে যৌনাকাঙ্ক্ষা কমে যাওয়া।
৫। ফেটিজমে আক্রান্ত হয়ে পড়া।
৬। মস্তিষ্কের গ্রে-ম্যাটেরিয়াল কমে যাওয়া, যা স্মৃতিশক্তির সাথে সম্পর্কিত।
৭। হতাশা, উদ্বেগ বা মানসিক চাপে ভোগা এবং সামাজিক সম্পর্কের অবনতি ঘটা, অমনযোগী হয়ে পড়া।

তবে গবেষণায় দেখা গেছে, অন্যান্য আসক্তিগুলোর মত পর্নোগ্রাফি আসক্তি থেকেও নিষ্কৃতি পাওয়া সম্ভব। তার জন্য প্রয়োজন ডাক্তার এবং সাইকোলোজিস্টের পরামর্শ এবং পারিবারিক সহযোগিতা। পর্ন ছেড়ে দেওয়ার পর শুরুতে মানসিক কষ্ট এবং বিষণ্ণতা ভর করতে পারে, যেটা অন্য ড্রাগ ছেড়ে দেবার পরও দেখা যায়। একে উইথড্রয়াল সিম্পটম বলে। তখন ভয় না পেয়ে বরং জীবনের অন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজে বেশি সময় দেওয়া উচিত এবং মন ভাল করে এমন সাংস্কৃতিক বা বিনোদনমূলক কোনোকিছুর সাথে যুক্ত হওয়া যেতে পারে। একবার বেরিয়ে আসতে পারলে আত্মবিশ্বাস অনেক গুণ বেড়ে যায় এবং সুস্থ ও সফল জীবন কাটানো যায়।

এখানে একটি ইউটিউব লিঙ্ক দেওয়া হলো যেখানে একজন এক্স-পর্ন এডিক্টের পর্ন ছেড়ে দেওয়া এবং এগিয়ে যাওয়ার গল্প আছেঃ

বাংলাদেশের জন্য যা করা যেতে পারে

১। প্রথম পর্বেই বলা হয়েছে স্কুল, কলেজ এবং পারিবারিক পর্যায়ে আন্তরিকতার সাথে সন্তানকে কিশোর বয়সে যৌনতা সম্পর্কে সুস্থ ধারণা দেওয়া। শুধুমাত্র “এটা ঠিক না, এটা করা যাবে না” এরকম না বলে, বরং কেন করা যাবে না বা ঠিক কী করা উচিত এবং কতটা করা উচিত সে সম্পর্কে উপযুক্ত ধারণা দেওয়া।

২। পর্নোগ্রাফির ব্যবহার কমাতে সরকার ফ্রি পর্ন সাইটগুলো বাংলাদেশ থেকে প্রবেশ বন্ধ করে দিতে পারে অথবা বয়স যাচাই এর ব্যবস্থা রাখতে পারে। তবে উপরের ডাটা থেকে দেখা যায়, রক্ষণশীল মনোভাবের দেশগুলোতেই পর্ন আসক্তির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি।

৩। বাড়িতে যাতে বাচ্চারা পর্নোগ্রাফি ব্যবহার করতে না পারে, সেজন্য তার ব্যবহৃত ডিভাইসে “প্যারেন্টাল কন্ট্রোল” চালু করা।

৪। হাইপার সেক্সুয়ালিটি এবং এ ধরনের সমস্যায় যারা ভুগছেন তাদের জন্য সরকারী হাসপাতাল নির্মাণ এবং সাইকোথেরাপি কেন্দ্র নির্মাণ।

৫। বাংলাদেশের মানুষ সাইকোলজিক্যাল সমস্যায় অন্যান্য দেশের মানুষের মতই ভোগে কিন্তু গুরুত্ব দেয় না। এর একটা কারণ নিম্ন আয়। তবে সাইকোলজিক্যাল সমস্যাগুলো অবহেলা না করে বরং প্রফেশনাল থেরাপিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ।

বিঃদ্রঃ কেউ যদি দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিদিনই বা দিনে একাধিকবার মাস্টারবেশন/সেক্স করার পরও শারীরিক, মানসিক বা সামাজিক ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সমস্যা বোধ না করে, তাহলে দুঃশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। কিন্তু  বিভিন্ন জরিপে দেখা যায়, দীর্ঘ সময়ের জন্য গড়ে প্রাপ্তবয়স্ক স্বাভাবিক সুস্থ মানুষ সপ্তাহে ৩/৪ বার যৌন কাজে লিপ্ত হয়। এবং দীর্ঘ সময় ধরে সপ্তাহে ৭+ বার যৌন কাজে লিপ্ত হওয়া মানুষের ভিতরে হাইপার সেক্সুয়ালিটিসহ অন্য ধরনের সেক্সুয়াল সমস্যার পরিমাণও বেশি। তাই কেউ নিজের যৌন জীবন নিয়ে সমস্যা বোধ করলে সাইকলোজিস্ট এবং যৌন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ।

