বিগ ব্যাং কোথায় হয়েছিলো?

বিগ ব্যাং হয়েছিল ১৩ বিলিয়ন বছরের কিছু আগে। এই সময়ের আগে, যতদূর  বিজ্ঞানীরা বলেন, সময়ের কোন অস্তিত্ব ছিল না (সাথে স্পেসেরও)। বিগ ব্যাং এর আগে যদি কিছু থেকেও থাকে আমরা সেটা জানতে পারবো না, কারণ পদার্থবিদ্যার আইন আমাদের সেটা করতে দেয় না।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, আমরা বিগব্যাংয়ের আগের সময়ে যেতে পারবো না। তাই আমরা জানতেও পারবো না সেখানে কী ছিল।কিন্তু বিগ ব্যাং এর ব্যাপারে আমরা কী কী জানি? যেমন- বিগব্যাং কোথায় হয়েছিল? আর অন্যভাবে বলতে গেলে- মহাবিশ্বের কেন্দ্র কোথায়?

এই প্রশ্ন আসলে অনেক সাধারণ প্রশ্ন। যৌক্তিকভাবে বিবেচনা করলে “কোথায় বিগ ব্যাং হয়েছিল” প্রশ্নের উত্তর দিতে পারলে আমরা মহাবিশ্বের কেন্দ্র কোথায় জানতে পারবো। মানুষ যেটা বোঝে না সেটা হচ্ছে- বিগ ব্যাং পদার্থের জন্ম না, মহাশুণ্যের নিজের  সম্প্রসারণ

বিগ ব্যাং যখন হয়েছিল তখন সবকিছু এক স্থানে ছিল, একটা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র স্থানে। তখন মহাশুন্য সম্প্রসারিত হয়ে আমাদের আজকের মহাবিশ্বে রূপ নিয়েছে। লক্ষণীয় যে, এই পয়েন্টটিই ছিল সম্পূর্ন মহাবিশ্ব, আর সেটা সম্প্রসারিত হয়েছে, তাই বিগ ব্যাং একটা নিদির্ষ্ট স্থানে হয় নি- বিগ ব্যাং সব স্থানে হয়েছিল। মহাবিশ্বের সকল কিছু সম্প্রসারিত হয়েচ্ছে, দুইটা স্থানের মাঝের দূরত্ব বাড়তে শুরু করে।

বিগ ব্যাং এর সময়রেখা।

বিগ ব্যাং এর সময়রেখা।

পরিষ্কার করে বলতে গেলে, মহাশূন্যের সম্প্রসারণ মুলত ছিল সর্বব্যাপী। এবং বিষয় হল –  একইভাবে মহাশুন্যের সম্প্রসারণ এখনো ঘটছে। তার মানে এই নয় যে আপনার পরমানুগুলোও সম্প্রসারিত হচ্ছে (অথবা পদার্থের সম্প্রসারণ হচ্ছে)। একমাত্র মহাশূণ্যেরই সম্প্রসারণ ঘটছে। আপনি যদি মহাজগতকে ওভেনের ভেতর ফুলে ওঠা একটা রুটির মত কল্পনা করেন, তাহলে দেখতে পাবেন যে এটি সবদিক দিয়ে প্রসারিত হচ্ছে। কিন্তু রুটির ভেতরের কিছু থাকলে (যেমন কলার বা খেজুরের টুকরা) তার প্রসারণ ঘটছে না। বরং, রুটির ভেতরের কলার টুকরাগুলো (ছায়াপথ) পাশাপাশি সরে এসে আবার একে অন্য থেকে আরো দূরে সরে যাচ্ছে, কারণ তাদের মধ্যবর্তী স্থান (মহাশূণ্য) সম্প্রসারিত হচ্ছে।

যেহেতু, এই সম্প্রসারণ সর্বত্র হচ্ছে, “মহাবিশ্বের কেন্দ্র” এর কোন অর্থ হয় না। বরঞ্চ আমরা বলতে পারি যে প্রত্যেক পর্যবেক্ষকই তাদের মহাবিশ্বের কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। এর কারণ হল “Light Horizon (ঘটনা দিগন্ত)”।

যতদূর পর্যন্ত আমরা দেখতে পাই সেটাই হল আমাদের ঘটনা দিগন্ত। যেহেতু শুণ্যস্থানে আলোর গতি ধ্রুবক (এবং মহাশূণ্যের বেশির ভাগ অংশই শূণ্য) আমাদের ঘটনা দিগন্ত প্রত্যেক দিকে একই দূরত্বব্যাপী হবার কথা (এক দিকের দুরত্ব অন্যটার চেয়ে কম হবে না, যেহেতু আলো একই গতিতে চলে)।

সুতরাং, যদি আপনি ঘটনা দিগন্তকের সাহায্যে মহাজগতের কেন্দ্র নির্ধারণের চেষ্টা করেন, আপনি এটাকে সবসময়ই পর্যবেক্ষকের অবস্থানের জায়গাটিতেই পাবেন। আরো ভালো করে বুঝতে হলে এর এক চিত্রায়ন পাবেন এখানে

Comments

আপনার আরো পছন্দ হতে পারে...

মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানান

সবার আগে মন্তব্য করুন!

জানান আমাকে যখন আসবে -
avatar
wpDiscuz