ইমিউন সিস্টেমঃ একটি পারিবারিক চলচ্চিত্র – ২

গত পোস্টে লিখেছিলাম কীভাবে দুষ্টু প্যাথোজেন ভালো মানুষের অর্থাৎ ফ্যাগোসাইটের এসে ভালো এন্টিজেনে রূপ নেয়। আমি বেশ কিছু রাসায়নিক প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে গেছিলাম, যেন লিখা সহজবোধ্য হয়। এই পর্বেও জোর দিচ্ছি সহজবোধ্যতার দিকে।

সেবার একদল পেপ্টাইড ভালোর দলে নাম লিখিয়ে শরীরে সুখে শান্তিতে বাস করা কালে দুষ্টু প্যাথোজেন আবার নতুন রূপে আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেয়। প্যাথোজেন আক্রমণ করে বসলেও যেহেতু এন্টিজেনেরা আগে তার দলেরই ছিলো, তাই খুব দ্রুত প্যাথোজেনের উপস্থিতি টের পেয়ে যায় এবং বড় ভাইকে জানান দেয়। আমাদের চলচ্চিত্রে বড় ভাই চরিত্র কার মনে আছে তো? ঠিক, ফ্যাগোসাইটিস!

সবকিছু চমৎকারভাবেই ঘটতে থাকে কিন্তু বাপেরও বাপ যেমন থাকে, সেরকম ছদ্মবেশী আততায়ী এইচআইভি ঘটায় বিপত্তি। আমাদের ইম্যুউন সিস্টেমের গোবেচারা পুলিশ প্রবীর মিত্র হলো হেল্পার টি-সেল। বড় ভাই সন্ত্রাসীদের নাম এই হেল্পার টি-সেলকে দিতো। টি-সেল সেটা ছড়িয়ে দিতো সবার মাঝে, যেন আক্রমণকারী পরিচয় লুকিয়ে অনুপ্রবেশ করতে না পারে। (এখানেই বেশ কিছু ধাপ ঘটে যা বাদ দেয়া হলো।)

আততায়ী এইচআইভি লুকিয়ে অন্য সবার অলক্ষ্যে এই প্রবীর মিত্রের পিছন থেকে ছুরি বসায়। এখন থেকে আমরা একটু হলিউডি কায়দায় প্রবেশ করবো। এইচআইভি শুধু হেল্পার টি-সেলকে মেরেই ফেলে না, বরং এর ভিতরেই আত্মপরিচয় লুকিয়ে থেকে যায়। হেল্পার টি-সেল তখন প্রকৃত পক্ষে জোম্বির মত। গোবেচারা হেল্পার টি-সেল যে মারা গেছে সেই খবর ইমিউন সিস্টেমের অন্য সবাই জানতেই পারলো না!

এদিকে প্যাথোজেনও মহা লুইচ্চা। রবার্ট ব্রুস টাইপের ধৈর্য তার। এবার সে যখন আবার নতুন রূপে আক্রমণ করলো। তখন এন্টিজেনগুলো তাকে চিনতে পারলো না। এই দিকে পুলিশ প্রধান নিজেই তো মরে ভূত! প্যাথোজেন মহাসুখে বসত করা শুরু নায়িকা শাবানার বাসায় বা ফুসফুসে। জনদরদী শাবানা আপা অসুস্থ বোধ করেন, বড় ভাই আসে তাকে দেখতে কিন্তু সমস্যা কোথায় বুঝে না।

হলিউড মুভিতে সিআইএ না থাকলে যেমন হয় না, তেমনি এখন আমাদের চলচ্চিত্রে সিআইএ আসতে যাচ্ছে। ভূত হয়ে যাওয়া হেল্পার টি-সেলের মেলায় হারিয়ে যাওয়া ভাই সাইটোটক্সিক টি-সেল আসে ঘটনার তদন্ত করতে। যখন সে ফুসফুসের বাড়ি যায়, দেখতে পায় একজন আগন্তুক-প্যাথোজেন!

সাইটোটক্সিকটি সেল ভুল বুঝে শাবানাকে, একজন সন্ত্রাসীকে আশ্রয় দেয়ার অপরাধে লঘু পাপে গুরু শাস্তি দেয়া হয়। মৃত্যুদণ্ড! এপোস্টসিস প্রক্রিয়ায় শাবানা আত্মহত্যা করে। বিনা অপরাধে তার মৃত্যুর সাথে সাথে অভিশপ্ত গোটা ইম্যুউন সিস্টেমও ধ্বংস হয়ে যায়!

Comments

আপনার আরো পছন্দ হতে পারে...

মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানান

সবার আগে মন্তব্য করুন!

জানান আমাকে যখন আসবে -
avatar
wpDiscuz