ক্রিটিক্যাল রিভিউ

অতীতে নন-প্যারাফিলিক হাইপার সেক্সসুয়াল ডিজঅর্ডারের “যথেষ্ট তথ্য নেই” এই অজুহাতে হাইপার সেক্সুয়াল ডিসঅর্ডারকে আলাদা কোনো সুনির্দিষ্ট রোগ নির্দেশক যৌন আচরণ হিসেবে ধরা হতো না, বরং “উল্লেখ করার মতো নয়” বলে এড়িয়ে যাওয়া হতো। কিন্তু বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, পশ্চিমা বিশ্বে হাইপার সেক্সসুয়াল ডিজঅর্ডারের রিপোর্টেড কেসের সংখ্যা সমস্ত প্যারাফিলিক ডিজঅর্ডারের চেয়েও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

হাইপার সেক্সসুয়াল ডিজঅর্ডার একটি প্রচলিত ও সঙ্কটজনক ক্লিনিকাল পরিস্থিতি, যার উপসর্গ হলো, মাত্রাতিরিক্ত যৌন চিন্তা, যৌন তাড়না ও আচরণের পুনরাবৃত্ত ঘটা; পর্নোগ্রাফি আসক্তি, এক্সেসিভ ও অদম্য মাস্টারবেশন, অপরিকল্পিত গর্ভাবস্থা, দাম্পত্য কলহ, বিবাহবিচ্ছেদ, যৌনবাহিত রোগের ঝুঁকিতে থাকা, ইত্যাদি। কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে হাইপার সেক্সসুয়াল ডিজঅর্ডারের প্রচুর ক্লিনিকাল নজির দেখা গেলেও, হাইপার সেক্সুয়াল ডিজঅর্ডার নির্ণয়ের জন্য আমাদেরকে যৌনতা প্রকাশের ‘স্বাভাবিক’ ও ‘মাত্রাতিরিক্ত’ এই ‘দুই মাত্রার’ মাঝে একটা সর্বসম্মত সীমানা টানতে হবে, যেটা মোটেও সহজ নয়। যেমন, মাস্টারবেশন বা ইটারকোর্সকে কখন অদম্য বা আশংকাজনক হিসেবে ধরা হবে বা যৌন উদ্দীপনার কোন পর্যায়কে আসক্তি হিসেবে গণ্য করা হবে, সেটা পরিষ্কার নয়।

হাইপার সেক্সসুয়াল ডিসঅর্ডার নির্ণয়ের মডেলে ব্যাধি-নির্ধারক একাধিক মানদণ্ড আছে, যেখানে ধরে নেয়া হয়, পুনরাবৃত্তিমূলক যৌন তাড়না, কল্পনা ও আচরণগুলো প্রকাশ পায় হাইপার সেক্সসুয়াল ডিসঅর্ডার উপসর্গের বৈরী প্রতিক্রিয়া হিসেবে। কিন্তু দেখা যায়, এই ধরনের যৌন প্রতিক্রিয়াগুলো দুঃশ্চিন্তা ও মুড ডিজঅর্ডারের সাথে “যুগপৎ” হতে পারে।

হাইপার সেক্সুয়ালিটি নির্ণয়ের মডেলে কয়েকটি সমস্যা আছে

১। যদিও গত কয়েক দশক ধরে বেশ কয়েকটি সনাতন পদ্ধতি ব্যবহার করে পুরুষ ও নারীদের ছোট ছোট নিয়ন্ত্রিত গ্রুপের হাইপার সেক্সসুয়াল ডিজঅর্ডারের মাত্রা ও এর বৈরী প্রভাব নির্ভরযোগ্যভাবে বের করা গেছে, কিন্তু এই পদ্ধতিগুলোর কোনোটাতেই হাইপার সেক্সসুয়াল ডিজঅর্ডারের প্রস্তাবকৃত সুনির্দিষ্ট মানদণ্ডগুলোর সবকটাকে একসাথে অন্তর্ভূক্ত করা যায়নি।

২। অনেক গবেষকের ধারণা, যৌন-প্রতিক্রিয়া কোনো স্বতন্ত্র ব্যাধি নির্দেশ করে না বরং এরা অন্য কোনো মানসিক ব্যাধির (যেমন, হতাশা, দুঃশ্চিন্তা ও মুড ডিজঅর্ডার) বৈরী প্রভাব হ্রাস করে। এই সব মানসিক ব্যাধির চিকিৎসার সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট যৌন-প্রতিক্রিয়াগুলোও লোপ পায়। তাই উদ্ভুত যৌন-প্রতিক্রিয়াগুলোর আলাদা কোনো চিকিৎসা না দিয়ে বরং সগুলো মানিয়ে নেবার কৌশল বের করা দরকার।

৩। কিছু গবেষক মনে করেন, মানসিক ব্যাধির উন্নয়নে পুনরাবৃত্তিমূলক যৌনতায় জড়িয়ে পড়াকে যদি স্বতন্ত্র সেক্স-ডিসঅর্ডার হিসেবে ধরা হয়, তবে অন্য পুনরাবৃত্তিমূলক অযৌন আচরণ যা কিনা দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করে, যেমন: শখ, শপিং – এগুলোও কোনো না কোনো মানসিক ব্যাধি হিসেবে নির্দেশ করা উচিত। যদিও পুনরাবৃত্তিমূলক যৌন ও অযৌন প্রতিক্রিয়াগুলো সদৃশ, মাত্রাতিরিক্ত টিভি দেখা বা শপিং করাকে কিন্তু DSM এর অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি।

৪। হাইপার সেক্সসুয়াল ডিজঅর্ডারের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে, জানায় এখনো অনেক ফাঁক রয়ে গেছে। যেমন, নিউরোবায়োলজি, নিউরোসাইকোলজি, পারিবারিক ইতিহাস, রোগের ক্লিনিকাল গতিপথ ও ঝুঁকির লক্ষণের ক্রমবিকাশ ইত্যাদি।

তবে একসময় পারাফিলিক-ডিজঅর্ডারকেও “যথেষ্ট তথ্য নেই”, “সামাজিক-কলঙ্কায়ন” ইত্যাদি অজুহাতে রোগ নির্দেশক ডিজঅর্ডার হিসাবে গণ্য না করার দাবি উঠেছিলো।

যৌনতার মতই অন্যান্য প্রবৃত্তিগত আচরণ যেমন, ক্ষুধা, ঘুম, তৃষ্ণা ইত্যাদিও অনিয়ন্ত্রিত ও অদম্য হয় উঠতে পারে। যেমন, মনোরোগ বিজ্ঞানে মাত্রাতিরিক্ত ঘুমকে প্রাইমারি-হাইপারসোমনিয়া আর মাত্রাতিরিক্ত খাওয়াকে বিঞ্জ-ইটিং-ডিজঅর্ডার হিসেবে চিকিৎসা দেয়া হয়। হাইপার সেক্সুয়ালিটি ডায়াগনোসিস মডেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, মাত্রাতিরিক্ত যৌন কল্পনা, তাড়না, আচরণ ইত্যাদি বেদনাদায়ক ও স্বাস্থ্যবৈকল্যের কারণ হতে পারে। এটা সম্ভবত এই মডেলের সবচেয়ে কার্যকর মানদণ্ড। কারণ, এটাই ব্যাখ্যা করে কেনো একজন হাইপার সেক্সুয়াল ডিজঅর্ডারের রোগী চিকিৎসকের দারস্থ হবেন। কিন্তু, হাইপার সেক্সসুয়াল ডিজঅর্ডার ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার আগে, রোগীর সামাজিক সীমাবদ্ধতাগুলো ভালো করে যাচাই করা উচিত।

যৌনতা ও যৌনতা প্রকাশে রক্ষণশীল ও নিয়ন্ত্রণমূলক দৃষ্টিভঙ্গি সামান্য যৌন তাড়নার বৃদ্ধিতে পীড়াদায়ক অবস্থা তৈরী জন্য দায়ী হতে পারে, যদিও এই ধরণের যৌনতা-বৃদ্ধি আদর্শ মানদণ্ডের অন্তর্ভূক্ত। লজ্জা, উদ্বেগ, অপরাধবোধ এবং তার সাথে বাড়তি যৌনকামনা ও যৌনবঞ্চনা ইত্যাদি একত্রে একজন সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষকেও চিকিৎসার মুখাপেক্ষী করতে পারে।

এই ধরনের মতবিরোধ যুক্ত থাকায় “হাইপার সেক্সুয়াল ডিজঅর্ডার” কে ২০১৩ তে প্রকাশিত DSM-5 (The Diagnostic and Statistical Manual of Mental Disorders – Fifth Edition) এ অফিশিয়ালি সাইকিয়াট্রিক ডিজঅর্ডার হিসাবে যুক্ত করা হয়নি। এটাকে শুধুমাত্র ‘ডিজঅর্ডার’ হিসাবে আরও বেশি রিসার্চ হওয়া দরকার এই মর্মে সেকশন III তে অন্তর্ভূক্ত রাখা হয়। তবে অনেক গবেষক, থেরাপিস্ট, সাইকোলোজিস্ট DSM এর এই সিদ্ধান্ত কে স্বাগত জানাননি। কারণ তাদের মতে, “হাইপার সেক্সুয়ালিটির মত অনিয়ন্ত্রিত অদম্য যৌনাসক্তি, জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির এবং ব্যক্তি ও আক্রান্ত ব্যক্তির পারিবারিক পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং ইমোশনাল-সম্পর্কের জন্য ক্ষতির কারণ”।

বিশেষ ধন্যবাদঃ Abuhayat Khan ভাইকে, যিনি প্রবন্ধটি লিখতে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছেন।

 

তথ্যসূত্র

বিঃদ্রঃ DOI নাম্বার বা জার্নালের নাম দিয়ে গুগলে অথবা স্প্রিঙ্গার (springer) এ খুজলেই জার্নাল গুলো পাওয়া যাবে।

Journal Report on Hypersexuality:
1. Hypersexual Disorder: A Proposed Diagnosis for DSM-V
Martin P. Kafka DOI 10.1007/s10508-009-9574-7

Hypersexual Disorder: A Proposed Diagnosis for DSM-V

1.1 Debating the Conceptualization of Sex as an Addictive Disorder

Drew A. Kingston1,2 DOI 10.1007/s40429-015-0059-6
2. Sexual Impulsivity in Hypersexual Men
Rory C. Reid & Heather A. Berlin & Drew A. Kingston
DOI 10.1007/s40473-015-0034-5
3. A Treatment-Oriented Typology of Self-Identified Hypersexuality

Referrals JamesM. Cantor • Carolin Klein • Amy Lykins • Jordan E. Rullo •
Lea Thaler • Bobbi R. Walling DOI 10.1007/s10508-013-0085-1
4. Mood as a mediator of the link between child sexual abuse and psychosis

  1. Marwaha • P. Bebbington DOI 10.1007/s00127-014-0966-1
    5. The Functional Anatomy of Impulse Control Disorders
    Catharina C. Probst & Thilo van Eimeren DOI 10.1007/s11910-013-0386-8
    6. Evaluating Outcome Research for Hypersexual Behavior
    Joshua B. Grubbs1 & Joshua N. Hook2 & Brandon J. Griffin3 &

Don E. Davis DOI 10.1007/s40429-015-0061-z
7. Hypersexual Disorder: A More Cautious Approach
Jason Winters DOI 10.1007/s10508-010-9607-2
8. Headaches Induced by Pornography Use

Kuljeet Singh Anand • Vikas Dhikav DOI 10.1007/s10508-012-9988-5

  1. Psychology Today: Theripist’s Reaction about Dsm-v

sexual desier difference in men and women:

  1. Universal Sex Differences in the Desire for Sexual Variety

by David P. Schmitt, Bradley University

  1. Hormones, Sex and Personality Type

Pornography Reaction on Brain:

  1. How Pornography Hijacks the Male Brain

by William M. Struthers

  1. The Brain on Porn| Jama Psychiatry
  2. Journal Report | Plos One
    4. University of Cambridge
    5. Daily Mail UK
    6. Your Brain on Porn By Gary Wilson
    7. Brain Studies on Porn Users
    8. Coolidge effect
    9. Medical Daily

Porn Related Stat-data:
1. Porngraphy Statistics Data 2006
2. tribune.com.pk
3. salon.com
4. Current Porn Statistics
5. foxnews.com

libido:
1. webmd
2. news-medical

Comments

Rajib

I'm still thinking!

আপনার আরো পছন্দ হতে পারে...

মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানান

2 মন্তব্য on "যৌনতা ও জীবন, পর্ব ২ঃ মাস্টারবেশন এবং পর্নোগ্রাফি আসক্তি [হাইপার সেক্সুয়ালিটি]"

জানান আমাকে যখন আসবে -
avatar
সাজান:   সবচেয়ে নতুন | সবচেয়ে পুরাতন | সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত
Shuvo
অতিথি

You have not catagorized the sexual act clearly which is natural and which is natural and perversion. And When masturbation is good or harmful for health

wpDiscuz